West Bengal Election Result : IPAC কোথায়? প্রার্থী বাছার মাপকাঠি কী ছিল? বিস্ফোরক তৃণমূলের প্রাক্তন বিধায়ক সৌরভ
সৌরভ চক্রবর্তীর গলাতেও শোনা গেছে ক্ষোভের সুর ! তার নিশানায় তৃণমূলের ভোটকুশলী সংস্থা আইপ্যাক !

কলকাতা : ১৫ বছর ধরে ক্ষমতায়! বিধানসভায় জয়, লোকসভায় জয়, পুরসভায় জয়, পঞ্চায়েতে জয়! চারদিকে তৃণমূল আর তৃণমূল! কখনও জোর করে জয়ের অভিযোগ, কখনও মানুষের ভোটদানের অধিকার খর্ব করে জয় আদায়ের অভিযোগ, কখনও বিরোধীদের ভাঙিয়ে তাদের সাইনবোর্ড করে দেওয়ার চেষ্টা! শেষ অবধি ২০২৬-এ এসে শুধু হার নয়! কার্যত ধুয়ে মুছে যাওয়া! আর এই ভয়ঙ্কর পরাজয়ের পর তৃণমূলের অন্দরেই একে একে উঠছে ক্ষোভের সুর-সমালোচনার সুর!
এমনিতেই উত্তরবঙ্গ বিজেপির গড় বলে পরিচিত। এবার উত্তরের আলিপুরদুয়ারে ৫টি আসনের মধ্যে ৫টিতেই জয়ী হয়েছে বিজেপি। একসময় এই জেলারই দলের সভাপতির দায়িত্ব সামলেছেন সৌরভ চক্রবর্তী। ছিলেন আলিপুরদুয়ার বিধানসভা কেন্দ্রের বিধায়কও। এছাড়া তাঁকে শিলিগুড়ি-জলপাইগুড়ি উন্নয়ন পর্ষদের সভাপতিও করেছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই সৌরভ চক্রবর্তীর গলাতেও শোনা গেছে ক্ষোভের সুর ! তার নিশানায় তৃণমূলের ভোটকুশলী সংস্থা আইপ্যাক !
প্রার্থী বাছাই থেকে সংগঠন, তৃণমূলের ভরাডুবির পর ক্ষোভ উগরে দিলেন সৌরভ চক্রবর্তী। বিধানসভা নির্বাচনে ভরাডুবির পর তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে অসন্তোষ ক্রমেই প্রকাশ্যে আসছে। এবার সরাসরি দলের সংগঠন, প্রার্থী নির্বাচন এবং কৌশলগত সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন তুললেন আলিপুরদুয়ারের প্রাক্তন জেলা সভাপতি সৌরভ চক্রবর্তী। তিনি প্রশ্ন তোলেন, বুথ স্তর থেকে পঞ্চায়েত, কাউন্সিলর—কারা কীভাবে নির্বাচিত বা মনোনীত হলেন, সেই প্রক্রিয়া নিয়েই স্পষ্টতা নেই। তার কথায়, “যাদের আমরা সংগঠনে আনছি, তারা কতদিন রাজনীতিতে আছে, কেন শাসক দলে আসছে—এই মৌলিক প্রশ্নগুলোর উত্তরই স্পষ্ট নয়।” দলের স্ট্র্যাটেজিস্ট Indian Political Action Committee (I-PAC)-এর ভূমিকাও কাঠগড়ায় তুলেছেন তিনি। সৌরভ প্রশ্ন তুলেছেন, যখন বিভিন্ন জায়গায় পার্টি অফিসে হামলা বা ভাঙচুরের ঘটনা ঘটছে, তখন আইপ্যাক কোথায়? প্রার্থী নির্বাচনের ক্ষেত্রে আইপ্যাকের মাপকাঠি কী ছিল—তা নিয়েও অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন।
সৌরভ চক্রবর্তীর অভিযোগ, দলের অভিজ্ঞ ও গ্রহণযোগ্য নেতাদের পাশে সরিয়ে দিয়ে অন্যদের প্রাধান্য দেওয়ায় বড় ক্ষতি হয়েছে। তিনি বলেন, “ভাল লোকগুলোকে সাইডলাইন করে দিয়ে, যারা দলের ক্রিম, তাদেরকে বসিয়ে দিয়ে এইভাবে বড় ক্ষতি হয়ে গেল। রাজ্যেরও ক্ষতি হয়ে গেল। এজেন্সি বসাচ্ছে দায়িত্ব নিয়ে। কিছু প্রশাসনের লোক দালালি করে অনেক ক্ষতি করে দিয়েছে। যারা ভুল রিপোর্ট দিয়েছে বারবার।” শুধু সংগঠন নয়, প্রশাসনিক স্তর নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন তিনি। তাঁর অভিযোগ, কিছু প্রশাসনিক ব্যক্তি দায়িত্ব নিয়ে কাজ না করে উল্টে ক্ষতি করেছেন এবং ভুল রিপোর্ট দিয়ে নেতৃত্বকে বিভ্রান্ত করেছেন। সৌরভ বলেন, 'যারা বুথ লেভেলে বা ধরুন পঞ্চায়েত যাদের করা হয়েছে, যাদের কাউন্সিলর করা হয়েছে, তারা কারা? কীভাবে হল? কীভাবে অঞ্চল গঠিত হল? কীভাবে ব্লক গঠিত হল? আমরাই জানি না'




















