West Bengal Election 2026: 'আমি চাই বিজেপি সরকারে আসুক, ন্যায্যভাবে এই জোরজবরদস্তি করে নয়', কেন এই মন্তব্য বায়রনের?
Assembly Election 2026: স্ট্রং রুমে কারচুপির আশঙ্কায় চাঞ্চল্যকর মন্তব্য বায়রন বিশ্বাসের

রাজীব চৌধুরী, মুর্শিদাবাদ: ছাব্বিশের নির্বাচনে বিপুল মার্জিনে জয়ের বিষয়ে আশাবাদী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কিন্তু তাঁরই দলের প্রার্থীর মুখে শোনা গেল একেবারে উল্টো সুর? নির্বাচন কমিশনের প্রতি উষ্মা প্রকাশ করে সাগরদিঘির তৃণমূল প্রার্থী বায়রন বিশ্বাস বলেন, ভোট আর দরকার নেই বাংলায়। ভোট আর চলবে না। বাংলায় আর ভোট চলবে না। আমি আমার বিধানসভায় হারছি। সূত্রপাত জঙ্গিপুর পলিটেকনিক কলেজে স্ট্রং রুমের সিসিটিভি বন্ধের অভিযোগ ঘিরে। আর তারপর, প্রতিপক্ষকে নিশানা করে তৃণমূল প্রার্থী বায়রন বিশ্বাস যা বললেন, তা নিয়েই রাজ্য রাজনীতিতে শুরু হল তোলপাড়। নিজের বক্তব্যের ব্য়াখ্যা অবশ্য নিজেই দিয়েছেন বায়রন।
বায়রন বিশ্বাস বলেন, 'ভোট আর দরকার নেই বাংলায়। ভোট আর চলবে না। বাংলায় আর ভোট চলবে না। আমি আমার বিধানসভা হারছি। জঙ্গিপুর জাকির সাহেব হারছে। সামশেরগঞ্জ নুর আলম হারছে। ফরাক্কা আমাদের আমিরুল হারছে। রাজ্যের খবর আমি বলতে পারব না। রাজ্য়ের খবর আমাদের ক্যামাক স্ট্রিট জানে। সেন্ট্রাল ফোর্স তো ভাল করে জানে। নমস্কার দাদা নমস্কার, ভুল হলে ক্ষমা করবেন, ক্ষমা করবেন, ক্ষমা করবেন'। চাঞ্চল্যকর এই মন্তব্যের প্রেক্ষাপট সম্পর্কে নিজেই আবার ব্যাখ্যাও দেন বায়রন।
নির্বাচন পরিচালনা নিয়ে চূড়ান্ত অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন তিনি। বায়রনের কথায়, 'আমি চাই বিজেপি জিতুক, বিজেপি সরকারে আসুক। আমি চাই কংগ্রেস জিতুক, কংগ্রেস সরকারে আসুক। আমি চাই সিপিএম জিতুক, সিপিএম সরকারে আসুক। আমি চাই ISF জিতুক, সরকারে আসুক। কিন্তু ন্যায্যভাবে। টিএমসিকে থাকার কোনও প্রয়োজন নেই। দিদি চায় না ওরকম জোর জবরদস্তি করে। অভিষেকদা চায় না ওরকম জোর জবরদস্তি করে'।
এই নিয়ে কটাক্ষ করে বিজেপির আইটি সেলের প্রধান অমিত মালব্য সোশাল মিডিয়ায় পোস্ট করেছেন, 'এক যুগান্তকারী স্বীকারোক্তিতে নির্বাচনের প্রথম দফায় দল বড়জোর ১৫-১৬টি আসন জিততে পারবে বলে তৃণমূল নেতা অনুব্রত মণ্ডল বলার পর, সাগরদিঘির তৃণমূল প্রার্থী বায়রন বিশ্বাস ঘোষণা করলেন তিনি হারবেন। বর্তমান বিধায়ক-সহ, তিনি টিএমসির সেইসব প্রার্থীদের নামও তালিকাভুক্ত করেছেন, যাঁদের হেরে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে'। তিনি আরও বলেন যে, কেন্দ্রীয় বাহিনী নির্বাচন অত্যন্ত ভালভাবে পরিচালনা করেছে, যার ফলে তৃণমূলের জেতার সম্ভাবনা খুব কম এবং এও বলেছেন যে, রাজ্যজুড়ে সামগ্রিকভাবে তৃণমূল কেমন ফল করবে সে সম্পর্কে তাঁর কোনও ধারণা নেই'।
বহরমপুরের কংগ্রেস প্রার্থী অধীর চৌধুরী বলেন, 'বায়রন কখন কী বলে, বায়রনই জানে। বায়রনকে সাগরদিঘিতে বাই বাই করবে মানুষ, এটা বুঝতে পেরেছে। ছেলেটাতো ভাল ছেলে ছিল আগে। আমরাও খুব স্নেহ করতাম। আজও করি। কিন্তু কোথায় যে কী হল ছেলেটার, পাগলামি বুঝলাম না। দিব্যি কংগ্রেসের এমএলএ ছিল।ওই খোকাবাবুর পাল্লায় পড়ে, কী বোঝাল না বোঝাল, তোকে সিকিওরিটি দেওয়া হবে, তোকে পুলিশ দেওয়া হবে, তোকে অনেক বড় কিছু করা হবে। চলে গেল। দুর্ভাগ্য এটা আমাদের'।
বায়রনের ভোটের ফল নিয়ে এই আশঙ্কা কি মিলে যাবে? জানা যাবে চৌঠা মে।
সেরা শিরোনাম





















