Rachana Banerjee: বন্ধ হয়ে যাবে লক্ষ্মীর ভাণ্ডার? প্রচার সভা থেকে কীসের হুঁশিয়ারি রচনার?
WB Assembly Election 2026: এদিন কেন্দ্রাতে প্রচার সভায় রচনাকে দেখতে বেশ ভিড় জমিয়ছিলেন স্থানীয় মানুষরা। টলি অভিনেত্রী বেশ ঝাঁঝালো কণ্ঠেই মঞ্চে বলতে শুরু করেন।

মনোজ বন্দ্যোপাধ্যায়, পশ্চিম বর্ধমান: প্রচারে বেরিয়ে বারবার তৃণমূল সরকারের যাবতীয় প্রকল্পগুলোকেই এবার হাতিয়ার করছেন সব প্রার্থীরা। এমনকী প্রার্থীদের হয়ে যে যে হাইভোল্টেজ ব্যক্তিত্ব প্রচারে আসছেন, তাঁদের মুখেও কখনও লক্ষ্মীর ভাণ্ডার তো কখনও স্বাস্থ্যসাথী তো কখনও বেকার ভাতা প্রসঙ্গ। এবার পাণ্ডবেশ্বর এর কেন্দ্রাতে পাণ্ডবেশ্বর বিধানসভার তৃণমূল প্রার্থী নরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তীর হয়ে প্রচারে এসে লক্ষ্মীর ভাণ্ডার নিয়ে মুখ খুললেন রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়। হুগলি লোকসভা কেন্দ্রের সাংসদ প্রচারে এসে বলে দিলেন যে যদি বিজেপি ক্ষমতায় আসে, তাহলে পুরোপুরি লক্ষ্মীর ভাণ্ডার বন্ধ হয়ে যাবে।
এদিন কেন্দ্রাতে প্রচার সভায় রচনাকে দেখতে বেশ ভিড় জমিয়ছিলেন স্থানীয় মানুষরা। টলি অভিনেত্রী বেশ ঝাঁঝালো কণ্ঠেই মঞ্চে বলতে শুরু করেন, ''দিদি জেতার পর সব মহিলাদের অ্য়াকাউন্টে পৌঁছল ৫০০ টাকা। পরে সেটি হল হাজার টাকা করে। আর আজ পাঁচ বছরের মধ্যে প্রত্যেক মহিলা পাচ্ছেন দেড় হাজার টাকা করে। আর তপসীলী মহিলাদের অ্য়াকাউন্টে পৌঁছে যাচ্ছে ১৭০০ টাকা করে। দিদি যে কথা দেন, সেই কথা রাখেন। দিদি ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্য়ায় প্রত্যেক সভায় বলেছেন যে যতদিন তৃণমূল সরকার থাকবে, ততদিন পর্যন্ত সব প্রকল্পের সুবিধে পাবেন সবাই। লক্ষ্মীর ভাণ্ডারও পাবেন না যদি তৃণমূল সরকার না থাকে।"
মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে ফের যেন মমতা বন্দ্যোপাধ্য়ায়কেই সবাই সমর্থন করেন, সেই বার্তা দিয়ে রচনা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ''দিদি ছিলেন, দিদি আছেন, দিদি থাকবেন। দিদিকে আবার আমরা মুখ্যমন্ত্রী রূপে ২০২৬ সালে পাব। দিদি আবার আগামী বছর নবান্নতে যাবেন। মুখ্যমন্ত্রীর হাত-পা কোমর ভাঙ্গা তাও সারা রাজ্য জুড়ে কাজ করে চলেছেন। SIR নিয়ে লড়াই করার জন্য রাস্তায় নেমেছেন। সুপ্রিম কোর্টে পৌঁছে গিয়েছেন শুধুমাত্র বাংলার মানুষের পাশে দাঁড়ানোর জন্য। নজিরবিহীন দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। আমাদের ওপর বিগত পাঁচ মাস ধরে অত্যাচার চলছে আমাদের ওপর। কত লক্ষ ভোটারের নাম তবুও বাদ গিয়েছেন। লড়াই করছেন তবুও আমাদের দিদি। আমরা যাঁরা তৃণমূল কংগ্রেসের কর্মী, দিদির কথা আমরা মনে করিয়ে দিই আপনাকে। কোনও ধর্মীয় উস্কানিতে পা দেবেন না। আমাদের তো ১২ মাসে ১৩ পার্বন। আমাদের কিছু ভাবতে হয় না। আমরা পয়লা বৈশাখ থেকে গণেশ পুজো, জন্মাষ্টমী, দুর্গাপুজো, কালীপুজো, একাধিক পুজো করি। আমরা তো হিন্দু, মুসলমান কিছু নিয়ে তো বিভেদ করি না। আমরা পশ্চিমবঙ্গের মানুষ, এটাই আমাদের পরিচয়। তা নিয়েই আমরা লড়াই করে যাচ্ছি দেশে।''
রচনা আরও বলেন, ''হিন্দু, মুসলিম, বৌদ্ধ, খ্রীষ্টান সব সম্প্রদায়ের মানুষকে দিদি আগলে রেখেছেন। সন্তানকে স্কুলে পাঠানো থেকে সন্তানসম্ভবা মহিলার পাশে থেকেছেন। কৃষকের ফসল নষ্ট হয়ে গিয়েছে, তবুও লোন দিয়েছেন। শিক্ষিতদের পড়াশুনোর জন্য স্কলার দিয়েছেন, মহিলাদের আত্মনির্ভর করেছেন। মধ্যবিত্ত ও গরীবদের পাঁচ লক্ষ টাকার স্বাস্থ্যবিমা করিয়ে দিয়েছেন। মেয়েদের স্কুলে যাওয়ার সাইকেল দিয়েছেন। মাধ্যমিকের পর ট্যাব দিয়েছেন। দিদি ১০০ রকমের প্রকল্প শুরু করেছেন। আপনাদের জন্য, আপনারা যাঁদের ভাল থাকেন, সেটিই চেষ্টা করছেন দিদি। দিদি আমাদের সূর্য, যাঁর আলোয় আলোকিত আমরা, আমাদের বাংলা। যদি বিরোধীপক্ষ ভুলেও নীচে নামাতে চায়, তার হাত জ্বলেপুড়ে ছাড়খাড় হয়ে যাবে। যে মানুষটা হাত-পা কোমর ভাঙ্গা নিয়েও রাতজেগে বাংলার জন্য় চিন্তা করেন, তাঁর প্রতি আমরা সম্মান জানিয়ে ২০২৬-এ জোড়াফুলে ভোট দিয়ে জয়ী করব।''





















