Paschim Bardhaman Election Result 2026: পশ্চিম বর্ধমানের ৯ কেন্দ্রেই এগিয়ে বিজেপি, পিছিয়ে তৃণমূল
Paschim Bardhaman All constituencies Results 2026: পশ্চিম বর্ধমানের ৯ বিধানসভা কেন্দ্রের কোথায় কে এগিয়ে জানুন।

দুর্গাপুর: নির্বাচনে ভোটদানের হিড়িক চোখে পড়েছিল। তীব্র দাবদাহ মাথায় নিয়েই ছেলে থেকে বুড়ো লাইনে দাঁড়িয়েছিলেন। পশ্চিম বর্ধমানে কি তাহলে বড় কোনও চমক অপেক্ষা করছে? পরিবর্তন না প্রত্যাবর্তন, কার পক্ষে রায় দিয়েছেন মানুষজন। আর কিছু ক্ষণের মধ্যেই পরিষ্কার হয়ে যাবে সব কিছু। সেখানে মূল লড়াই তৃণমূল এবং বিজেপি-র মধ্যে। জোর চেষ্টা চালিয়েছে সিপিএম এবং বিজেপি-ও। আর কিছু ক্ষণের মধ্যেই ছবিটা স্পষ্ট হয়ে যাবে। (Paschim Bardhaman All constituencies Results 2026)
| পশ্চিম বর্ধমান বিধানসভা কেন্দ্র | এগিয়ে | পিছিয়ে |
| পাণ্ডবেশ্বর | জিতেন্দ্র তিওয়ারি (বিজেপি) | নরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী (তৃণমূল) |
| দুর্গাপুর পূর্ব | চন্দ্রশেখর বন্দ্যোপাধ্যায় (বিজেপ) (বিজয়ী) | প্রদীপ মজুমদার (তৃণমূল) (পরাজিত) |
| রানিগঞ্জ | পার্থ ঘোষ (বিজেপি) (বিজয়ী) | কালোবরণ মণ্ডল (তৃণমূল) (পরাজিত) |
| জামুড়িয়া | বিজন মুখোপাধ্য়ায় (বিজেপি) (বিজয়ী) | হরেরাম সিংহ (তৃণমূল) (পরাজিত) |
| আসানসোল উত্তর | কৃষ্ণেন্দু মুখোপাধ্যায় (বিজেপি) (জয়ী) | মলয় ঘটক (তৃণমূল) (পরাজিত) |
| বারাবনি | অরিজিৎ রায় (বিজেপি) (বিজয়ী) | বিধান উপাধ্যায় (তৃণমূল) (পরাজিত) |
| দুর্গাপুর পশ্চিম | লক্ষ্মণচন্দ্র ঘড়ুই (বিজেপি) | কবিতা দত্ত (তৃণমূল) |
| আসানসোল দক্ষিণ | অগ্নিমিত্রা পাল (বিজেপি) | তাপস বন্দ্য়োপাধ্যায় (তৃণমূল) |
| কুলটি | অজয় কুমার পোদ্দার (বিজেপি) (বিজয়ী) | অভিজিৎ ঘটক (তৃণমূল) (পরাজিত) |
পশ্চিম বর্ধমানের ৯টি আসনের মধ্যে ৬টিই তৃণমূলের দখলে। ২০২৪ সালের বিধানসভা নির্বাচনে পাণ্ডবেশ্বর, দুর্গাপুর পূর্ব, রানিগঞ্জ, জামুড়িয়া, আসানসোল উত্তর, বারাবনি-এই ছয়টি আসনেই জয়ী হয় তৃণমূল। বিজেপি জয়ী হয় দুর্গাপুর পশ্চিম, আসানসোল দক্ষিণ এবং কুলটি-এই তিন আসনে। ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে আবার আসানসোল পুলিশ কমিশনারেট এবং বর্ধমান-দুর্গাপুর পুলিশ কমিশনারেট, দু'টি আসনই তৃণমূলের দখলে যায়। এবারের নির্বাচনে অস্তিত্ব রক্ষার লড়াইয়ে শামিল তারা। (Paschim Bardhaman Election Result 2026)
এবারে রেকর্ড ভোট পড়ে পশ্চিম বর্ধমানে, ৯৩.৮৩ শতাংশ। ২০২৪ সালের বিধানসবা নির্বাচনে তুলনায় প্রায় ৮ শতাংশ বেশি। এই বিপুল হারে ভোটদানই কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে অনেকের। মুখে যদিও জয় নিয়ে আত্মবিশ্বাসী, তৃণমূল, বিজেপি দুই দলই। কিন্তু ভোটার তালিকায় নিবিড় সংশোধন বা SIR সহ হিসেব ঘেঁটে দিয়েছে। মানুষ কী ভাবছেন, তা নিয়ে কাটাছেঁড়া চলছে শেষ মুহূর্তেও।
গত লোকসভা ভোটের তুলনায় ১০.৮৩% এবং শেষ বিধানসভা নির্বাচনের থেকে ৭.৬৮% বেশি ভোট পড়েছে বুধবার। জেলায় শেষ পর্যন্ত ভোটের হার দাঁড়িয়েছে ৯৩.৮৩ শতাংশ। ভোটের বিপুল হার নিয়ে চর্চা চলছে জেলার সর্বত্র। অঙ্ক কষছে রাজনৈতিক দলগুলিও।
নির্বাচন কমিশনের হিসেব বলছে, গলসি, জামালপুর, বর্ধমান উত্তর, মেমারি, ভাতার, রায়না, পূর্বস্থলী দক্ষিণ কেন্দ্রে এবার ৯৪ শতাংশের বেশি ভোট পড়েছে। গত ১০ এপ্রিল পূর্বস্থলীতে সভা করেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। মানুষের মধ্যে অভূতপূর্ব সাড়া পেয়ে অভিভূত হয়ে যান তিনিও। তাই পশ্চিম বর্ধমানে 'মোদি ম্যাজিকে' আস্থা রাখছে গেরুয়া শিবির।
যদিও তৃণমূলের দাবি, সরকারের জনকল্যাণমূলক প্রকল্পে যাঁরা লাভবান, সেই সমস্ত দরিদ্র, নিম্নবিত্ত, পরিযায়ী শ্রমিকরা জোড়াফুলকেই বেছে নেবেন। SIR নিয়ে যে হয়রানি হয়েছে, তাতেও মানুষ বেশি করে বুথমুখী হয়েছেন এবং তাঁদের মধ্যে উদ্বেগও কাজ করছে বলে মনে করছেন অনেকে। যদিও পরিযায়ী শ্রমিক যাঁরা ভোট দিতে বাড়ি ফেরেন, তাঁদের অধিকাংশকে বাড়ি ফেরার ব্যবস্থা করে দেয় বিজেপি। তৃণমূলের দুর্নীতি, অপশাসনেও মানুষ তিতিবিরক্ত বলে মনে করছে গেরুয়া শিবির। তবে শেষ পর্যন্ত মানুষই শেষ কথা বলবেন। আর কিছু ক্ষণের মধ্যেই ছবি পরিষ্কার হয়ে যাবে।
সেরা শিরোনাম





















