Joy Banerjee: '১০ বছর যোগাযোগ ছিল না, কিন্তু অসুস্থতার খবর পেয়ে...', জয় বন্দ্যোপাধ্যায়কে শেষ বিদায় জানাতে এসে চোখ ভিজল প্রাক্তন স্ত্রী অনন্যার
Ananya Banerjee on Joy Banerjee: জয় বন্দ্যোপাধ্য়াকে শেষ বিদায় জানাতে এসে অনন্যা বলেন, 'আমরা সবাই শোকস্তদ্ধ। এর থেকে বেশি আর কিই বা বলতে পারি!'

কলকাতা: বিচ্ছেদের পরে যোগাযোগ ছিল না আর.. তবে অসুস্থতার খবর পেয়ে ফের যোগাযোগ করেছিলেন। দেখতেও এসেছিলেন। পরিবারের পাশে দাঁড়িয়ে চেষ্টা করেছিলেন বর্ষীয়ান অভিনেতাকে ফের ফিরিয়ে আনার। তবে পারলেন না, শেষরক্ষা হল না। প্রয়াত হলেন অভিনেতা জয় বন্দ্যোপাধ্যায় (Joy Banerjee)। আর তাঁর মৃত্যুর খবর পেয়েই, তাঁকে শেষ বিদায় জানাতে ছুটে গেলেন অভিনেতার প্রাক্তন স্ত্রী অনন্যা বন্দ্যোপাধ্যায়।
জয় বন্দ্যোপাধ্য়াকে শেষ বিদায় জানাতে এসে অনন্যা বলেন, 'আমরা সবাই শোকস্তদ্ধ। এর থেকে বেশি আর কিই বা বলতে পারি! প্রত্যেকবার জয় যেভাবে লড়াই করে ফিরে এসেছে, আমরা ভেবেছিলাম এবারেও ফিরে আসবে। কিন্তু তা আর হল না। ওর পরিবার বহু চেষ্টা করেছেন ওঁকে ফিরিয়ে আনার। আমার সঙ্গে মাঝের বছর ১০ কোনও যোগাযোগ ছিল না। অসুস্থতার খবর পেয়ে আমিই আবার যোগাযোগ করি। খোঁজ রাখতাম। এসে দেখাও করে গিয়েছিলাম। জয়ের অসুস্থতার খবর পেয়ে ওর বোন ইউএসএ থেকে চলে এসেছে। সকলেই শোকস্তব্ধ।' জয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের পরিবারের তরফে জানানো হয়, টলিউডের অনেকেই ফোন করে জয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রয়াণে শোকপ্রকাশ করেছেন। প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায় থেকে শুরু করে দেবশ্রী রায়, চিরঞ্জিৎ চক্রবর্তী.. প্রত্যেকেই যোগাযোগ করেছেন পরিবারের তরফে। খোঁজ নিয়েছেন।
জয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের স্মৃতিচারণা করতে গিয়ে এবিপি লাইভের কাছে একটি ঘটনার কথা তুলে ধরেন দেবশ্রী রায়। দেবশ্রী বলছেন, 'জয়ের কথা বললেই আজ খুব মনে পড়ছে সিকিমে আমাদের শ্যুটিংয়ের কথা। কেবল জয় নয়, জয়ের গোটা পরিবার ছিল আমার ভীষণ ঘনিষ্ঠ। প্রথম ছবির শ্যুটিং করতে আমরা সবাই গিয়েছিলাম শ্যুটিংয়ে। আমার মা, দিদি, জয়ের পরিবার.. সবাই। শ্যুটিং যখন শেষ হয়ে এসেছে, সবাই মিলে পরিকল্পনা হল, নদীর ওপারে যাব। কাছেই একটা ছোট নদী ঝিরঝির করে বয়ে যাচ্ছে। শুনলাম তার ওপারে নাকি একটা দারুণ জায়গা রয়েছে। তখন বয়স অল্প.. সব ছোটরা মিলে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হল। কিন্তু বড়দের বললে তো যেতে দেবেন না কেউ। অগত্যা পলায়ন। নদীর ওপারে গিয়ে যখন পৌঁছলাম, ঝুপসি অন্ধকার নেমে এসেছে। বুঝতে পারলাম, নেপাল বর্ডারে চলে এসেছি আমরা। সঙ্গে বড় কেউ নেই। সবাই আমাদের দিকে কীভাবে তাকাচ্ছে। জয়ের বোন রুমি, আমাদের মধ্যে একটু ডাকাবুকো। আমি ওর হাত ধরে দাঁড়িয়ে ঠকঠক করে কাঁপছি। শেষে অনেক কষ্টে একটা জিপ ম্যানেজ করে ক্যাম্পে ফিরলাম সবাই। তারপরে বড়দের থেকে সে কি বকুনি... আজ সেই দিনটা ভীষণ মনে পড়ছে।'






















