Debashree Roy on Joy Banerjee: আমি জয়ের প্রথম ছবির নায়িকা, ওর মরদেহ দেখতে যেতে পারব না: দেবশ্রী রায়
Debashree Roy on Joy Banerjee: মাঝে জয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে যোগাযোগ ছিন্ন হয়ে গিয়েছিল দেবশ্রীর, তবে যোগাযোগ ছিল জয়ের পরিবারের, বিশেষ করে বোনের সঙ্গে

কলকাতা: তিনি অভিনেতাকে একেবারে শূন্য থেকে শুরু করতে দেখেছেন। প্রথম ছবির নায়িকা ও ছিলেন তিনি। তখন ইন্ডাস্ট্রিতে এত জটিলতা ছিল না। কাজ হত খুব মজা করে। সেই সব সময় আর সেই। আর আজ, চলে গেলেন মানুষটাও। প্রয়াত অভিনেতা জয় বন্দ্যোপাধ্যায়। একটা সময়ে তিনি যোগ দিয়েছিলেন রাজনীতে। তবে ৪ বছর আগেই রাজনীতি ছেড়ে দেন তিনি। তবে রাজনীতির ও আগে, জয় বন্দ্যোপাধ্যায়কে অভিনেতা হিসেবে গড়ে উঠতে দেখেছেন যিনি, তিনি দেবশ্রী রায় (Debosree Roy)। জয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রথম ছবির নায়িকা। অভিনেতার প্রয়াণের দিনে, এবিপি লাইভের (ABP Live) ফোন ধরে, কাঁপা গলায় প্রয়াত অভিনেতার স্মৃতি হাতড়ালেন দেবশ্রী।
জয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রথম ছবি। নায়িকা দেবশ্রী। তখনও তারকা হয়ে ওঠেননি জয়। দেবশ্রী বলছেন, 'জয়ের কথা বললেই আজ খুব মনে পড়ছে সিকিমে আমাদের শ্যুটিংয়ের কথা। কেবল জয় নয়, জয়ের গোটা পরিবার ছিল আমার ভীষণ ঘনিষ্ঠ। প্রথম ছবির শ্যুটিং করতে আমরা সবাই গিয়েছিলাম শ্যুটিংয়ে। আমার মা, দিদি, জয়ের পরিবার.. সবাই। শ্যুটিং যখন শেষ হয়ে এসেছে, সবাই মিলে পরিকল্পনা হল, নদীর ওপারে যাব। কাছেই একটা ছোট নদী ঝিরঝির করে বয়ে যাচ্ছে। শুনলাম তার ওপারে নাকি একটা দারুণ জায়গা রয়েছে। তখন বয়স অল্প.. সব ছোটরা মিলে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হল। কিন্তু বড়দের বললে তো যেতে দেবেন না কেউ। অগত্যা পলায়ন। নদীর ওপারে গিয়ে যখন পৌঁছলাম, ঝুপসি অন্ধকার নেমে এসেছে। বুঝতে পারলাম, নেপাল বর্ডারে চলে এসেছি আমরা। সঙ্গে বড় কেউ নেই। সবাই আমাদের দিকে কীভাবে তাকাচ্ছে। জয়ের বোন রুমি, আমাদের মধ্যে একটু ডাকাবুকো। আমি ওর হাত ধরে দাঁড়িয়ে ঠকঠক করে কাঁপছি। শেষে অনেক কষ্টে একটা জিপ ম্যানেজ করে ক্যাম্পে ফিরলাম সবাই। তারপরে বড়দের থেকে সে কি বকুনি... আজ সেই দিনটা ভীষণ মনে পড়ছে।'
মাঝে জয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে যোগাযোগ ছিন্ন হয়ে গিয়েছিল দেবশ্রীর, তবে যোগাযোগ ছিল জয়ের পরিবারের, বিশেষ করে বোনের সঙ্গে। জয়ের বোন রুমিই প্রথম দেবশ্রী রায়কে তাঁর দাদার অসুস্থতার খবর জানান। দেবশ্রী বলছেন, 'আমি এত মৃত্যুমিছিল দেখেছি, আর যেন সহ্য করতে পারছি না। আমার বাবা, দিদি.. সবাই চলে গেলেন। আজই আমার এক দিদির বাৎসরিক ছিল। তারপরে জয়ের মৃত্যুর খবর পেলাম। পরশুই জয়ের বাড়ি গিয়ে মাসিমার সঙ্গে দেখা করে এসেছিলাম। আজ রুমি বলল, 'দাদাভাইকে গুডবাই করতে আসবে না?' কিন্তু আমি আর যেতে পারিনি। যে মানুষটার সঙ্গে এত কথা বলেছি, এত গল্প করেছি, এত মজা করেছি... সেই মানুষটা নিথর শুয়ে রয়েছে.. এই দৃশ্য আমি মেনে নিতে পারি না। বাবা, দিদি কারোর মৃতদেহ আমি দেখিনি।'
একটু থেকে দেবশ্রী ফের বললেন, 'তখন তো ইন্ডাস্ট্রির পরিবেশ অন্যরকম ছিল। আমরা সবাই একসঙ্গে মজা করছি, একজন আরেক জনকে খাইয়ে দিচ্ছি, গায়ে জল ঢেলে দিচ্ছি.. আরও কত কি। স্মৃতিগুলোই পড়ে থাকছে শুধু। মানুষগুলো চলে যাচ্ছে আস্তে আস্তে। ইদানিং জয় খুব ফোন করত আমায়...'
ফের গলা ধরে এল দেবশ্রী রায়ের।






















