Shiboprosad Mukherjee: অফিসে বাবা-মাকে নিয়ে আসার ভাবনা কাল্পনিক নয়, কিন্তু এটা না ভাবতে পারা আমাদেরই ব্যর্থতা: শিবপ্রসাদ
Shiboprosad Mukherjee on Amar Boss: অনেকেই হয়তো মনে করবেন, এ অসম্ভব ব্যাপার। বাবা মাকে অফিসে রাখার ব্যবস্থা ভারতে কোথাও নেই, এভাবে ভাবেই না কোনও কোম্পানি

কলকাতা: 'নিউক্লিয়ার ফ্যামিলি' শব্দবন্ধটা বর্তমানে বহুল পরিচিত, প্রচলিত ও বটে। বাবা, মা ও ছেলে বা মেয়ে.. এই ছোট্ট পরিবারেরই পোশাকি নাম নিউক্লিয়ার ফ্যামিলি বা অণু পরিবার। কিন্তু এই ছোট ছোট পরিবারে থাকতে গিয়ে যে সমস্যাগুলি তৈরি হয়, সেগুলো নেহাৎ ছোট নয়। তেমনই একটা সমস্যার কথা বড়পর্দায় তুলে ধরেছে নন্দিতা রায় (Nandita Roy) আর শিবপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের (Shiboprosad Mukherjee) ছবি 'আমার বস'। মুখ্যভূমিকায় রয়েছেন রাখী গুলজার (Rakhi Gilzar)। মা ছেলের এক অদ্ভুত সমীকরণ তুলে ধরা হয়েছে এই ছবিতে।
এই ছবির মূল ভাবনা বাড়ির বয়স্ক মা বাবাদের নিয়ে। ছেলে বা মেয়ে বা পুত্রবধূ যখন চাকরি করে বেরিয়ে যান, সারাদিন বাড়িতে একাই সময় কাটে বাবা মায়ের। সেই সময়ে যেমন বাড়ির বয়স্ক মানুষটি সঙ্গ খোঁচে কারোর, তেমনই হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়লে তাঁর প্রয়োজন পড়তে পারে চিকিৎসকেরও। কিন্তু বাড়িতে একা থাকার দরুণ, এর কোনোটাই পান না বয়স্ক বাবা মায়েরা। এই পরিস্থিতিতে ঘটে যেতে পারে বিপদ ও, যা বাড়িতে অন্যান্য লোকজন থাকলে হয়তো আটকানো ও যেতে পারত। কিন্তু সেই বাবা মা-কেই যদি সঙ্গে করে অফিসে নিয়ে আসতে পারেন ছেলে মেয়েরা? তাঁদের অফিসেই যদি একটা বিশেষ ব্য়বস্থা থাকে বাবা মায়ের? যেখানে বয়স্করা থাকতে পারবেন নিজেদের মতো করে, কথা বলতে পারবেন সমবয়সীদের সঙ্গে, পাবেন চিকিৎসার সাহায্য ও? উপরি পাওনা হিসেবে ধরে নেওয়াই যায়, লাঞ্চ-ব্রেকে ছেলে মেয়ে আর বাবা মায়েরা খাবার খেতে পারবেন একসঙ্গে? 'আমার বস'-এ তুলি নিয়ে সেই স্বপ্নই আঁকলেন শিবপ্রসাদ।
অনেকেই হয়তো মনে করবেন, এ অসম্ভব ব্যাপার। বাবা মাকে অফিসে রাখার ব্যবস্থা ভারতে কোথাও নেই, এভাবে ভাবেই না কোনও কোম্পানি। কথাটা সঠিক। কিন্তু এই ভাবনা অবাস্তব নয় মোটেই। বিভিন্ন জায়গায় চোখ রাখলেই দেখা যাবে, বিদেশে একাধিক অফিসে এই ব্যবস্থা রয়েছে। গুগল বা লিঙ্কড ইন-এর মতো কোম্পানির কর্মচারীদের বাবা মায়েদের জন্য এই ধরনের বিশেষ ব্যবস্থা রয়েছে। চাকুরিরতা কর্মচারীদের বাবা মায়েদের শরীর স্বাস্থ্যের জন্য , তাঁদের ভাল রাখার জন্য, বিশেষ পদক্ষেপ নেয় অফিসই। অন্তত মাঝে মাঝে হলেও বাবা মাকে অফিসে নিয়ে আসা, ছেলে মেয়ের কাজের জায়গা তাঁদের ঘুরে দেখার অনুমতি রয়েছে বিদেশে। বিশেষ ব্যবস্থা রয়েছে তাঁদের স্বাস্থ্যের জন্য ও।
এই সুবিধা যদি বিদেশে থাকে, তাহলে কেন নয়? এই দাবি রেখে শিবপ্রসাদ বলছেন, 'বিদেশে সত্যিই বাবা মায়েদের জন্য এই ধরণের সুবিধা রয়েছে। আমরা, ভারতীয়রা এভাবে ভাবতে পারছি না কেন, সেটাই ভাববার। আমাদের প্রত্যেকের বাড়িতেই বয়স্ক বাবা মা রয়েছেন। আমরা একরাশ চিন্তা নিয়েই তাঁদের বাড়িতে ফেলে অফিসে চলে আসি। যদি বাবা মাকেও অফিসে নিয়ে এসে কোনও ডে কেয়ারে রাখা যেত, তাহলে কর্মচারীকে যেমন বার বার মিথ্যে কথা বলতে হত না, তেমনই দুপুরের খাবার মা বাবার সঙ্গে খাওয়ার মতো ভাল লাগাও থাকত। বাবা মায়েরা পেতেন মেডিক্যাল কেয়ার ও। আমরা এই ছবিটার মধ্যে দিয়ে সমস্ত কর্পোরেট কোম্পানিগুলোকে একটা নতুন দিক ভাবাবার চেষ্টা করেছি। একটা সিনেমা এটুকুই পারে, ভাবনা বদলাতে পারে। সেই ভাবনা থেকে কেউ যদি পদক্ষেপ নেন, সেটাই আমাদের পাওয়া।'






















