Pakistan Lockdown News : এপ্রিল থেকেই উইকএন্ড লকডাউন শুরু? পাকিস্তানে চরম পদক্ষেপ? সত্যিই?
কিছু খবরে দাবি করা হয়, জ্বালানি সঙ্কট মোকাবিলার জন্য পাকিস্তান সরকার নাকি আগামী এপ্রিল মাস থেকে প্রতি শনিবার ও রবিবার দেশব্যাপী লকডাউন ঘোষণা করেছে।

পশ্চিম এশিয়ার ক্রমেই ঘোরতর হচ্ছে যুদ্ধ পরিস্থিতি। ইরানের উপর হামলা-পাল্টা হামলা ও হরমুজ প্রণালী দিয়ে জ্বালানিবাহী-জাহাজের চলাচলে নিয়ন্ত্রণের ফলে এশিয়া ও ইউরোপের বহু দেশ যখন জ্বালানি সঙ্কট দেখা দিয়েছে। জ্বালানি সরবরাহ বজায় রাখতে হিমশিম খাচ্ছে প্রশাসন। এই পরিস্থিতিতেই দেশে দেশে এনার্জি-লকডাউনের আশঙ্কার কথা ঘুরে ফিরে আসছে। সম্প্রতি একটি পোস্ট সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। দাবি করা হয়, জ্বালানি সঙ্কট মোকাবিলার জন্য পাকিস্তান সরকার নাকি আগামী এপ্রিল মাস থেকে প্রতি শনিবার ও রবিবার দেশব্যাপী লকডাউন ঘোষণা করেছে।
তবে এই দাবি সম্পূর্ণ ভুয়ো বলে জানিয়েছে পাকিস্তানের তথ্য মন্ত্রক। পাকিস্তানের শীর্ষ সংবাদমাধ্যম Dawn-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভাইরাল হওয়া এই নোটিফিকেশনটি সম্পূর্ণ মিথ্যা এবং বিভ্রান্তিকর।
ভুয়ো নোটিফিকেশনে কী দাবি করা হয়
সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া ওই নোটিফিকেশনে বলা হয়েছিল, ২০২৬ সালের ৪ ও ৫ এপ্রিল থেকে প্রতি সপ্তাহে শনিবার ও রবিবার দেশজুড়ে সম্পূর্ণ লকডাউন থাকবে। শনিবার রাত ১২টা ১ মিনিট থেকে শুরু হয়ে রবিবার রাত ১১টা ৫৯ মিনিট পর্যন্ত এই লকডাউন কার্যকর হবে বলেও উল্লেখ ছিল। ওই খবরে দাবি করা হয়, এই নির্দিষ্ট সময় সব ধরনের ব্যবসা, শিল্প ও পরিষেবা খাত বন্ধ থাকবে। বিয়ে বা যেকোনও সামাজিক অনুষ্ঠান নিষিদ্ধ থাকবে। বাজার সম্পূর্ণ বন্ধ থাকবে, তবে হাসপাতাল, ওষুধের দোকান এবং জরুরি পরিষেবা চালু থাকবে। এমনকি জাতীয় সড়ক ও মহাসড়ক বন্ধ রাখার কথাও বলা হয়েছিল, যদিও পাবলিক বাস চলাচল চালু থাকার কথা উল্লেখ করা হয়।
সরকার কী বলছে
পাকিস্তানের তথ্য মন্ত্রক তাদের অফিসিয়াল ফ্যাক্ট-চেক সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্টে স্পষ্ট জানিয়েছে, এই নোটিফিকেশনটি ভুয়ো। সরকার এমন কোনও লকডাউন ঘোষণা করেনি। ফলে সাধারণ মানুষকে গুজবে কান না দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
জ্বালানি সঙ্কট নিয়ে পূর্বের পদক্ষেপ
এর আগে পাকিস্তান সরকার জ্বালানি সাশ্রয়ের জন্য কিছু সীমাবদ্ধতা আরোপ করেছিল। বিদ্যুৎ ও গ্যাসের ব্যবহার কমাতে বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছিল।
মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতি ও প্রভাব
উল্লেখ্য, পশ্চিম এশিয়ায় ক্রমবর্ধমান সংঘাতের ফলে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহে বড় প্রভাব ফেলছে। Strait of Hormuz বন্ধ হওয়ার আশঙ্কা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও তেলের বাজারে চাপ বাড়িয়েছে। ফলে বহু দেশই বিকল্প পরিকল্পনা গ্রহণ করতে বাধ্য হচ্ছে।
























