Taj Mahal : প্যারালাইজড বৃদ্ধকে গাড়িতে বেঁধে তাজমহল দেখতে চলে গেল পরিবার...তারপর যা ঘটল, ভয়াবহ
এতটা নির্মম, নির্দয় হতে পারে মানুষ। এতটাই অবিবেচক ! তাজমহল দেখতে এসে বাড়ির বয়স্ক মানুষটিকে গাড়িতে বেঁধে রেখে গেল পরিবার

ক্যাবের দরজা বন্ধ। জানলার কাচ তোলা। গরমে হাঁসফাঁস করছেন এক বৃদ্ধ। কিন্তু নড়াচড়ার উপায় নেই। ক্যাবের সিটের সঙ্গে শক্ত করে বাঁধা তাঁর শরীর। গরমে হাঁপিয়ে উঠছিলেন তিনি। বারবার বমিভাব হচ্ছিল। অথচ আশেপাশে কেউ নেই। আর একটু দেরি হলেই ঘটে যেত ভয়ঙ্কর ঘটনা।
মুম্বই থেকে তাজমহল দেখতে আসা এক পরিবারের কাণ্ড দেখে তাজ্জব সকলে। এতটা নির্মম, নির্দয় হতে পারে মানুষ। এতটাই অবিবেচক ! তাজমহল দেখতে এসে বাড়ির বয়স্ক মানুষটিকে গাড়িতে বেঁধে রেখে গেলেন তাঁরা। উত্তর প্রদেশের আগ্রায় তাপমাত্রা এখন ৩০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের আশেপাশে। বাতালে আর্দ্রতা ছিল ৯০ শতাংশের বেশি। স্বাভাবিকভাবেই প্যাচপ্যাচে গরম। এমন দিনে ওই পরিবারটি ৮০ বছর বয়সের এক পক্ষাঘাতগ্রস্ত বৃদ্ধকে নিয়ে বেড়াতে আসে তাজমহলে। গাড়ি থেকে ঘুরতে যাওয়ার আগে বৃদ্ধকে সিটের সঙ্গে বেঁধে রেখে যায় তারা। গাড়ির জানলাও তুলে দেওয়া হয়। আর ভেতরে দমবন্ধ হতে শুরু করে অসহায় বৃদ্ধর। গাড়িটি রোদের মধ্যেই পার্ক করা ছিল, আশেপাশে কোনও পরিচারকও ছিল না। গরমে ছটফট করতে থাকেন তিনি। বেরিয়ে আসছিল জিভ। কেউ কোত্থাও নেই তাঁর প্রতি খেয়াল রাখার। এমন সময়ে আশেপাশের লোকজনের নজরে পড়ে বিষয়টি। তাঁরাই সাহায্য করতে এগিয়ে আসেন। দরজা খুলতে না পেরে গাড়ির জানালা ভাঙা হয়। এত কিছু ঘটে যায়, কিন্তু পরিবারের লোকেদের দেখাই পাওয়া যায়নি। দেখা যায়, ওই বৃদ্ধকে কাপড় দিয়ে সিটের সঙ্গে বেঁধে রাখা হয়েছে। তড়িঘড়ি খোলা হয় বাঁধন। দেওয়া হয় জল। তিনি চলাফেরায় অক্ষম। তাই একপ্রকার টেনেটুনেই গাড়ি থেকে বের করা হয় তাঁকে। এগিয়ে আসে স্থানীয় পুলিশ। একটি অ্যাম্বুলেন্সও ডাকা হয়। তবে গাড়ি থেকে নামানোর পর, বৃদ্ধের অবস্থার উন্নতি হয় কিছুটা।
পিটিআই-এর সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে, ডেপুটি কমিশনার অফ পুলিশ (ডিসিপি) সোনম কুমার বলেন, "মুম্বইয়ের বাসিন্দা সিদ্ধেশ্বর তান্ডেল তাঁর পরিবারের সঙ্গে তাজমহল দেখতে এসেছিলেন। বৃদ্ধ বাবা হরিওম তান্ডেলকে গাড়ির জানালা ভেঙে বের করে আনা হয়।" এরপর ছেলে এসে বৃদ্ধ বাবাকে নিয়ে যান। ছেলে আসার পর স্থানীয় মানুষ তাঁকে সবটা জানান ও এমন ব্যবহারের জন্য যথেষ্ট ধিক্কার জানান। কোনও অভিযোগ দায়ের করা হয়নি।






















