Maharashtra Civic Polls: ‘যারা ৭০০০০ কোটির দুর্নীতির অভিযোগ তুলেছিল, আজ তাদের সঙ্গেই ক্ষমতায় আছি?’ BJP-কে আক্রমণ অজিত পওয়ারের, মহারাষ্ট্রে নতুন ট্যুইস্ট?
Ajit Pawar News: জোর তরজা শুরু হয়েছে

নয়াদিল্লি: মহারাষ্ট্রে বিজেপি নেতৃত্বাধীন জোট সরকারে সবকিছু ঠিক নেই বলে খবর শোনা যাচ্ছিল। আসন্ন পৌরসভা নির্বাচনেও একাধিক কেন্দ্রে একসঙ্গে লড়াই করছে না বিজেপি-শিবসেনা (একনাথ শিন্ডে)-ন্যাশনালিস্ট কংগ্রেস পার্টি (অজিত পওয়ার)। বরং পিঁম্পডরি-চিঁচওয়াড়ে কাকা শরদ পওয়াারের NCP-র সঙ্গেই জোট বেঁধেছে অজিত পওয়ারের দল। তবে বিজেপি-র জোট সরকারে শামিল থেকেই এবার গেরুয়া শিবিরের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ তুললেন মহারাষ্ট্রের উপমুখ্যমন্ত্রী অজিত। সেই নিয়ে জোর তরজা শুরু হয়েছে। অজিতকে 'জোটধর্ম' স্মরণ করাল বিজেপি। (Ajit Pawar News)
৭০ হাজার কোটি টাকার দুর্নীতিতে যখন গলা ডুবে যাচ্ছে, সেই সময় কাকা শরদ পওয়ারের দল থেকে নেতা ভাঙিয়ে বেরিয়ে আসেন অজিত। নিজের আলাদা দলবল নিয়ে বিজেপি-র সঙ্গে জোট বেঁধে মহারাষ্ট্রে সরকার গঠনে অংশ নেন এবং রাজ্যের উপমুখ্যমন্ত্রী নিযুক্ত হন। তার পর আরব সাগরের বুক দিয়ে অনেক জল বয়ে গিয়েছে। দুর্নীতি মামলায় ক্লিনচিট পেয়ে গিয়েছেন অজিত। সরকারি জমি হাতিয়ে দুর্নীতির অভিযোগ উঠলেও, তাঁর ছেলের গায়ে হাত পড়েনি। এখন যদিও বিজেপি-র সঙ্গে বনিবনা হচ্ছে না বলে শোনা যাচ্ছে। (Maharashtra Civic Polls)
আর সেই আবহেই গেরুয়া শিবিরের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ তুললেন অজিত। শুক্রবার পুণের কাছে পিম্পরি-চিঁচওয়াড়ে সাংবাদিক বৈঠক করে অজিত দাবি করেন, ২০১৭ থেকে ২০২২ পর্যন্ত পুণে পুরসভা বিজেপি-র দখলে। আর ওই সময় ব্যাপক দুর্নীতি হয়েছে পুরসভায়, যার দরুণ পুরসভার ঘাড়ে পাহাড় প্রমাণ ঋণের বোঝা চেপেছে। শুধু তাই নয়, তাঁর বিরুদ্ধে যে ৭০ হাজার কোটি টাকার সেচ দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছিল, তা নিয়েও বিজেপি-কেই বেঁধেন তিনি।
ওই সাংবাদিক বৈঠকে অজিত বলেন, “আমার বিরুদ্ধে ৭০০০০ কোটি টাকার সেজ দুর্নীতির অভিযোগ যে সাজানো, তা সকলেই জানেন। যারা ওই অভিযোগ তুলেছিল, আজ তাদের সঙ্গেই আমি ক্ষমতায়। অপরাধ প্রমাণ হওয়ার আগে কি কাউকে অপরাধী ঘোষণা করে দেওয়া যায়?” বিজেপি-র বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ তুলে অজিত বলেন, “বিভিন্ন প্রকল্পের নাম করে অনিয়ম হচ্ছে, মুলা নদী পরিষ্কারের নামেও হয়েছে। পুরসভার কাজে স্বচ্ছতার অভাব রয়েছে। রাজ্য নেতৃত্বকে নিয়ে ভয় নেই বলেই লুণ্ঠনকারীরা নিজেদের কাজ করে চলেছে। দুর্নীতির এই দানবকে বধ করতেই আমরা নির্বাচনে নেমেছি।” মহারাষ্ট্রে কংগ্রেস এবং NCP জোট ক্ষমতায় তাদের মধ্যে কোনও অহঙ্কার ছিল না, কিন্তু এখন যারা ক্ষমতায় আসীন, তারা অহঙ্কারী বলেও দাবি করেন অজিত।
অজিতের এই মন্তব্য ঘিরে শোরগোল পড়ে গিয়েছে। কারণ বনিবনা না হওয়ার খবর না হলেও, এখনও পর্যন্ত বিজেপি নেতৃত্বাধীন মহারাষ্ট্র জোট সরকারেরই অংশ অজিত। তাই অজিতকে ‘জোটধর্ম’ স্মরণ করিয়ে দিয়েছে বিজেপি। মহারাষ্ট্রে বিজেপি-র রাজ্য সভাপতি রবীন্দ্র চহ্বাণ বলেন, “নির্বাচনকে সামনে রেখে এই মন্তব্য করেছেন অজিত পওয়ার। অভিযোগ তোলার আগে আত্মসমীক্ষা করা উচিত ওর। পরিষ্কার করে বলতে হবে ওঁকে, যে কোন দলের বিরুদ্ধে কথা বলছেন। নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বাধীন দলের কথা বলছেন কি উনি? অজিত ভাল নেতা। কেন্দ্র এবং মহারাষ্ট্রে আমাদের সহযোগী উনি। কিন্তু এই নির্বাচনে ওঁদের পায়ের নীচ থেকে মাটি সরে যাচ্ছে। আমি জানতে চাই, কোন এজেন্সি ওঁকে এই তথ্য দিল।”
তবে সেখানেই থামেননি রবীন্দ্র। পিম্পরি-চিঁচওয়াড়ের সভা থেকেই তিনি বলেন, “কোন পরিস্থিতিতে উপমুখ্যমন্ত্রী অজিত পওয়ারের সঙ্গে হাত মেলাতে হয়েছিল, তা সকলেই জানেন। পুণে এবং পিম্পরি-চিঁচওয়াড় থেকে অনেকেই আমাকে দ্বিতীয়বার ভেবে দেখত বলছিলেন ওঁকে নেওয়ার বিষয়টি। আড়ালে আমিও মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়নবীসকে সেই কথা বলতাম, যে আমাদের ভেবে দেখা উচিত। এখন ওঁকে নেওয়ার জন্য আফশোস হয় আমাদের।”
কিন্তু অজিতের অভিযোগের পাল্টা স্থানীয় বিজেপি নেতৃত্ব কেন মুখ খুললেন না, যাঁদের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলছেন পওয়ার, তাঁরা কেন কিছু বলছেন না, জানতে চাওয়া হয় রবীন্দ্রর কাছে। তিনি বলেন, “উপমুখ্যমন্ত্রীর পদে থাকা ব্যক্তি অভিযোগ তুললে, সমমর্যাদার ব্যক্তিরই জবাব দেওয়া উচিত। বিজেপি শৃঙ্খলাবদ্ধ একটি দল। আমাদে প্রোটোকল আছে যে, কে, কোন উত্তর দিতে পারেন। আমরা সেই নীতি অনুযায়ী চলি।”
অজিতের উদ্দেশে ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্যও করেন রবীন্দ্র। অজিত বিজেপি বিধায়ক মহেশ লাঙড়ের বিরুদ্ধে ভীতি প্রদর্শন, দুর্নীতির অভিযোগ তুলেছিলেন। কিন্তু রবীন্দ্রর তাঁর কথায়, “নির্বাচনে সমালোচনা করতেই হয়। কিন্তু কুস্তিগীরকে না ঘাঁটানোই ভাল। মহেশ কুস্তি ভোলেননি। ওঁর বিরাগভাজন না হওয়াই ভাল।” নির্বাচনের সময় এসব বলে পরে অজিত হেসে উড়িয়ে দিতে পারেন বলেও জানান রবীন্দ্র। তবে পাল্টা আক্রমণ এলে অজিত যে বিপাকে পড়বেন, তাও বুঝিয়ে দেন তিনি।






















