Supreme Court: জনস্বার্থ মামলার ব্যবস্থা পুরোপুরি তুলে দেওয়া হোক, সুপ্রিম কোর্টে বলল কেন্দ্র
Public Interest Litigations: জনস্বার্থ মামলা তুলে দিতে সুপ্রিম কোর্টে আর্জি কেন্দ্রের। অতদূর যাওয়ার প্রয়োজন নেই বলে জানালেন প্রধান বিচারপতি।

নয়াদিল্লি: জনস্বার্থ মামলার ব্যবস্থা পুরোপুরি তুলে দিতে সুপ্রিম কোর্টে আর্জি জানাল কেন্দ্রের নরেন্দ্র মোদি সরকার। জনস্বার্থ মামলার যে ব্যবস্থা রয়েছে ভারতের আইনি কাঠামোয়, তাকে ইংরেজিতে বলা হয় Public Interest Litigation বা PIL. এর মাধ্যমে বৃহত্তর স্বার্থকে সামনে রেখে, যে কোনও বিষয়ে আদালতের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে পারেন দেশের যে কোনও নাগরিক। সেই PIL-এর প্রাসঙ্গিকতা নিয়েই প্রশ্ন তুলল কেন্দ্র। শবরীমালায় ঋতুমতী মহিলাদের প্রবেশ নিয়ে শুনানি চলাকালীন এমন আর্জি জানানো হয়। (Public Interest Litigations)
সুপ্রিম কোর্টে নয় বিচারপতির বেঞ্চে শবরীমালা মামলার শুনানি চলছে। সেখানেই PIL তুলে দেওয়ার পক্ষে সওয়াল করেন সলিসিটল জেনারেল তুষার মেহতা। তিনি দাবি করেন, দেশে ‘PIL কালচার’ শুরু হয়েছে। নিজেদের ‘অ্যাজেন্ডা’কে সামনে রেখে যে কেউ PIL ফাইল করছেন আদালতে। তাই PIL ব্যবস্থা তুলে দিয়ে, ‘Locus Standi’-র সাধারণ নীতিই কার্যকর করা হোক। সেক্ষেত্রে যাঁর সমস্যা, শুধুমাত্র তিনিই মামলা করতে পারবেন। জনস্বার্থকে সামনে রেখে, তাঁর হয়ে অন্য কেউ আদালতের দ্বারস্থ হতে পারবেন না। (Supreme Court)
আদালতে লিখিত হলফনামা জমা দিয়ে সলিসিটর জেনারেল বলেন, ‘জনসংখ্যার বৃহত্তর অংশ, সাংবিধানিক আদালতে পৌঁছনোর ক্ষমতা নেই যাঁদের, তাঁদের জন্যই PIL-এর সূচনা। কিন্তু গত পাঁচ দশকে সেটির ভিত দুর্বল হয়ে পড়েছে। নতুন করে সাজানো নয়, জনস্বার্থ মামলার ব্যবস্থা তুলে দেওয়ার সময় এসেছে। দারিদ্র, অশিক্ষা, শারীরিক প্রতিবন্ধকতা, সামাজিক বঞ্চনা এবং প্রাতিষ্ঠানিক আইনি সহায়তার ব্যবস্থা না থাকায় PIL ব্যবস্থা চালু করা হয়। কিন্তু বর্তমানে বিচারব্যবস্থা অনেক বেশি স্বচ্ছ এবং সহজলভ্য। ই-ফাইলিং করে আদালতে চিঠি পাঠানো যায়।”
আজকাল PIL নিজ নিজ উদ্দেশ্য চরিতার্থ করার হাতিয়ার হয়ে উঠেছে বলেও মন্তব্য করেন সলিসিটর জেনারেল। পিছন থেকে কেউ পরিকল্পনা করছেন, সেই মতো আদালতে মামলা হচ্ছে। PIL-এর গ্রহণ কতটা যুক্তিযুক্তি, তা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। বলেন, “কেউ যদি অসহায় হলে, জেলা কর্তৃপক্ষকে গিয়ে জানাতে পারেন, সেই মতো পদক্ষেপ করতে বলতে পারেন।”
এতে প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্ত জানান, PIL তুলে দেওয়ার দিকে এগনোর প্রয়োজন নেই। আদালত এব্যাপারে যথেষ্ট সাবধানী। তিনি বলেন, “বর্তমান সময়ে দাঁড়িয়ে…শুধুমাত্র গত কয়েক বছরেই ন., আদালত জনস্বার্থ মামলা নিয়ে যথেষ্ট সাবধানী আদালত। মাপকাঠি রয়েছে সেগুলি পরখ করে দেখার। ১ নং আদালতে বসলে দেখতে পাবেন, কত PIL গ্রহণ করা হয়। সারবত্তা থাকলে নোটিস জারি হয় তবেই। ২০০৬৫ থেকে ২০২৬, গত দু’দশকে পরিস্থিতি পাল্টেছে, আরও সাবধানী হয়েছে আদালত।”
এর আগে, ওড়িশা হাইকোর্ট PIL নিয়ে পর্যবেক্ষণ তুলে ধরেছিল। আদালত জানিয়েছিল, আদালতের কোনও নির্দেশ উল্টে দেওয়ার জন্য PIL-কে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা উচিত নয়। এই মুহূর্তে শবরীমালা মন্দিরে ঋতুমতী মহিলাদের প্রবেশ নিয়ে শুনানি চলছিল। ২০১৮ সালেই ওই মামলায় ঐতিহাসিক রায় শোনায় শীর্ষ আদালত, যাতে ঋতুমতী মহিলাদের আয়াপ্পার মন্দিরে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়। সেই রায়কে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে নতুন করে আবেদন জমা পড়েছে। নির্দিষ্ট কোনও ধর্মাচারণের সঙ্গে পরিচিত বা অভ্যস্থ নন, এমন কোনও ব্যক্তি সংশ্লিষ্ট ধর্মের রীতি নীতি নিয়ে প্রশ্ন তুলতে পারেন কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন জমা পড়েছে আদালতে। আসল মামলাটি দায়ের হয়েছিল ২০০৬ সালে, ইন্ডিয়ান ইয়াং লইয়ার্স অ্যাসোসিয়েশনের দ্বারা। সেটিকে PIL-এর অপব্যবহার বলে উল্লেখ করেছে কেন্দ্র। কোনও ভাবেই যে বা যাঁদের ব্যক্তিগত স্বার্থ জড়িয়ে নেই, যিনি বা যাঁরা নিজে পীড়িত নন, সেই ধর্ম, ধর্মাচারণের সঙ্গে যাঁর বা যাঁদের যোগ নেই, তাঁর বা তাঁদের দায়ের করা PIL গ্রহণের যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়।
১৯৮১ সালে ভারতে PIL কাঠামো মজবুত হয়। এস পি গুপ্ত বনাম ভারত সরকারের মামলায় সুপ্রিম কোর্ট জানিয়েছিল, দরিদ্র, অসহায়, অক্ষম মানুষ, যাঁদের আইনি লড়াই লড়ার ক্ষমতা নেই, তাঁদের হয়ে যে কেউ আদালতের দ্বারস্থ হতে পারেন। মানবিকতার খাতিরে, জনস্বার্থকে সামনে রেখে একজনের হয়ে আদালতের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে পারেন অন্য কেউ। সমাজের দুর্বল শ্রেণি যাতে মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত না হয়, তার জন্যই এমন পদক্ষেপ বলে জানিয়েছিল সর্বোচ্চ আদালত।























