Chandranath Rath Murder Case : চন্দ্রনাথ খুনে বিরাট চক্র, তদন্তে বড় আপডেট! ৩ 'দাগী অপরাধীর' নাম প্রকাশ্যে
Suvendu Adhikari PA Murder Case : তদন্তকারীদের ধারণা , ষড়যন্ত্রের শিকড় অনেক গভীরে। মোট ৭-৮ জন যুক্ত থাকতে পারেন এই ষড়যন্ত্রে।

আবির দত্ত, ময়ূখ ঠাকুর চক্রবর্তী কলকাতা : রাজ্যে নতুন সরকার গঠনের ঠিক তিন দিন আগে সবার চোখের সামনে গুলিতে ঝাঁঝরা করে খুন করা হয় মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর আপ্তসহায়ক চন্দ্রনাথ রথকে। ঘটনার চার দিনের মাথায় বড় সাফল্য পেল তদন্তকারীরা। উত্তরপ্রদেশ ও বিহারে অভিযান চালিয়ে তিন দুষ্কৃতীকে গ্রেফতার করেছে রাজ্য পুলিশের SIT।
উত্তরপ্রদেশ ও বিহার থেকে ধরা পড়ল অভিযুক্তরা
পুলিশ সূত্রে খবর, রবিবার রাতে উত্তরপ্রদেশের বালিয়ায় অভিযান চালিয়ে শার্প শ্যুটার রাজ সিংকে গ্রেফতার করা হয়।পুলিশের সন্দেহ এই রাজই গুলি চালিয়েছিল। পাশাপাশি বিহারের বক্সার থেকে পাকড়াও করা হয়েছে আরও দুই অভিযুক্ত ময়ঙ্ক রাজ মিশ্র ও ভিকি মৌর্যকে। তদন্তকারীদের ধারণা , ষড়যন্ত্রের শিকড় অনেক গভীরে। মোট ৭-৮ জন যুক্ত থাকতে পারেন এই ষড়যন্ত্রে।
তদন্তকারীদের দাবি, খুনের আগে বিভিন্ন টোলপ্লাজায় UPI মারফত পেমেন্ট করা হয়েছিল। সেই ডিজিটাল ট্রানজাকশনের সূত্র ধরেই তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হয়েছে। পুলিশের দাবি, ওই টাকার লেনদেন হয়েছিল অন্যতম অভিযুক্ত ময়ঙ্ক রাজ মিশ্রের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট থেকে।
৫০ সেকেন্ডের ‘নিখুঁত অপারেশন’
৬ মে, বুধবার রাতে মধ্যমগ্রামের রাস্তায় ঘটে যায় এই চাঞ্চল্যকর খুন। বিধানসভা ভোটের ফল প্রকাশের মাত্র দু’দিন পরেই হামলার শিকার হন চন্দ্রনাথ রথ। তদন্তে উঠে এসেছে, প্রথমে একটি গাড়ি এসে চন্দ্রনাথ রথের গাড়ির রাস্তা আটকে দেয়। তারপর দু’দিক থেকে দুই বাইকে এসে ঘিরে ফেলে আততায়ীরা। কার্যত রাস্তার উপর তৈরি করা হয় এক ‘চক্রব্যূহ’। এরপর গাড়ির কাচের ওপার থেকেই পয়েন্ট ব্ল্যাঙ্ক রেঞ্জ থেকে প্রায় ১০ রাউন্ড গুলি চালানো হয়। পুরো অপারেশন শেষ হয় মাত্র ৫০ সেকেন্ডে। তারপর দু’টি বাইকে চড়ে আলাদা রাস্তা দিয়ে পালিয়ে যায় দুষ্কৃতীরা। ক্লোজ সার্কিট ক্যামেরায় ধরা পড়েছে সেই পালানোর দৃশ্যও।
খুনের নেপথ্যে কারা?
এখনও পর্যন্ত তদন্তকারীদের সামনে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন— কেন খুন করা হল চন্দ্রনাথ রথকে? রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র, নাকি অন্য কোনও ব্যক্তিগত বা অপরাধমূলক কারণ— সব দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পুলিশ সূত্রে খবর, ঘটনায় জড়িত আরও কয়েকজন দুষ্কৃতীর খোঁজে বিভিন্ন জায়গায় তল্লাশি চালানো হচ্ছে। কারা এই হত্যার ছক কষেছিল, কার নির্দেশে সুপারি কিলার নামানো হয়েছিল এবং পুরো অপারেশনের মাস্টারমাইন্ড কে— সেই উত্তর খুঁজতেই জোরকদমে তদন্ত এগোচ্ছে। নির্বাচনের ফল বেরনোর ২ দিনের মাথায় এই খুনকে শুভেন্দু অধিকারী “নৃশংস”, “পরিকল্পিত” এবং “সুপারি কিলিং” বলে দাবি করেছিলেন। তাঁর কথায়, “গত ৩-৪ দিন ধরে রেকি করে যেভাবে ৫টি বুলেট তার শরীরে বিদ্ধ করা হয়েছে”, তাতে গোটা ঘটনায় সুপরিকল্পিত ষড়যন্ত্রের ইঙ্গিত স্পষ্ট।























