US-Iran War: ‘ইরান থেকে ড্রোন ছোড়া হয়নি’, বলছে ব্রিটেন, তাহলে সাইপ্রাসে হামলা চালাল কে? বৃহত্তর ষড়যন্ত্রের তত্ত্ব
Cyprus Drone Attack: ১৯৫৭ সালে ব্রিটেনের হাত থেকে স্বাধীনতা অর্জন করে সাইপ্রাস।

নয়াদিল্লি: একদিকে দুই শক্তিশালী দেশ, আমেরিকা এবং ইজ়রায়েল। অন্য দিকে, কোণঠাসা হয়ে পড়া ইরান। তাদের মধ্যে ভীষণ যুদ্ধের প্রভাব পড়েছে সর্বত্র। মুহুর্মুহু ক্ষেপণাস্ত্র, ড্রোন আছড়ে পড়ছে পশ্চিম এশিয়ার দেশগুলিতে। কিন্তু সাইপ্রাসে ব্রিটেনের রয়্যাল এয়ার ফোর্সের ঘাঁটিতে ড্রোন হামলা নিয়ে দ্বন্দ্ব সপ্তমে। ব্রিটেনের বায়ুসেনা ঘাঁটিতে ইরান হামলা চালিয়েছে বলে প্রথমে অভিযোগ ওঠে। কিন্তু এখন জানা যাচ্ছে, ওই ড্রোন ইরান থেকে ছোড়া হয়নি। (Cyprus Drone Attack)
১৯৫৭ সালে ব্রিটেনের হাত থেকে স্বাধীনতা অর্জন করে সাইপ্রাস। কিন্তু এখনও সেখানে ব্রিটেনের দু'টি ঘাঁটি রয়েছে, যা সার্বভৌম ঘাঁটি এলাকা হিসেবে পরিচিত (Sovereign Base Areas). রবিবার মধ্যরাতের কিছু সময় পর, সাইপ্রাসের আকরোতিরিতে ব্রিটেনের বায়ুসেনার রেডার ভেদ করে আছড়ে পড়ে একটি ড্রোন। ওই ড্রোনটির মোকাবিলায় একাধিক যুদ্ধবিমান নামে। ড্রোনের আঘাতে একটি যুদ্ধবিমান ক্ষতিগ্রস্তও হয়। এর পর সোমবার দুপুরের পর আরও দু'টি ড্রোন ধরা পড়ে রেডারে। ফলে ভুলবশত নয়, ইচ্ছাকৃত ভাবেই সাইপ্রাসে ড্রোন পাঠানো হয় বলে মনে করা হচ্ছে। (US-Iran War)
ওই ঘটনায় কোনও প্রাণহানি না ঘটলেও, আমেরিকা-ইজ়রায়েল বনাম ইরানের যুদ্ধের আঁচ সেখানে পৌঁছে যাওয়ায় উদ্বেগ ছড়ায়। ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের অন্তর্ভুক্ত সাইপ্রাসে ড্রোন হামলার বিষয়টি ভাল ভাবে গ্রহণ করেনি ব্রিটেনও। সেখানে ব্রিটেনের সৈনিক এবং তাঁদের পরিবারের সদস্যরাও সেখানেই ঢুকে পড়ে ড্রোন।
Update on UK operations in the Middle East: 04 March 2026 ⬇️ pic.twitter.com/LkE1D4Fuek
— Ministry of Defence 🇬🇧 (@DefenceHQ) March 4, 2026
সাইপ্রাসে ব্রিটেনের বায়ুসেনাঘাঁটিতে আঘাত হানতে যে ড্রোন ঢুকে পড়ে, তা ইরানের 'শাহেদ' (Shahed) ড্রোন বলেই জানা গিয়েছিল প্রথমে। বিপদ আঁচ করে নিরাপত্তা আরও আঁটোসাটো করে ব্রিটেন। বাড়তি সেনা, হেলিকপ্টার, বিমান উড়িয়ে আনা হবে বলে ঠিক হয়। কিন্তু এখন জানা যাচ্ছে, ওই ড্রোন ইরান থেকে ছোড়া হয়নি। ব্রিটেনের প্রতিরক্ষা মন্ত্রক বিবৃতি দিয়ে বলে, ‘আকরোতিরি ঘাঁটিতে শাহেদের মতো যে ড্রোনটি আছড়ে পড়েছিল, নিশ্চিত ভাবে সেটি ইরান থেকে ছোড়া হয়নি’। তাহলে কে বা কারা ওই ড্রোন ছুড়ল, তা নিয়ে কাটাছেঁড়া শুরু হয়েছে।
সাইপ্রাসের প্রেসিডেন্ট নিকোস ক্রিস্তোদুলাইডস দানিয়েছেন, সাইপ্রাস কোনও রকম সামরিক অভিযানে অংশ নিতে চায় না। স্বাধীনতাপ্রাপ্তির এত বছর পরও কেন সেখানে ব্রিটেনের ঘাঁটি থাকবে, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন দেশের সাধারণ মানুষ। সাইপ্রাস থেকে ব্রিটেনকে বেরিয়ে যেতে হবে বলে জানিয়ে রাস্তায়ও নামেন অনেকে। তবে এই গোটা ঘটনায় বৃহত্তর ষড়যন্ত্রের তত্ত্বও উঠে আসছে সোশ্যাল মিডিয়া থেকে শুরু করে বিভিন্ন মহলে। ব্রিটেনকে যুদ্ধে টেনে আনতে অন্য কেউ ওই ড্রোন ছুড়ে থাকতে পারে বলে দাবি তুলছেন ইজ়রায়েল বিরোধীরা। সৌদির তৈল সংস্থা Aramco এবং তুরস্ক, আমিরশাহিতে হামলার পিছনেও মোসাদের হাত থাকতে পারে বলে দাবি উঠছে। যদিও এর সপক্ষে কোনও প্রমাণ পাওয়া যায়নি এখনও পর্যন্ত।
সেরা শিরোনাম

























