Ebola Virus Outbreak: ইবোলা ভাইরাসে ২,০০০-এর বেশি মানুষের মৃত্যু ! কী জানাচ্ছে WHO ? জেনে নিন এর লক্ষণ ও ঝুঁকির কারণ
Ebola Outbreak 2026: বাড়ছে ইবোলা ভাইরাসের প্রকোপ। বাড়ছে মৃত্যু। সেই আবহে ভয়ঙ্কর একটি তথ্য় সামনে এসেছে। কী জানাচ্ছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ?

ইবোলা ভাইরাসের প্রকোপ ক্রমশ বাড়ছে। বিশ্বব্যাপী মানুষের মধ্যে উদ্বেগ আরও তীব্র হচ্ছে। গত মে মাসে প্রথমবার এই ভাইরাসে সংক্রমণের কথা জানা গিয়েছিল কঙ্গোয়। মাত্র ৩ মাসের মধ্য গোটা আফ্রিকাজুড়ে আতঙ্কের অপর নাম হয়ে উঠেছে এই ভাইরাস। ১১ই আগস্ট প্রকাশিত সর্বশেষ সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এই প্রাদুর্ভাবে ৪,৪৪৯ জন নিশ্চিতভাবে আক্রান্ত এবং ২,০৬১ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
২০২৬ সালের ইবোলা মহামারি সবচেয়ে ভয়াবহ রূপ নিতে চলেছে। এই ভাইরাসটি খুব তাড়াতাড়ি বেশ কয়েকটি দেশকে প্রভাবিত করেছে। ১৫ই মে, ২০২৬ তারিখে ডিআরসি-তে আনুষ্ঠানিকভাবে এই ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব ঘোষণা করা হয়। এর দুই দিন পর বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) এই প্রাদুর্ভাবকে আন্তর্জাতিক উদ্বেগের একটি জনস্বাস্থ্য জরুরি অবস্থা (PHEIC) হিসেবে ঘোষণা করে।
সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে কী ভাবনা ?
প্রতিবেদন অনুযায়ী, মৃতের সংখ্যা ১,০০০-এ পৌঁছাতে প্রায় নয় সপ্তাহ সময় লেগেছিল। কিন্তু এর মাত্র তিন সপ্তাহ পরেই সংখ্যাটি ২,০০০ ছাড়িয়ে যায়। এই দ্রুত সংক্রমণ চিন্তায় ফেলেছে এ দেশের সরকারকে। সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টায় স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা বিভিন্ন চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হচ্ছেন। নিরাপত্তাহীনতা, সীমিত স্বাস্থ্যসেবা পরিকাঠামো, আক্রান্ত জনগোষ্ঠীর কাছে পৌঁছানোর অসুবিধা, নজরদারি ও সংস্পর্শে আসা ব্যক্তিদের শনাক্তকরণের প্রচেষ্টাকে জটিল করে তুলেছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) জানিয়েছে, গৃহীত পদক্ষেপের মধ্যে রয়েছে নজরদারি জোরদার করা, পরীক্ষাগারে পরীক্ষা, সংস্পর্শে আসা ব্যক্তিদের শনাক্তকরণ, চিকিৎসাগত প্রস্তুতি, চিকিৎসা সরঞ্জাম সরবরাহ এবং জনগোষ্ঠীর সম্পৃক্ততা। এই সবকিছু সঠিকভাবে মেনে চললেই মোকাবিলা করা সম্ভব।
'বুন্দিবুগি' স্ট্রেইনটি কেন উদ্বেগ সৃষ্টি করছে?
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO)-এর তরফে জানা গিয়েছে যে, কঙ্গোয় ইবোলার নয়া ভ্যারিয়েন্ট দেখা দিয়েছে। সেটি হল বুন্দিবুগি। নতুন ভ্যারিয়েন্টের প্রাদুর্ভাবটি অপেক্ষাকৃত বিরল প্রজাতি। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা জানিয়েছে যে, বর্তমানে বুন্দিবুগিও ভাইরাসের জন্য বিশেষভাবে অনুমোদিত কোনো টিকা বা নির্দিষ্ট চিকিৎসা নেই। তবে, সম্ভাব্য টিকা ও চিকিৎসা নিয়ে গবেষণা চলছে। রোগীদের জন্য প্রাথমিক সহায়ক চিকিৎসা সেবা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই স্ট্রেইনটি আগেও প্রাদুর্ভাব ঘটিয়েছে এবং বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা উল্লেখ করেছে যে, আগের দুটি বুন্দিবুগির প্রাদুর্ভাবে মৃত্যুর হার প্রায় ৩০% থেকে ৫০% পর্যন্ত ছিল।
লক্ষণ কী কী ?
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO)-এর তথ্য অনুযায়ী, ইবোলা ভাইরাসের লক্ষণ সাধারণত ভাইরাস সংক্রমণের ২ থেকে ২১ দিনের মধ্যে প্রকাশ পায়। প্রাথমিক লক্ষণগুলোর মধ্যে রয়েছে হঠাৎ জ্বর, অতিরিক্ত ক্লান্তি বা দুর্বলতা, পেশিতে ব্যথা, তীব্র মাথা ব্যথা এবং গলা ব্যথা। এরপর এই রোগের অবনতি হলে আরও ভয়ঙ্কর কিছু লক্ষণ দেখা দেয়। যেমন - বমি ও বমিভাব, ডায়রিয়া, চামড়ায় ফুসকুড়ি, লিভার ও কিডনির কার্যক্ষমতা কমে যাওয়া, নাক, মাড়ি বা চোখ দিয়ে রক্ত পড়া।
কেন এটি উদ্বেগের কারণ ?
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ও CDC-এর তথ্য অনুযায়ী, ইবোলা ভাইরাস অত্যন্ত বিপদজনক। কারণ, এর গড় মৃত্যুহার প্রায় ৫০%। এটি শরীরের রক্তনালীকে ক্ষতিগ্রস্ত করে এবং রক্ত জমাট বাঁধতে বাধা দেয়, যার ফলে অভ্যন্তরীণ ও বাহ্যিক রক্তপাত ঘটে এবং অঙ্গহানি ও মৃত্যু ঘটে। তাই আক্রান্ত হওয়া অর্ধেকেরও বেশি মানুষের মৃত্যু ঘটে।






















