Voter List Revision: ভোটার তালিকা সংশোধনের নামে কি নাগরিকত্ব যাচাই? প্রশ্ন বিরোধীদের, বিহারের পর নজর কোথায়
Voter List Revision Row: নাগরিকত্ব যাচাইয়ের অধিকার কি আছে কমিশনের?

নয়াদিল্লি: ভোটার তালিকা সংশোধনের ((Special Intensive Revision/SIR) নামে গোটা দেশে NRC হচ্ছে বলে অভিযোগ বিরোধীদের। পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মুখেও সেকথা শোনা গিয়েছে। নির্বাচনের ঠিক মুখে বিহারে যেভাবে ভোটার তালিকা সংশোধন করতে গিয়ে ৫২ লক্ষের নাম বাদ পড়েছে, আগামী বছর বিধানসভা নির্বাচনের আগে পশ্চিমবঙ্গেও তার পুনরাবৃত্তি হবে বলে দাবি শোনা যাচ্ছে। কিন্তু এভাবে নাগরিকত্ব যাচাইয়ের অধিকার আদৌ নির্বাচন কমিশনের আছে কিনা, সেই নিয়ে উঠছে প্রশ্ন। কমিশন যদিও দাবি করছে, ভোটারতালিকার মর্যাদা অক্ষুণ্ণ রাখাই তাদের লক্ষ্য়। তবে নাগরিকত্ব যাচাইয়ের অধিকার যে তাদেরও রয়েছে, সেকথাও জানিয়ে দিয়েছে। সংবিধানই তাদের এই অধিকার দিয়েছে বলে দাবি করছে কমিশন। (SIR Electoral Row)
দেশের সংবিধান অনুযায়ী, ১৮ বছর বয়সি প্রত্যেক নাগরিকের ভোটাধিকার রয়েছে। তবে মানসিক ভাবে অসুস্থ হলে, দুর্নীতির দায়ে দোষী সাব্যস্ত হলে, অপরাধ মামলায় দোষী সাব্যস্ত হলে আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে যদি তাঁদের ভোটাধিকার বাতিল হয়, সেক্ষেত্রে আলাদা কথা। কিন্তু গত ২৪ জুন SIR নিয়ে নির্বাচন কমিশন যে নির্দেশিকা জারি করে, তাতে তারা জানায়, সংবিধানের ৩২৬ নম্বর অনুচ্ছেদে বলা রয়েছে, ভোটার তালিকায় নাম রাখতে হলে ভারতের নাগরিক হওয়া জরুরি। ভোটার তালিকায় নাম থাকা ব্যক্তি যে ভারতীয় নাগরিক, সংবিধান অনুযায়ী তা নিশ্চিতকরণে দায়বদ্ধ নির্বাচন কমিশন। (Voter List Revision Row)
এমনিতে নাগরিকত্বের প্রমাণপত্র হিসেবে একাধিক নথি পেশ করা যায়, যেমন, পাসপোর্ট, নাগরিকত্বের শংসাপত্র, জন্মের শংসাপত্র অথবা মাধ্যমিকের শংসাপত্র যাতে জন্মের তারিখ রয়েছে, যে রাজ্যের বাসিন্দা, তার বাসিন্দা হিসেব প্রাপ্ত নথি, অসমের বাসিন্দা হলে NRC-র নথি, সচিত্র ভোটার পরিচয়পত্র।
বৈধ ভোটার বাছাইয়ে SIR করতে গিয়ে কমিশন যে ১২টি নথির উল্লেখ করে, সেগুলি হল---
১) যে কোনও পরিচয়পত্র/পেনশনের কাগজ/রাজ্য সরকার, কেন্দ্রীয় সরকার বা রাষ্ট্রায়াত্ত সংস্থার কর্মী হলে পেনশনের নথি।
২) ১৯৮৭ সালের আগে ভারত সরকার, স্থানীয় প্রশাসন, ব্যাঙ্ক, পোস্ট অফিস, LIC, রাষ্ট্রায়াত্ত সংস্থার দেওয়া পরিচয়পত্র, সার্টিফিকেট বা অন্য নথি।
৩) বৈধ জন্মের শংসাপত্র।
৪) পাসপোর্ট।
৫) মাধ্যমিক পরীক্ষা বা সরকার স্বীকৃত বোর্ড বা বিশ্ববিদ্যালয়ের দেওয়া শংসাপত্র।
৬) সংশ্লিষ্ট রাজ্যের স্থায়ী ভাবে বসবাসের নথি।
৭) অরণ্যের অধিকার সংক্রান্ত শংসাপত্র।
৮) OBC/SC/ST এবং অন্য যে কোনও জাতির বৈধ শংসাপত্র।
৯) NRC-র নথি থাকলে (যে যে রাজ্যে NRC হয়েছে)
১০) রাজ্য ও স্থানীয় প্রশাসনের কাছে পরিবারের নথিভুক্তির নথি।
১১) জমি ও বাড়ির সরকারি নথি।
১২) ২০০৩ সালের ভোটার তালিকায় নাম থাকলে, তার নথি।
বিহারের ক্ষেত্রে পরে নিয়ম কিছুটা শিথিল করা হয়। কমিশন জানায়, ১২টির পরিবর্তে ১১টি নথির দিলে চলবে। ২০০৩ সালের ভোটার তালিকায় নাম থাকার নথি থাকলেই হল। আর কিছু লাগবে না। তার পরও ৫২ লক্ষ মানুষের নাম বাদ পড়েছে সেখানে।
এর আগে, সুপ্রিম কোর্ট প্রমাণপত্র হিসেবে আধার কার্ড, ভোটার কার্ড এবং রেশন কার্ড করতে বলেছিল কমিশনকে। কিন্তু সোমবার সুপ্রিম কোর্টে নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, বৈধ ভোটার হওয়ার ক্ষেত্রে আধার, ভোটার বা রেশন কার্ড মাপকাঠি হিসেবে গণ্য হবে না। নাগরিকত্বের প্রমাণ চাওয়ার অধিকার কমিশনের আছে বলে শীর্ষ আদালতে জানায় তারা। তবে নাগরিকত্ব প্রমাণে নথি জমা করতে না পারলে, কারও নাগরিকত্ব বাতিল হবে না বলেও আদালতে জানিয়েছে কমিশন। বলা হয়েছে, তাদের লক্ষ্য শুধু ভোটার তালিকার পবিত্রতা রক্ষা করা।
বিহারে নির্বাচনের মুখে কেন ভোটার তালিকা সংশোধনের প্রয়োজন পড়ল, সেই নিয়ে সুপ্রিম কোর্টেও প্রশ্নের মুখে পড়ে কমিশন। কিন্তু এই মুহূর্তে যে প্রশ্ন উঠছে, তা হল, বছর ঘুরলে পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা নির্বাচন। বিহারের পর পশ্চিমবঙ্গেও কি ভোটারদের বৈধতা যাচাই করা হবে? এই জল্পনার মধ্যেই মঙ্গলবার পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যসচিবকে চিঠি দেয় জাতীয় নির্বাচন কমিশন। চিঠিতে জানানো হয়, পশ্চিমবঙ্গের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের আর্থিক ও প্রশাসনিক স্বায়ত্তশাসনের অভাব রয়েছে। CEO দফতরকে স্বাধীন করা হোক।
কমিশন জানিয়েছে, পশ্চিমবঙ্গে আলাদা নির্বাচনী দফতর তৈরি করতে হবে, যার সঙ্গে রাজ্য় সরকারের কোনও দফতরের কোনও সম্পর্ক থাকবে না। এই নির্বাচনী দফতরের জন্য় আলাদা বাজেট রাখতে হবে। এর ফলে মুখ্য় নির্বাচনী আধিকারিক বা CEO-র পূর্ণ আর্থিক এবং প্রশাসনিক স্বাধীনতা থাকবে, যা সুষ্ঠ এবং নিরপেক্ষভাবে ভোট পরিচালনার জন্য় প্রয়োজন। বিভিন্ন দফতরের অতিরিক্ত মুখ্যসচিব, সেক্রেটারি কিংবা প্রিন্সিপাল সেক্রেটারির সমতুল্য উপযুক্ত আর্থিক ক্ষমতা মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিককে দিতে হবে।
শুধু তাই নয়, গত ২৪ জুন যে নির্দেশিকা প্রকাশ করে নির্বাচন কমিশন, তার ১০ নম্বর প্যারাগ্রাফে বলা ছিল যে, সংবিধান মেনে ভোটার তালিকার মর্যাদা অক্ষুণ্ণ রাখতে গোটা দেশে SIR শুরুর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। দেশের অন্যত্র কোথায়, কখন SIR হবে, সময় মতো তার নির্ঘণ্ট প্রকাশিত হবে। ইতিমধ্যেই বিভিন্ন রাজ্যের চিফ ইলেক্টোরাল অফিসার সর্বশেষ ভোটার তালিকা জমা দিতে শুরু করেছেন বলেও খবর। এমনকি বুথ স্তরের আধিকারিকদের প্রশিক্ষণও শুরু হয়েছে। ফলে বিহারের পর নির্বাচনমুখী পশ্চিমবঙ্গ, তার পর তামিলনাড়ু, অসম, কেরল, পুদুচ্চেরীতে বিধানসভাতেও SIR শুরু হবে বলে মনে করা হচ্ছে।
তথ্যসূত্র - নির্বাচন কমিশন






















