US CIA News: আমেরিকাকে বোকা বানিয়ে চম্পট দেন ওসামা বিন লাদেন, মহিলার ছদ্মবেশ ধারণ করে ঢোকেন পাকিস্তানে!
Osama Bin Laden: সংবাদ সংস্থা ANI-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে এই তথ্য সামনে এনেছেন প্রাক্তন CIA অফিসার কিরিয়াকু।

নয়াদিল্লি: মহিলা সেজে আমেরিকার চোখে ধুলো দেন ওসামা বিন লাদেন। ৯/১১ হামলার পর আমেরিকা যখন হন্যে হয়ে খুঁজছে তাঁকে, সেই সময় ছদ্মবেশ ধারণ করে পালিয়ে যান তিনি। এতদিন পর এই তথ্য সামনে আনলেন আমেরিকার গুপ্তচর সংস্থার প্রাক্তন আধিকারিক জন কিরিয়াকু। (US CIA News)
সংবাদ সংস্থা ANI-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে এই তথ্য সামনে এনেছেন প্রাক্তন CIA অফিসার কিরিয়াকু। তিনি জানিয়েছেন, ৯/১১ হামলার পর লাদেনের খোঁজে চিরুনি তল্লাশি চলছিল আফগানিস্তানে। সেই সময় টোরা বোরা পার্বত্য অঞ্চলেই ঘাঁটি গেড়ে ছিলেন ওসামা। আমেরিকার চোখে ধুলো দিতে মহিলার বেশ ধারণ করে পালিয়ে যান তিনি। (Osama Bin Laden)
দীর্ঘ ১৫ বছর CIA-কে কাজ করেছেন কিরিয়াকু। পাকিস্তানে সন্ত্রাসদমন অভিযানেরও দায়িত্বে ছিলেন তিনি। তাঁর দাবি, সেই সময় আমেরিকার সেনা দোভাষী হিসেবে যাকে নিযুক্ত করেছিল, পরে দেখা যায়, সে ‘আল-কায়দা’রই লোক ছিল। আমেরিকা তাকে চিনতে না পারাতেই পালাতে সফল হন ওসামা।
কিরিয়াকুর বক্তব্য, “আগাম প্রস্তুত থাকার পরিবর্তে আমেরিকা সেই সময় প্রতিক্রিয়ামূলক পদক্ষেপই করছিব। অফগানিস্তানে বোমাবর্ষণের আগে এক মাস অপেক্ষা করি আমরা। আবেগ যাতে বিচারবুদ্ধিকে গ্রাস করে না ফেলে, সেই চেষ্টাি করছিলাম। এর পর ‘আল-কায়দা’র ঘাঁটি আক্রমণ শুরু হয়। আফগানিস্তানের দক্ষিণে এবং পূর্বে পাশতু এলাকাগুলিতেই মূলত অভিযান চলে। ২০০১ সালের অক্টোবর মাসেই ওসামার নাগাল পাওয়া গিয়েছে বলে ধারণা জন্মায় আমাদের মধ্যে। ভেবেছিলাম, টোরা বোরা পার্বত্য অঞ্চলে ‘আল-কায়দা’ নেতৃত্বকে কোণঠাসা করে ফেলেছি।”
কিরিয়াকু আরও বলেন, “সেন্ট্রাল কমান্ডের জন্য যে দোভাষী নিযুক্ত করা হয়েছিল, সে যে ‘আল-কায়দা’র লোক. আমেরিকার সেনার অন্দরে ঢুকে পড়েছে, তা বুঝতে পারিনি আমরা। তাই আমরা ভেবেছিলাম, লাদেনকে কোণঠাসা করা গিয়েছে। আমরা পাহাড় থেকে নেমে আসতে বলি ওঁকে (ওসামা)। দোভাষীর মাধ্যমে ভোর পর্যন্ত সময় চান উনি। মহিলা ও শিশুদের সরানোর জন্য সময় চান। জানান, ভোরবেলায় নেমে এসে আত্মসমর্পণ করবেন। জেনারেল টমি ফ্র্যাঙ্ককে তাতে রাজি করিয়ে নেয় ওই দোভাষী। আসলে যা ঘটে তা হল, অন্ধকারে মহিলার বেশে পালিয়ে যান ওসামা। লরির পিছনে বসে ঢুকে পড়েন পাকিস্তানে।”
কিরিয়াকুর দাবি, ভোর হওয়ার পর আমেরিকার বাহিনী যখন টোরা বোরার উপরে পৌঁছয়, সেখানে কেউ ছিল না। এর পর পাকিস্তানে সরতে হয় তাঁদেরও। কিরিয়াকুর দাবি, লাদেনকে পাকড়াও করতে পাকিস্তানের সহযোগিতা প্রয়োজন ছিল। তার জন্য পারভেজ মুশারফের সঙ্গে আর্থিক লেনদেনও হয় ওয়াশিংটনের। তাঁর বক্তব্য, “পাকিস্তানকে কোটি কোটি টাকা অনুদান দিই আমরা। সামরিক, অর্থনৈতিক খাতে প্রচুর টাকা দেওয়া হয়। নিয়মিত মুশারফের সঙ্গে বৈঠক হতো আমাদের। সপ্তাহে বেশ কয়েক বার। প্রথম প্রথম নিজেদের ইচ্ছে মতো কাজ করতে পারতাম আমরা। কিন্তু মুশারফকেও কিছু অন্য লোকের সঙ্গে ডিল করতে হচ্ছিল। ‘আল-কায়দা’কে নিয়ে কোনও মাথাব্যথা ছিল না পাকিস্তানি সেনার। ওরা শুধু ভারতকে নিয়ে ভাবিত ছিল।”
কিরিয়াকু জানিয়েছেন, ২০০২ সালে লাহৌরে লস্কর-ই-তৈবার নিরাপদ ঘাঁটিতে হানা দেয় CIA. ওই সংগঠনের সঙ্গে ‘আল-কায়দা’র সংযোগ উঠে আসে। কিন্তু পাকিস্তানের সঙ্গে কৌশলগত সম্পর্কের দরুণ বিষয়টি নিয়ে সেভাবে নাড়াচাড়া করা হয়নি।






















