France Unrest: এবার উত্তাল ফ্রান্স, প্যারিসে “Block Everything” আন্দোলনে অবরুদ্ধ রাস্তা; বাসে আগুন; দেশজুড়ে মোতায়েন ৮০ হাজার নিরাপত্তাকর্মী
‘Block Everything’ Movement : গত তিন বছরে প্রেসিডেন্টের পদত্যাগের দাবিতে একাধিক আন্দোলন সংগঠিত হয়েছে ফ্রান্সজুড়ে।

প্যারিস : বিশ্বজুড়ে একের পর এক দেশে অশান্তির বাতাবরণ। একদিকে যখন Gen Z-র প্রতিবাদে জ্বলছে নেপাল, ঠিক তখনই পরিস্থিতি ঘোরাল হচ্ছে আরও একটি দেশে। ফ্রান্সে। প্রধানমন্ত্রী পদে তাঁর নতুন বাছাই ঘোষণা করেছেন ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইম্যানুয়েল ম্যাক্রো, আর তারপরই অশান্ত হয়ে উঠেছে ফ্রান্স। তাঁর পদ থেকে ইস্তফা দেওয়ার জন্য চাপ বাড়ছে ম্যাক্রোর উপর। এই আবহে “Block Everything” আন্দোলনের অংশ হিসাবে বিক্ষোভকারীদের আন্দোলনে উত্তাল প্যারিস।
ফ্রাঙ্কোস বেইরুর বহিষ্কারের পর, ফ্রান্সের নতুন প্রধানমন্ত্রী হিসাবে তাঁর ঘনিষ্ট ও অনুগামী সেবাস্টিয়েন লেকর্নুর নাম প্রধানমন্ত্রী হিসাবে ঘোষণা করেছেন প্রেসিডেন্ট ম্যাক্রো। ইউরোপের এই দেশে রাজনৈতিক অস্থিরতা তৈরি হওয়ার পর, দুই বছরেরও কম ব্যবধানে ফ্রান্সের পঞ্চম প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন ৩৯ বছরের এই নেতা। প্রধানমন্ত্রী হিসাবে লেকর্নু তাঁর যাত্রা শুরু করার পর, ফ্রান্সজুড়ে প্রতিবাদ শুরু হয়েছে। বুধবার “Block Everything” আন্দোলনের মাধ্যমে প্যারিসে রাস্তার দখল নেন আন্দোলনকারীরা। তাঁরা রাস্তা অবরুদ্ধ করে দেন এবং একটি বাসে আগুনও ধরিয়ে দেন। ঘটনার পর অন্তত ২০০ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন সে দেশের অভ্যন্তরীণ মন্ত্রী। এই আন্দোলনের জেরে রেলের পাওয়ার লাইনেরও ক্ষতি হয়েছে।
এই আবহে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ফ্রান্সজুড়ে ৮০ হাজার নিরাপত্তাকর্মী মোতায়েন করা হয়েছে। এর মধ্যে শুধুমাত্র প্যারিসেই মোতায়েন রয়েছে ৬ হাজার কর্মী। অশান্তির বিভিন্ন ভিডিও ইতিমধ্যে সোশাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়েছে। বিক্ষোভকারীদের আর্বজনার স্তূপে আগুন ধরাতেও দেখা গেছে। কেউ কেউ পুলিশ আধিকারিকদের সঙ্গে সংঘর্ষেও জড়িয়ে পড়েন। প্রসঙ্গত, ২০২২ সালে পুনর্নির্বাচনের পর থেকেই, পদত্যাগের জন্য প্রচুর চাপ রয়েছে ম্যাক্রোর উপর। বুধবারের আন্দোলনের স্বরও অনেকটা সেই দাবিতেই ছিল। সংবাদ সংস্থা এএফপি-কে এক আন্দোলনকারী বলেন, তাঁর সঙ্গীকে প্রধানমন্ত্রী হিসাবে ম্যাক্রোর বেছে নেওয়া অনেকটা "গালে থাপ্পড়ের" মতো। তাঁর দাবি, ফ্রান্সে পরিবর্তন দরকার।
২০২৪ সালে, ফরাসি কৃষকরা ধর্মঘটে যান। খাদ্যের কম দাম, ডিজেল জ্বালানিতে রাষ্ট্রীয় ভর্তুকি হ্রাসের প্রস্তাব এবং ইইউ ও দক্ষিণ আমেরিকার একটি বাণিজ্য ব্লক মার্কোসুরের মধ্যে মুক্ত বাণিজ্যের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করেন। গত তিন বছরে প্রেসিডেন্টের পদত্যাগের দাবিতে একাধিক আন্দোলন সংগঠিত হয়েছে ফ্রান্সজুড়ে। তবে বারবার ফ্রান্সে অশান্তি ছড়ানো সত্ত্বেও, ম্যাক্রো জানিয়ে দিয়েছেন, তিনি পদত্যাগ করবেন না। এ ধরনের ঘটনা বারবার ঘটতে থাকায় তিনি বিরোধীদের একহাত নেন। তাঁদের নিশানা করে বলেন, বিরোধীরা "ক্ষমতার জন্য ক্ষুধার্থ" এবং তাঁরা "দায়িত্বজ্ঞানহীনও"।






















