Golden Dome Missile Shield: মহাকাশেও যুদ্ধে প্রস্তুত? শত্রু ঠেকাতে Golden Dome প্রকল্পের ঘোষণা ট্রাম্পের, ছাতার মতো ঢেকে রাখবে আমেরিকাকে
Donald Trump: মঙ্গলবার ‘Golden Dome’ প্রকল্পের ঘোষণা করেছেন ট্রাম্প।

ওয়াশিংটন: পৃথিবীর কোথাও যুদ্ধ চলছে, তো কোথাও আবার যুদ্ধ পরিস্থিতি। নিজেদের মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকায় তুলে ধরলেও, নিরাপত্তা নিয়ে কোনও আপসে রাজি নন আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তাই মহাকাশ থেকেও আমেরিকাকে বর্ম পরিয়ে মুড়ে ফেলার ঘোষণা করলেন তিনি। ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধী ‘Golden Dome’ ক্ষেপণাস্ত্র রক্ষাকবচ প্রযুক্তি বসানোর ঘোষণা করেছেন ট্রাম্প, যা ছাতার মতো মহাকাশ থেকে আমেরিকাকে রক্ষা করবে। পৃথিবীর অন্য প্রান্ত থেকে বা মহাকাশ থেকে ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হলেও, তা ওই প্রযুক্তি তা ধরে ফেলবে বলে দাবি ট্রাম্পের। এই প্রথম মহাকাশেও প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি বসাতে চলেছে আমেরিকা। (Golden Dome Missile Shield)
মঙ্গলবার ‘Golden Dome’ প্রকল্পের ঘোষণা করেছেন ট্রাম্প। তিনি জানিয়েছেন, সবমিলিয়ে ওই প্রযুক্তি বসাতে খরচ পড়বে ১৭৫ বিলিয়ন ডলার, ভারতীয় মুদ্রায় যা প্রায় ১৫ লক্ষ কোটি টাকা। এর মধ্যে প্রথম ধাপেই ২৫ বিলিয়ন ডলার খরচ করা হবে। আগামী তিন বছরের মধ্যে ওই প্রযুক্তি চালু করার লক্ষ্য নিয়েছেন ট্রাম্প। আমেরিকাকে সব ধরনের আক্রমণ থেকে রক্ষা করতেই এমন সিদ্ধান্ত বলে জানিয়েছেন। (Donald Trump)
‘Golden Dome’ নিয়ে ট্রাম্পের বক্তব্য, “নির্বাচনী প্রচারের সময় আমেরিকার নাগরিকদের কথা দিয়েছিলাম যে অত্যাধুনিক প্রতিরক্ষা কবচ তৈরি করব। আজ অত্যন্ত আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে ওই স্থাপত্য়ের নির্বাচন হয়ে গিয়েছে। নির্মাণ সম্পন্ন হলে ‘Golden Dome’ পৃথিবীর অন্য প্রান্ত থেকে, এমনকি মহাকাশ থেকে ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্রের উপস্থিতিও ধরে ফেলবে ‘Golden Dome’. দেশকে টিকিয়ে রাখার জন্য এই প্রযুক্তি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।”
With his Golden Dome announcement today, @POTUS outlined a bold vision for layered defense to safeguard the homeland. We are ready now to support this mission with combat-proven systems and an open systems architecture that integrates the best of American technology. pic.twitter.com/vxVgiH85zA
— Lockheed Martin (@LockheedMartin) May 20, 2025
আমেরিকার Space Force General মাইকেল গেটলিনকে এই প্রকল্পে তত্ত্বাবধানের দায়িত্ব দিয়েছেন ট্রাম্প। কানাডার তরফেও প্রকল্পে আগ্রহ দেখানো হয়েছে বলে দাবি ট্রাম্পের। ট্রাম্প যদিও মোট ১৭৫ বিলিয়ন ডলার বাজেট ঘোষণা করেছেন ‘Golden Dome’-এর জন্য, আমেরিকার কংগ্রেসের অনুমান, ২০ বছরে এই প্রকল্পে ১৬১ থেকে ৫৪২ বিলিয়ন ডলার খরচ হতে পারে। ট্রাম্প জানিয়েছেন, ‘Golden Dome’ প্রযুক্তির মাধ্যমে জলে, স্থল, আকাশে প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তুলবে আমেরিকা। সেন্সর এবং ইন্টারসেপ্টরের মাধ্যমে শত্রুপক্ষের ক্ষেপণাস্ত্র ধরে ফেলা সম্ভব হবে।
পেন্টাগনের প্রধান পিট হেগসেথ জানিয়েছেন, 'Golden Dome' আসলে ভূমি ও মহাকাশ নির্ভর ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধ প্রযুক্তি, যা শত্রুপক্ষের ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্র, ড্রোন আকাশেই শনাক্ত করে ফেলবে। মাটিতে আছড়ে পড়তে না দিয়ে আকাশেই ধ্বংস করে দেওয়া হবে সেগুলিকে। জল-স্থল-আকাশ থেকে ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্র, ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র, হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র, ড্রোন, সবকিছু থেকে আমেরিকার ভূখণ্ডকে রক্ষা করতেই ‘Golden Dome’ প্রযুক্তি বসানোর সিদ্ধান্ত। ওই প্রযুক্তির মাধ্যমে পরমাণু অস্ত্রও প্রতিহত করা যাবে বলে দাবি পিটের।
ইজরায়েলের ‘Iron Dome’ প্রযুক্তির অনুকরণেই কি তাহলে আমেরিকা ‘Golden Dome’ প্রযুক্তি আনতে চলেছে? গতকাল ট্রাম্পের ঘোষণার পর থেকেই এই প্রশ্ন উঠছে। ২০১১ সালে ইজরায়েলের ‘Iron Dome’ প্রযুক্তি চালু হয়, যা ছোট পাল্লার রকেট, ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করতে সক্ষম। শত্রুর ক্ষেপণাস্ত্রকে শনাক্ত করে আকাশেই সেগুলিকে ধ্বংস করে দেয়। হামাসের সঙ্গে যুদ্ধের সময় তো বটেই, ইরানের ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্রও সম্প্রতি ঠেকিয়ে দেয় ইজরায়েলের ‘Iron Dome’।
President Trump announced the Golden Dome missile defense shield to protect the homeland from advanced missile threats.
— The White House (@WhiteHouse) May 21, 2025
Included in the One, Big, Beautiful Bill, this project aims to ensure American security. Congress must pass the bill and send it to the President’s desk. pic.twitter.com/U0gwZ9DNnV
২০২২ সালে আমেরিকার প্রতিরক্ষা সংক্রান্ত রিপোর্টে একাধিক ঝুঁকির কথা জানানো হয়। রাশিয়া এবং চিন আমেরিকার কাছে বিপদ হয়ে উঠতে পারে বলে উল্লেখ ছিল রিপোর্টে। জানানো হয়, ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের সংখ্যা আমেরিকার ঘাড়ে নিঃশ্বাস ফেলছে চিন। রাশিয়া ক্ষেপণাস্ত্র প্রযুক্তির আধুনিকীকরণে উদ্যত হয়েছে। রাশিয়া বনাম ইউক্রেন যুদ্ধে যেভাবে ড্রোনের মাধ্যমে হামলা চলেছে, তা নিয়েও সতর্কবার্তা ছিল রিপোর্টে। রাশিয়া, চিন ছাড়াও উত্তর কোরিয়া এবং ইরানের সঙ্গে আমেরিকার বৈরিতার কথা বার বার করে উল্লেখ করা হয় রিপোর্টে।
ট্রাম্প ‘Golden Dome’ প্রকল্পের ঘোষণা করায় যদিও মতপার্থক্যে ধরা পড়ছে আন্তর্জাতিক মহলে। রাশিয়া এবং চিনের মতে, মহাকাশকেও যুদ্ধক্ষেত্রে পরিণত করতে উদ্যোগী হয়ে উঠেছে আমেরিকা।






















