Himachal Pradesh Flood: ব্যাঙ্কে শাটার ভেঙে ঢুকেছে জল, ভেসে গেল টাকাপয়সা-গয়নাগাটি সব? হিমাচলে হাহাকার, লম্বা হচ্ছে মৃত্যু মিছিল
১৭৮টি বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ভেসে গিয়েছে তিন শতাধিক গোশালা। ভবিষ্যতের কথা ভেবে আতঙ্কে গোপালক ও ডেয়ারি ব্যবসায়ীরা।

সিমলা : মেঘ ভাঙা বৃষ্টি, দিকে দিকে ধস। ভয়াবহ পরিস্থিতি হিমাচল প্রদেশে। পর্যটনের রাজ্যে এখন প্রকৃতির তাণ্ডব। গত কয়েকদিনের বৃষ্টিতে কার্যত ধুয়ে গিয়েছে একের পর এক পাহাড়ি গ্রাম। ভয়ঙ্কর পরিস্থিতি শহরেও। বন্যা পরিস্থিতিতে হিমাচল প্রদেশে এখনও পর্যন্ত ৭৮ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গিয়েছে। উদ্ধারকারী দলের আশঙ্কা এই সংখ্যাটা বাড়তে পারে। প্রকৃতির তাণ্ডবে অসুস্থ ও আহত হয়েছেন শতাধিক মানুষ। ৩৭ জনের কোনও খোঁজই মিলছে না।
সরকারি সূত্রে খবর, দুর্যোগের ফলে ৫৭২ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে। রাজ্যে ২৪৩টি রাস্তা এখন বন্ধ। ২৪১টি ট্রান্সফরমার বিকল হয়ে পড়ে রয়েছে। বহু এলাকা বিদ্যুৎহীন। ২৭৮টি পানীয় জল প্রকল্পের জল সরবরাহ ব্যাহত হয়েছে। তাই পানীয় জল নিয়ে তৈরি হয়েছে সঙ্কট। হাজারে হাজারে পশুপাখি গিয়েছে ভেসে। রবিবার শুধুমাত্র উনা জেলায় ১০ হাজার হাঁস-মুরগি মারা গিয়েছে। ১৬৩টি বাড়ি সম্পূর্ণ ধূলিসাৎ হয়ে গিয়েছে। ১৭৮টি বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ভেসে গিয়েছে তিন শতাধিক গোশালা। ভবিষ্যতের কথা ভেবে আতঙ্কে গোপালক ও ডেয়ারি ব্যবসায়ীরা।
ওয়েদার অফিসের হিসেব বলছে, ২০ জুন থেকে ৬ জুলাইয়ের মধ্যেই ৭৮ জন মারা গিয়েছেন। ভূমিধস, আকস্মিক বন্যা, পরপর মেঘ ভাঙা বৃষ্টির জন্য হিমাচল প্রদেশের অবস্থা ভয়াবহ। এর ফলে কোউ মারা গিয়েছেন ডুবে, কেউ আগুনে পুড়ে, কেউ সাপের কামড়ে, কেউ তড়িদাহত হয়ে। এছাড়াও, সড়ক দুর্ঘটনায় ২৮ জন প্রাণ হারিয়েছেন এবং ৩৭ জন এখনও নিখোঁজ রয়েছেন।
ভয়াবহ ছবি সামনে এসেছে ট্যুরিস্ট স্পট মান্ডি থেকেও। সেই জেলার থুনাগ শহরে হিমাচল প্রদেশ রাজ্য সমবায় ব্যাঙ্কের অবস্থা ভয়াবহ। এই ব্যাঙ্কের শত শত গ্রাহকের কার্যত মাথায় হাত পড়ে গিয়েছে। দুই তলা ব্যাঙ্ক বিল্ডিংটির একতলা ডুবে গিয়েছে জলে। জলের তোড়ে সেখানে বেঁকে গিয়েছে শাটার। হুরহুর কর ঢুকছে জল। ভেতরে রাখা মানুষের সঞ্চয়, লকারে থাকা বহুমূল্য গয়নাগাটির কী হাল, ভেসে গিয়েছে কি না, বুঝে পাচ্ছেন না গ্রাহকরা। তাঁদের ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ সম্পর্কে স্পষ্ট কোনও তথ্য নেই।
শুধু এই মান্ডি জেলা থেকেই এখনও পর্যন্ত ১৪টি মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে । ৩০ জুনের মেঘ ভাঙা বৃষ্টিতে ২৮ জন এখনও নিখোঁজ। ভারতীয় সেনাবাহিনী, এসডিআরএফ এবং প্রশাসন একযোগে ত্রাণ ও উদ্ধার কাজ চালাচ্ছে। মান্ডিতে ২২৫টি বাড়ি এবং ২৪৩টি গোয়ালঘর সম্পূর্ণরূপে ধ্বংস হয়ে গেছে।






















