Hurricane Polo : আছড়ে পড়ল রাক্ষুসে হারিকেন, তছনছ উপকূল, বিদ্যুৎহীন বিরাট এলাকা
হারিকেন পোলো ক্যালিফোর্নিয়া উপসাগরের দিকে অগ্রসর হতে পারে। এই পথে চললে মেক্সিকোর মূল ভূখণ্ডে প্রবেশ করতে পারে ‘পোলো’।

আশঙ্কা ছিলই। অবশেষে আছড়েই পড়ল শক্তিশালী হারিকেন ‘পোলো’। আবহবিদদের হিসেব অনুসারে, ক্যাটাগরি ৩ হারিকেন এটি। সোমবার সন্ধেয় মেক্সিকোর বাজা ক্যালিফোর্নিয়া উপদ্বীপের উপর আঘাত হানে ‘পোলো’ । আছড়ে পড়ার সময় ঝড়টির সর্বোচ্চ গতি ছিল ঘণ্টায় প্রায় ১১৫ মাইল অর্থাৎ ১৮৫ কিলোমিটার । ঝড়ের ব্যাপক প্রভাব পড়েছে উপকূলে। বিরাট ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ছোট মাছ ধরার বন্দর পুয়ের্তো সান কার্লোস। সেখানে সমুদ্র বাঁধ তছনছ করে দিয়ে রাস্তায় ঢুকে পড়ে জল। ঝড়ের প্রভাবে উপকূলীয় বিভিন্ন এলাকায় বিদ্যুৎ ও ইন্টারনেট সংযোগ বিচ্ছিন্ন।
এরপর হারিকেন পোলো ক্যালিফোর্নিয়া উপসাগরের দিকে অগ্রসর হতে পারে। এই পথে চললে মেক্সিকোর মূল ভূখণ্ডে প্রবেশ করতে পারে ‘পোলো’। মঙ্গলবার সকালে দক্ষিণ সোনোরা অঞ্চলে ঝড়টি তাণ্ডব চালাতে পারে। আবহবিদদের মতে, ঝড়টির এখনও যা গতি আছে, তাতে, আকস্মিক বন্যা, বিপজ্জনক জলোচ্ছ্বাস হতে পারে। শক্তিশালী ঢেউ আছড়ে পড়তে পারে। পাহাড়ি এলাকায় হতে পারে ভূমিধস। প্রকৃতির তাণ্ডব রুখতে, মেক্সিকোর নৌবাহিনী ও প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের প্রায় ৭,০০০ কর্মী মোতায়েন করা হয়েছে। ঘরহারা মানুষদের জন্য প্রায় ১৭০টি অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্র তৈরি রেখেছে প্রশাসন।
আবহবিদরা বলছেন, স্যাটেলাইটে ধরা পড়েছে চাঞ্চল্যকর ছবি। প্রশান্ত মহাসাগরের উপর একের পর এক ঘূর্ণিঝড়ের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে । স্যাটেলাইটে ধরা পড়া ছবিতে একই সময়ে সমুদ্রের উপর তিন-তিনটি ক্রান্তীয় ঝড় তৈরির আভাস পাওয়া গিয়েছে । এর মধ্যেই একটি ছিল শক্তিশালী হারিকেন পোলো । আর বাকিগুলি এখনও পুরোদস্তুর ঝড়ে পরিণত না হলেও, ধীরে ধীরে বাড়াচ্ছে শক্তি। এখন সেই সিস্টেমগুলির পরিস্থিতি কীভাবে বদলায় সেটাই দেখার।
সুপার এল নিনো নিয়ে অনেকদিন থেকেই শঙ্কা চরমে। সারা বিশ্বের আবহাওয়া-চিত্র বদলে দিতে পারে এই সুপার এল-নিনো। প্রশান্ত মহাসাগরের উপর বায়ুমণ্ডলে এই মুহূর্তের ছবি বেশ অশান্ত। একটি ঝড়ের প্রভাব কাটতে না কাটতেই অন্য একটি সিস্টেম শক্তি বাড়াচ্ছে। তাই আগামী কয়েক মাস , বিশেষত মেক্সিকো এবং প্রশান্ত মহাসাগরের উপকূলবর্তী এলাকার জন্য গুরুত্বপূর্ণ ।
সোমবার সকালে এক সাংবাদিক বৈঠকে উপকূল এলাকার বাসিন্দাদের রাস্তায় না বেরোনোর পরামর্শ দেন। বিশেষত ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যেতে বলা হয়। যে এলাকায় ঝড়টি আঘাত হানতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে, সেখানে যাতায়াত বন্ধ রাখা হয়। অনেকগুলি বন্দরের কাজ বন্ধ রাখা হয়। পোলোর পর মেক্সিকোর দক্ষিণ-পশ্চিম উপকূলে আছড়ে পড়তে পারে ক্রান্তীয় ঝড় ব়্যাচেল। র্যাচেলের সর্বোচ্চ গতি ঘণ্টায় ৬০ মাইল (৯৬.৬ কিলোমিটার) হতে পারে।
Before You Go
Arnab Cyclone News | দক্ষিণবঙ্গের উপকূলীয় জেলাগুলিতে ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস























