India Pakistan Conflict: নিরীহ গ্রামবাসীদের টার্গেট, সীমান্তে ঘর ছাড়ছেন স্থানীয়রা
India Pakistan Tension: লড়াইয়ে ভারতের কাছে বারবার ল্যাজে-গোবরে হওয়ার পর, সীমান্তবর্তী এলাকায় এভাবেই ভারতের নিরীহ নাগরিকদের টার্গেট করেই চলেছে পাকিস্তান।

সুকান্ত মুখোপাধ্যায়, শ্রীনগর: ভারতের সঙ্গে পেরে না উঠে এবার পাকিস্তানের টার্গেটে নিরীহ নাগরিকরা। গতকাল রাত থেকে টানা LOC লাগোয়া গ্রামগুলিতে গোলাগুলি বর্ষণ করে চলেছে পাক সেনা। ইতিমধ্যে ভারতের তরফে নিয়ন্ত্রণ রেখা বরাবর গ্রাম গুলি থেকে বাসিন্দাদের সরিয়ে নিয়ে গেলেও, প্রায় ১৮-২০ কিলোমিটার দূরের জনপদগুলিকে টার্গেট করছে পাক সেনা। তবে জবাব দিয়েছে ভারতীয় সেনাও। জঙ্গি অনুপ্রবেশের চেষ্টা ব্যর্থ করে দেওয়া হয়েছে। গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে পাক সেনার ফরোয়ার্ড পোস্ট।
লড়াইয়ে ভারতের কাছে বারবার ল্যাজে-গোবরে হওয়ার পর, সীমান্তবর্তী এলাকায় এভাবেই ভারতের নিরীহ নাগরিকদের টার্গেট করেই চলেছে পাকিস্তান। সংঘর্ষ বিরতি লঙ্ঘন করে প্রতিদিন ঘণ্টার পর ঘণ্টা গোলাবর্ষণ করেই চলেছে তারা। একাধিক জায়গায় গ্রাম-জনপদকে নিশানা করছে পাক সেনা ও পাক রেঞ্জার্স। কুপওয়ারার রাউতপুরা গ্রামের অবস্থান নিয়ন্ত্রণরেখা থেকে প্রায় ১৫ কিলোমিটার দূরে। বৃহস্পতিবার রাতে এই গ্রামেই একের পর এক পাক শেল এসে পড়ে। ওই এলাকার এক বাসিন্দা বলেন, "পাকিস্তান থেকে মেরেছে। আমরা রাতে এখানে ছিলাম না। তাই প্রাণে বেঁচে গেছি। যতদিন না পরিস্থিতি স্বাভাবিক হচ্ছে, ততদিন আসা যাবে না।''
নিয়ন্ত্রণরেখা প্রায় ১৮ কিলোমিটার দূরে আরেকটি গ্রাম হল সুতিপুরা। এই এলাকা লক্ষ্য করেও বৃহস্পতিবার রাতভর হেভি আর্টিলারি ফায়ার করে পাকিস্তান। ক্ষতিগ্রস্ত হয় বাড়ি-গাড়ি। জম্মুতে ভারত-পাকিস্তান সীমান্তে ভারতের শেষ গ্রাম, সুচেতগড়। পাশেই ফেন্সিং, কাঁটাতারের ওপারে পাকিস্তানের শিয়ালকোট। দুই দেশের মধ্য়ে এই উত্তেজনার পরিস্থিতিতে গ্রামের বাসিন্দারা ঘর ছাড়ছেন।
পহেলগাঁওয়ে জঙ্গি হামলার জবাবেপাকিস্তান ও পাক অধিকৃত কাশ্মীরের ৯টি জায়গায় আঘাত হেনে একাধিক জঙ্গি ঘাঁটি গুঁড়িয়ে দিয়েছে ভারতীয় সেনা। পাল্টা হামলার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে পাকিস্তান। ভারতের সীমান্তবর্তী রাজ্যগুলিতে ড্রোন-হামলা, মিসাইল। অ্যাটাকের চেষ্টা করে পাক সেনা। ভারতীয় সেনার তৎপরতায় সবকটি হামলাই ব্যর্থ হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে রাজধানীতে নিরাপত্তা বাড়ানো হয়েছে। লাল কেল্লা, কুতুব মিনার-সহ ঐতিহাসিক সৌধগুলিতে প্রচুর পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। পাশাপাশি নজরদারি চালাচ্ছে আধাসেনাও। লালকেল্লা চত্বরে সাইরেন বাজিয়েও প্রস্তুতি নেওয়া হয়। ইন্ডিয়া গেট, কুতুব মিনার-সহ অন্যান্য ঐতিহাসিক সৌধ এবং পর্যটনস্থলগুলিতেও বাড়ানো হয়েছে নিরাপত্তা।
মুম্বই উপকূলে সতর্কতা জারি হয়েছে। সমুদ্র সৈকত থেকে লোকজনকে সরে যেতে নির্দেশ দিয়েছে প্রশাসন। স্থানীয়দেরও সমুদ্রের ধারে ঘুরে বেড়াতে নিষেধ করা হয়েছে। বাড়ানো হয়েছে সমুদ্র তীরবর্তী এলাকার নিরাপত্তা। অন্যদিকে, নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখে জম্মু-সহ উত্তর-পূর্ব ভারতের ২৮টি বিমানবন্দরে বিমান পরিষেবা বন্ধ রাখা হয়েছে।যাত্রী হয়রানি রুখতে জম্মু ও উধমপুর থেকে দিল্লি পর্যন্ত ৩টি স্পেশাল ট্রেন চালানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে ভারতীয় রেল।






















