India Buying Russian Oil: আরও কিছুদিন রাশিয়ার থেকে তেল কিনতে পারবে আমেরিকা, অনুমতি দিল আমেরিকা, তবে আগের মতো ডিসকাউন্ট মিলছে না
Russian Oil: রাশিয়ার থেকে আরও বেশ কিছু দিন তেল কিনতে পারবে ভারত। নিষেধাজ্ঞা থেকে ছাড়পত্রের মেয়াদ বৃদ্ধি করল আমেরিকা।

নয়াদিল্লি: আরও কিছুদিন রাশিয়ার কাছ থেকে তেল কিনতে পারবে ভারত। ভারত এবং অন্য দেশগুলিকে সেই মর্মে অনুমতি দিল আমেরিকা। এর আগে, নিষেধাজ্ঞা থেকে যে ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছিল, তার মেয়াদ পেরিয়ে গিয়েছিল গত ১১ এপ্রিল। নতুন করে যে ছাড়পত্র দিয়েছে আমেরিকা, তার আওতায় সাগরে ভাসমান থাকা ট্য়াঙ্কারগুলি থেকে আগামী ১৬ মে পর্যন্ত রাশিয়ার থেকে তেল কেনা যাবে। (Russian Oil)
এর আগে, চলতি সপ্তাহে আমেরিকার ট্রেজারি সচিব স্কট বেসেন্ট নিষেধাজ্ঞা থেকে ছাড়পত্র তুলে নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন। জানিয়েছিলেন, রাশিয়া এবং ইরানের কাছ থেকে তেল কিনতে যে সাময়িক অনুমতি দেওয়া হয়েছিল, তার পুনর্নবীকরণ হবে না। কিন্তু পরিস্থিতি বিবেচনা করে ছাড়পত্রের মেয়াদ বৃদ্ধি করার সিদ্ধান্ত নিল আমেরিকার ট্রেজারি বিভাগ। তবে শুধুমাত্র ভাসমান অবস্থায় থাকা ট্যাঙ্কারগুলি থেকেই রাশিয়ার তেল কেনা যাবে বলে জানানো হয়েছে। (India Buying Russian Oil)
আমেরিকার তরফে এই ছাড়পত্রের মেয়াদ বৃদ্ধি শুধুমাত্র আন্তর্জাতিক বাজারের জন্যই নয়, ভারতের জন্যও স্বস্তিজনক। ইরানের তেল কেনার ছাড়পত্রের মেয়াদ শেষ হয়ে যাচ্ছে। সেই আবহে রাশিয়ার থেকে তেল কেনা অব্যাহত থাকলে জ্বালানির ঘাটতি থাকবে না। ভারত প্রয়োজনের ৯০ শতাংশ অশোধিত তেলই বিদেশ থেকে আমদানি করে। বিশেষ করে পশ্চিম এশিয়ার তেলের উপর নির্ভরশীল ভারত। এর মধ্যে ৪০ শতাংশ তেলই হরমুজ প্রণালী হয়ে ভারতে এসে ঢোকে। আমেরিকা, ইজ়রায়েল এবং ইরানের মধ্যে যুদ্ধ চলাকালীন সেই হরমুজ অচল হয়ে গিয়েছিল, যার দরুণ জ্বালানি সঙ্কট দেখা দিয়েছিল ভারতে।
তাই রাশিয়ার থেকে আরও কিছু দিন তেল আমদানি করা গেলে সুবিধাই হবে। যদিও আগের মতো ডিসকাউন্টে তেল মিলবে না। বরং গত সপ্তাহ থেকে রাশিয়ার তেলের দাম বেড়ে গিয়েছে। ২০১৩ সালের পর রাশিয়ার তেলের দাম সর্বোচ্চে গিয়ে ঠেকেছে এইমুহূর্তে। চড়া দামে তেল কেনার ক্ষেত্রে দেশের অন্দরে মুদ্রাস্ফীতির আশঙ্কাও বাড়ছে।
আমেরিকার থেকে সাময়িক ছাড়পত্র পাওয়ার গত মাসেই রাশিয়ার কাছ থেকে ৫.৩ বিলিয়ন ইউরো (ভারতীয় মুদ্রায় ৪৭৭০০ কোটি টাকা) মূল্যের তেল কিনেছে ভারত, যা প্রায় তিন গুণেরও বেশি। আমদানিকৃত তেলের পরিমাণ যেমন বেড়েছে, তেমনই বেড়েছে সেই বাবদ খরচখরচা। ইউরোপিয়ান থিঙ্কট্যাঙ্ক সেন্টার ফর রিসার্চ অন এনার্জি অ্যান্ড ক্লিন এয়ার জানিয়েছে, মার্চ মাস থেকে লাগাতার রাশিয়ার তেল কিনে চলেছে ভারত। মাসের হিসেবে ভারতের সরকারি শোধনাগারগুলির তেল কেনায় ১৪৮ শতাংশ বৃদ্ধি চোখে পড়েছে। মার্চ মাসে রাশিয়ার তেলের দ্বিতীয় বৃহত্তম ক্রেতা ছিল ভারত (৩৮ শতাংশ)। চিন ছিল প্রথম স্থানে (৫১ শতাংশ)। ফেব্রুয়ারি মাসে চিন এবং তুরস্কের পর তৃতীয় স্থানে ছিল ভারত।
Kpler জানিয়েছে, মার্চ মাসে রাশিয়ার থেকে প্রতি দিন ১৯ লক্ষ ৮০ হাজার ব্যারেল তেল কিনেছে ভারত, ২০২৩ সালের জুন মাসের পর থেকে সর্বাধিক। এপ্রিল মাসে দৈনিক ১৫ লক্ষ ৭০ হাজার ব্যারেল তেল কেনা হয়। এর জন্য যদিও তৈল শোধনাগার Nayara-র রক্ষণাবেক্ষণের কাজকে দায়ী করা হচ্ছে।
ইউক্রেনের সঙ্গে যুদ্ধচলাকালীন রাশিয়ার থেকে ডিসকাউন্টে তেল কেনার দরুণই ভারতের উপর গত বছর ২৫ শতাংশ শুল্ক চাপিয়েছিলেন আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে আমেরিকা, ইজ়রায়েল এবং ইরানের মধ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতি দেখা দেওয়ায় জ্বালানি সঙ্কট দেখা দিয়েছে। সেই পরিস্থিতিতে নিষেধাজ্ঞা থেকে সাময়িক ছাড় দিয়েছে আমেরিকা।























