Trump New Tariff's: ট্রাম্পের শুল্ক নীতি হুঁশিয়ারিতে ভারতে চরম প্রভাব! আকাশছোঁয়া দাম হবে মাংস-চিনি-মদের?
Price Hike: দেশের মোট পণ্য রপ্তানির প্রায় ১৮ শতাংশ, আমদানিতে ৬.২২ শতাংশ এবং দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যে ১০.৭৩ শতাংশে আমেরিকার অবদান রয়েছে।

নয়া দিল্লি: মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এক এক করে সব দেশের পণ্যে শুল্ক আরোপের ঘোষণার জেরে এবার বড় প্রভাব পড়তে চলেছে ভারতে। এরই মধ্যে বৈশ্বিক শেয়ারবাজারেও এর প্রভাব পড়তে শুরু করেছে। শুল্ক বৃদ্ধির প্রভাবে বিশেষ করে বৃহৎ বহুজাতিক কোম্পানিগুলোর বিক্রি ও মুনাফায় সরাসরি প্রভাব পড়বে এমন আশঙ্কায় তাদের শেয়ারের দর পড়ে যাচ্ছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পারস্পরিক শুল্ক আরোপের সময়সীমা যত এগিয়ে আসছে, ততই বাড়ছে চিন্তার মেঘ। মার্চ মাসের শুরুতে এই নীতির কথা ঘোষণা করেছিলেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বুধবার ২ এপ্রিল রোজ গার্ডেনে একটি সাংবাদিক সম্মেলনের মাধ্যমে 'পারস্পরিক শুল্ক'-এর হার ঘোষণা করবেন ট্রাম্প। ট্রাম্পের এই ঘোষণার ফলে বিশ্বব্যাপী অস্থিরতার ঝুঁকি তৈরি হবে, এমনটাই মত ওয়াকিবহাল মহলের।
২০২১-২২ থেকে ২০২৩-২৪ অর্থবর্ষ পর্যন্ত আমেরিকার সবচেয়ে বড় বাণিজ্যসঙ্গী ছিল ভারত। দেশের মোট পণ্য রপ্তানির প্রায় ১৮ শতাংশ, আমদানিতে ৬.২২ শতাংশ এবং দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যে ১০.৭৩ শতাংশে আমেরিকার অবদান রয়েছে। অ্যালকোহল, ওয়াইন- এই ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ১২২.১০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হতে পারে। যদিও যদিও রপ্তানি মাত্র ১৯.২০ মিলিয়ন ডলারের। দুগ্ধজাত পণ্যে ৩৮.২৩ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হতে পারে। এর ফলে ১৮১.৪৯ মিলিয়ন ডলারের বাণিজ্য মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। ঘি, মাখন এবং গুঁড়ো দুধের দাম বৃদ্ধি পাবে। যার ফলে আমেরিকার বাজারে ভারতীয় পণ্যে অংশীদারিত্ব হ্রাস পাবে।
মাছ, মাংস এবং প্রক্রিয়াজাত খাদ্যের ক্ষেত্রে ২.৫৮ বিলিয়ন ডলারের রপ্তানি পণ্যের উপর ২৭.৮৩ শতাংশ শুল্ক চাপানো হতে পারে। প্রধান রপ্তানি পণ্য হিসেবে চিংড়ির বাজারের দখল কমার সম্ভাবনা রয়েছে। জীবন্ত প্রাণী এবং পশুজাত পণ্যের ক্ষেত্রে ১০.৩১ মিলিয়ন মার্কিন ডলার রপ্তানির উপর ২৭.৭৫ শতাংশ শুল্ক চাপানো হতে পারে। প্রক্রিয়াজাত খাবার, চিনি এবং কোকো: ২৪.৯৯ শতাংশ শুল্ক বৃদ্ধির ফলে ১.০৩ বিলিয়ন ডলারের রপ্তানিও সমস্যার সম্মুখীন হবে। এর ফলে আমেরিকায় ভারতীয় খাবার এবং মিষ্টি দাম বৃদ্ধি পাবে।
হিরে, সোনা এবং রুপো ১১.৮৮ বিলিয়ন ডলারের রপ্তানি হয়। এই ক্ষেত্রে ১৩.৩২ শতাংশ শুল্ক বৃদ্ধি করা হতে পারে। এর ফলে গয়নার দাম বৃদ্ধি পাবে এবং আমেরিকার বাজারে ভারতীয় পণ্যের চাহিদা হ্রাস পাবে। ওষুধ খাতে ১০.৯০ শতাংশ শুল্ক বৃদ্ধি করা হতে পারে। যার ফলে জেনেরিক ওষুধ এবং বিশেষ কিছু ওষুধের দাম বৃদ্ধি পেতে পারে। ভোজ্য তেল ক্ষেত্রে ১০.৬৭ শতাংশ শুল্ক আরোপ হতে পারে। এর ফলে নারকেল এবং সর্ষের তেলের দাম বৃদ্ধি পাবে।
যদিও এই যুক্তি মানতে রাজি নয় জাপানি সংস্থা নোমুরা। তাদের রিপোর্ট অনুযায়ী, ট্রাম্পের ‘পারস্পরিক শুল্ক’ নীতির ফলে এশিয়ার দেশগুলির মধ্যে ভারতই একমাত্র কম ঝুঁকির জায়গায় দাঁড়িয়ে রয়েছে। কারণ, এর ফলে নয়াদিল্লির সামনে গোটা ইউরোপের বাজার খুলে যাওয়ার সুযোগ তৈরি হচ্ছে।






















