Kashmir Terror Attack: পর্যটন বাড়তেই রাগ সন্ত্রাসবাদীদের! জঙ্গি হামলার নেপথ্যে কী কারণ?
Kashmir News: ধর্ম জানার পর পয়েন্ট ব্ল্য়াঙ্ক রেঞ্জ থেকে হত্য়া, নির্বিচারে গুলি চালিয়ে একের পর এক খুন। কাশ্মীরে সন্ত্রাসের নামে হিনদু গণহত্য়া চালাল জঙ্গিরা।

কলকাতা: হু-হু করে বাড়ছিল দেশি-বিদেশি পর্যটকের সংখ্য়া (Kashmir Terror Attack)। ফুলে-ফেঁপে উঠছিল অর্থনীতি। ভরসা ফিরে পাচ্ছিলেন ভূস্বর্গের বাসিন্দারা। বিশেষজ্ঞদের মতে, এতেই সিঁদুরে মেঘ দেখছিল সন্ত্রাসের কারবারিরা। সে কারণেই কাশ্মীরের কোমরে আঘাত করল তারা। আমরা যাতে ভিক্ষে করি, তার জন্য তারা পর্যটনকে ধ্বংস করতে চাইছে- অভিযোগ উপত্যকার বাসিন্দাদের।
ধর্ম জানার পর পয়েন্ট ব্ল্য়াঙ্ক রেঞ্জ থেকে হত্য়া, নির্বিচারে গুলি চালিয়ে একের পর এক খুন। কাশ্মীরে সন্ত্রাসের নামে হিনদু গণহত্য়া চালাল জঙ্গিরা। বেছে বেছে পর্যটকদের হত্য়া করে কাশ্মীরের অর্থনীতির ভিত্তিকে ভেঙে দিতে চাইল তারা। কাশ্মীরের অর্থনীতির মূল ভিত্তিই হল পর্যটন। পরিসংখ্য়ান বলছে, গত কয়েক বছরে হু হু করে বাড়ছিল কাশ্মীরে পর্যটকের সংখ্য়া। জম্মু কাশ্মীর সরকার সরকার সূত্রে খবর, ২০২১ সালে পর্যটকের সংখ্য়া ছিল ১ কোটি ১৩ লক্ষ। ২০২২ সালে তা বেড়ে হয় ১ কোটি ৮৯ লক্ষ। ২০২৩ সালে তা আরও বেড়ে হয় ২ কোটি ১১ লক্ষ। ২০২৪ সালে ছিল ২ কোটি ৩৫ লক্ষ। আর এই পর্যটকদের ভীত-সন্ত্রস্ত করে কাশ্মীরের থেকে মুখ ফিরিয়ে নিতে বাধ্য় করাই জঙ্গিদের অন্য়তম প্রধান লক্ষ্য়। এই জঙ্গি হামলা যে তাঁদের রুজি-রুটি কার্যত বন্ধ করে দিল তা হাড়েহাড়ে টের পাচ্ছেন কাশ্মীরে পর্যটনের সঙ্গে জড়িত লোকজন।
অর্থনীতি জোরদার হওয়ার ফলে তরুণ-যুবকদের নিজেদের টানতে ব্য়র্থ হচ্ছিল জঙ্গিরা। তাই কি পর্যটনের মূলে আঘাত হানার চেষ্টা করল তারা? ডাল লেকের শিকারা... বরফ ঢাকা হাসিন ওয়াদিয়া, বার বার হাতছানি দেয় পর্যটকদের। কিন্তু ফের কালো মেঘে ঢাকা পড়ল কাশ্মীরের পর্যটন-ভবিষ্যৎ। শ্রীনগরের এক হাউসবোট মালিক বলেন, "আমরা যাতে ভিক্ষে করি, তার জন্য তারা পর্যটনকে ধ্বংস করতে চাইছে। এখানে পর্যটনের ওপরও আমরা নির্ভরশীল। পর্যটন শিল্পের শিরদাঁড়া ভেঙে দিতে এই ঘটনা ঘটানো হয়েছে। আমরা বাংলার পর্যটকদের অনুরোধ করব, কাশ্মীর ট্যুর বাতিল করবেন না।''
মঙ্গলবার দুপুরে, কাশ্মীরের পহেলগাঁওয়ে সন্ত্রাসবাদীদের হাতে ২৫ জন হিনদু পর্যটকের মৃত্যুর পর থেকেই ক্ষোভে ফুঁসছে গোটা দেশ। এই ঘটনার জন্য় যারা দায়ী খুব শিগগিরই তারা যোগ্য় জবাব পাবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং। আর, এরপরই কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার নিরাপত্তা সংক্রান্ত কমিটি বা CCS-এর বৈঠকের পর এল সেই জবাব। পাঁচ দিক থেকে পাকিস্তানকে প্রত্যাঘাত করল ভারত। স্থগিত করা হল ১৯৬০-র সিন্ধু জল চুক্তি। বন্ধ করে দেওয়া হল আটারি-ওয়াঘা সীমান্ত। বাতিল করা হল পাকিস্তানের নাগরিকদের দেওয়া সার্ক ভিস। বিদেশি সচিব বিক্রম মিশ্রি জানিয়েছেন, "সিন্ধু জলবণ্টন চুক্তি ( ১৯৬০) অবিলম্বে স্থগিত করা হল, যতক্ষণ না পর্যন্ত পাকিস্তান সীমান্ত পারে সন্ত্রাসে মদত দেওয়া বন্ধ করছে। আটারি চেক পোস্ট অবিলম্বে বন্ধ করা হল। যারা উপযুক্ত অনুমোদন নিয়ে প্রবেশ করেছেন, তারা ১ মে ২০২৫ এর মধ্য়ে ফিরে যাবেন। তৃতীয়, পাকিস্তানের নাগরিকদের ভারত ভ্রমণ বাতিল করা হল। পাকিস্তানি নাগরিক যারা ভিসা নিয়ে রয়েছেন, তাদের ৪৮ ঘণ্টার মধ্য়ে ভারত ছাড়তে বলা হচ্ছে।''






















