Kerala State Name Change: ভাষাগত পরিচিতিকেই অগ্রাধিকার, কেরলের নামবদলে সায় কেন্দ্রের, পশ্চিমবঙ্গ এখনও ‘বাংলা’ হল না
Kerala Name Change: কেরলের নাম পাল্টে ‘কেরলম’ করা নিয়ে মঙ্গলবার কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার বৈঠক বসছে।

তিরুঅনন্তপুরম: দাবি উঠছিল বহুদিন ধরেই। এবার নাম পাল্টে যাচ্ছে দক্ষিণের রাজ্য় কেরলের। কেরলের নাম পাল্টে ‘কেরলম’ করার প্রস্তাবে সায় দিয়ে দিল কেন্দ্রের নরেন্দ্র মোদি সরকার। কেরল বিধানসভায় নাম পরিবর্তনের সপক্ষে ইতিমধ্যেই প্রস্তাব পাস হয়ে গিয়েছিল। আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের আগে কেরলের নাম পরিবর্তনের প্রস্তাবে অনুমোদন দিল কেন্দ্রীয় সরকারও। (Kerala Name Change)
কেরলের নাম পাল্টে ‘কেরলম’ করা নিয়ে মঙ্গলবার কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার বৈঠক বসে। সেই বৈঠকেই প্রস্তাবে সায় মিলল। 'সেবা তীর্থ'-য় কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার প্রথম বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত গৃহীত হল। এবার কেরল বিধানসভায় বিল পাঠাবেন রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু। মঙ্গলবার একথা জানালেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব। (Kerala State Name Change)
চলতি বছরের মে মাসে কেরলে বিধানসভা নির্বাচন। তার আগে রাজ্যের নাম পরিবর্তনে যে সায় মিলল, তা পিনারাই বিজয়ন সরকারের সাফল্য হিসেবে গণ্য হবে যেমন, আবার বিজেপি-ও তার ডিভিডেন্ড ঘরে তুলতে পারে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। ১৪০ সদস্য় কেরল বিধানসভা নির্বাচনের দিন ক্ষণ এখনও ঘোষণা হয়নি।
২০২৪ সালে কেরলের নাম পাল্টে ‘কেরলম’ করতে বিধানসভায় প্রস্তাব পেশ করেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী বিজয়ন। সংবিধানের অষ্টম তফসিল-সহ সমস্ত ভাষাতেই কেরলের নাম পাল্টে ‘কেরলম’ করার সপক্ষে সওয়াল করেন তিনি। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের তরফে সেই সময় কিছু প্রযুক্তিগত পরিবর্তন ঘটানোর পরামর্শ দেওয়া হয়। এর পর ২০২৪ সালের ২৫ জুন দ্বিতীয় বারের জন্য কেরল বিধানসভায় রাজ্যের নাম পরিবর্তনের সেই প্রস্তাব পাস হয়।
বিজয়ন জানিয়েছেন, মলয়ালি ভাষায় রাজ্যের নাম ‘কেরলম’ই। মলয়ালি ভাষী কেরলের সমস্ত নাগরিকদের একসুতোয় বাঁধতেই নাম পরিবর্তন জরুরি। ঐক্যবদ্ধ ‘কেরলম’ গঠনের দাবি আজকের নয়, বরং স্বাধীনতা আন্দোলনের সময় থেকেই ওই দাবি উঠছিল বলে জানান তিনি। সেই দাবি মেনেই কেন্দ্র কেরলের নাম পাল্টে ‘কেরলম’ করায় সায় দিল।
২০২৩ সালেও কেরল বিধানসভায় রাজ্যের নাম পরিবর্তনের প্রস্তাব পাস হয়েছিল। কিন্তু সেই সময় কেন্দ্রের অনুমোদন মেলেনি। ১৯২০ সাল নাগাদ ‘ঐক্য কেরলম’ আন্দোলনের সূচনা দক্ষিণের রাজ্যটিতে। মলয়ালি ভাষী মানুষকে সামনে রেখে পৃথক রাজ্য গঠনের দাবি ওঠে। ১৯৫৬ সালে মলয়ালি ভাষীদের রাজ্য শেষ পর্যন্ত গড়ে ওঠে যদিও। কিন্তু মলয়ালি ভাষায় ‘কেরলমে’র পরিবর্তে সংবিধানের অষ্টম তফসিলে রাজ্যের নাম হিসেবে জায়গা পায় কেরলই।
কিন্তু রাজ্যের নাম ‘কেরলম’ রাখা নিয়ে এত জোর সওয়াল কেন? এর নেপথ্যেও রয়েছে দীর্ঘ ইতিহাস। কেউ কেউ ‘কেরা’ রাজবংশ (Chera Dynasty)-র কথা উল্লেখ করেন। আবার নারকেলের রাজ্য ‘Kera Alam’ বোঝাতেও এমন নামকরণ বলে তত্ত্ব শোনা যায়। যে ‘কেরা রাজবংশে’র উল্লেখ পাওয়া যায়, একময় কেরল-সহ তামিলনাড়ুও তাদের শাসনাধীন ছিল। পরবর্তীতে মলয়ালি ভাষীদের নিজস্ব ভাষাগত পরিচিতি, নিজস্ব সংস্কৃতি গড়ে ওঠে।
কেরলের নাম পরিবর্তনের এই দাবি নতুন নয় মোটেই। ২০১০ সালে রাজ্যের তদানীন্তন মুখ্যমন্ত্রী ভিএস অচুতানন্দনও কেরলের পরিবর্তে রাজ্যের নাম ‘কেরলম’ করার দাবি তোলেন। সেই সময় প্রস্তাবটি পাস করানো যায়নি। কোনও রাজ্যের নাম পরিবর্তনের ক্ষেত্রে সংসদের অনুমোদন জরুরি। ২০১১ সালে Orissa-র নাম পাল্টে Odisha করা হয়। পশ্চিমবঙ্গের তরফেও ২০১১ এবং ২০১৬ সালে রাজ্যের নাম পশ্চিমবঙ্গ থেকে পাল্টে শুধুমাত্র ‘বাংলা’ করার প্রস্তাব দেওয়া হয়। কিন্তু ২০২০ সালে কেন্দ্রীয় সরকার সেই প্রস্তাব প্রত্য়াখ্যান করে।
























