Bangladesh News: 'তৃণমূল স্তর পর্যন্ত কর্মী রয়েছে, চাইলে বাংলাদেশের রাজনীতি বদলে দিতে পারেন তারেক রহমান', মত অধ্যাপক কুশলবরণ চক্রবর্তীর
Tarique Rahman: অস্থির পরিস্থিতিতে ১৭ বছর পর বাংলাদেশে পা রেখেছেন প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার ছেলে তারেক রহমান। বৃহস্পতিবার দেশে ফিরেই ঢাকায় জনসভা করেছেন BNP-র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান

কলকাতা: একের পর এক হিন্দু খুন, বোমাবাজি... বিরোধী দলের নেতা-কর্মীদের বাড়িতে আগুন.. ভাঙচুর..সাধারণ নির্বাচনের আগে হিংসার আগুনে কার্যত জ্বলছে বাংলাদেশ। এই অস্থির পরিস্থিতিতে ১৭ বছর পর বাংলাদেশে পা রেখেছেন প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার ছেলে তারেক রহমান। বৃহস্পতিবার দেশে ফিরেই ঢাকায় জনসভা করেছেন BNP-র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান। সেই সভায় তিনি বলেছেন, 'আমার দেশের মানুষের জন্য, দেশের জন্য আমরা একটা পরিকল্পনা আছে। যদি সেই পরিকল্পনা, সেই কার্যক্রম, সেই পরিকল্পনাকে বাস্তবায়ন করতে হয়, গণতন্ত্রের শক্তি যত মানুষ উপস্থিত আছেন, প্রত্যেকটি মানুষের সহযোগিতা আমার লাগবে।'
২০২৬-এর ১২ ফেব্রুয়ারি, বাংলাদেশে সাধারণ নির্বাচন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, বাংলাদেশের অস্থির পরিস্থিতি, তারেকের প্রত্যাবর্তন, আওয়ামি লিগের উপর নিষেধাজ্ঞা- এই তিন সমীকরণই বড় ফ্যাক্টর BNP-র কাছে। এই প্রেক্ষাপটে ফের অডিও বার্তা দিলেন বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। একটি অডিও বার্তায় শেখ হাসিনা বলেছেন, 'নির্বাচনের নামে একটা প্রহসন করতে যাচ্ছে। যেখানে আওয়ামি লিগের প্রায় ৫০% আমাদের ভোট। এদেরকে বাদ রেখে কার ভোট করতে চায় তারা? ইউনূসের মতো ফ্যাসিস্ট, দুর্নীতিবাজ, জঙ্গি, ইউনূসকে ক্ষমতা থেকে হঠিয়ে, যুদ্ধপরাধীদের এই লম্ফঝম্প থেকে দেশকে মুক্ত করে বাংলাদেশের স্বাধীনতার চেতনা এবং স্বাধীনতার সুফল জনগণের ঘরে ঘরে পৌঁছতে হবে'
অন্যদিকে, খালেদাপুত্রের সমালোচনায় সরব হয়েছেন সাহিত্যিক তসলিমা নাসরিন। সোশাল মিডিয়ায় তিনি লিখেছেন, 'তারেক জিয়া একটি বিখ্যাত উক্তি উল্লেখ করেছেন- “I have a dream”। ১৯৬৩ সালে, লিঙ্কন মেমোরিয়ালে ২ লক্ষ ৫০ হাজার মানুষের সামনে দেওয়া ঐতিহাসিক ভাষণে মার্টিন লুথার কিং জুনিয়র বলেছিলেন, “I have a dream”। সেই স্বপ্ন ছিল সাম্যের, এমন এক পৃথিবীর স্বপ্ন, যেখানে মানুষের মধ্যে কোনও বৈষম্য থাকবে না। তারেক জিয়া কতটা বৈষম্যহীন সমাজ গড়ে তুলতে পারবেন, বা আদৌ সে চেষ্টা করবেন কি? আমি তা মনে করি না। আমরা আগেও নিখুঁত পরিকল্পনা দেখেছি। আশা করি, তারেকের পরিকল্পনা সেগুলোর চেয়েও বিপজ্জনক কিছু হবে না'
এই প্রসঙ্গে, এবিপি আনন্দকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক কুশলবরণ চক্রবর্তী বলছেন, 'তারেক রহমান বাংলাদেশে ১৭ বছর পরে ফিরলেন। তারেক রহমান এর আগেও বার্তা দিয়েছেন যে তিনি সব স্তরের, সমস্ত পেশার মানুষকে একসঙ্গে নিয়ে রাজনীতি করতে চান। এটা ইতিহাসিক সত্য যে, BNP-তে সংখ্যালঘু সম্প্রদায় নিজেদের নিরাপদ বলে মনে করেন না। তবে তারেক রহমান যদি সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মন জয়ের চেষ্টা করেন, তাহলে বাংলাদেশের রাজনীতিতে সেটা বড় পরিবর্তন আনতে পারে।'
কিন্তু বর্তমানে বাংলাদেশের যে পরিস্থিতি, সেটা তারেক রহমানের পক্ষে কতটা বদলানো সম্ভব? কুশলবরণ চক্রবর্তী বলছেন, 'তিনি করতে পারবেন কারণ একেবারে তৃণমূল স্তরে তাঁর কর্মীরা হয়েছেন ও দলের একটি খাঁচা রয়েছে। তারেক রহমান দূরে থেকে সংগঠন চালানো আর বাংলাদেশে থেকে সংগঠন চালানোর মধ্যে একটা পার্থক্য রয়েছে। বাংলাদেশে তারেক রহমান থেকে সংগঠন চালালে তা BNP-র মধ্যে প্রাণ আনবে বলেই আমার বিশ্বাস। সেটা তৃণমূল স্তরে ছড়িয়ে পড়বে। BNP যদি চায় মৌলবাদী শক্তির বিরুদ্ধে কথা বলবে, সেটা সম্ভব আর সেটা একেবারে শিকড় পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়তে পারে। আমরা বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে দেখেছি, রাজাকার শব্দটাই ব্যবহার করা যাবে না। রাজাকার শব্দটা বললেই আক্রমণ করা হচ্ছিল। কিন্তু এখন দেখছি ৭১-এ যারা রাজাকার ছিল তাঁদের ছবি আঁকছেন, ঘৃণা প্রদর্শন করছেন।'
তারেক রহমানের বাংলাদেশ আসা প্রসঙ্গে রাজীব ভাটিয়া বলছেন, 'তারেক রহমান আর তাঁর বাবা মা সম্পর্কে আমরা যতটুকু জানি, আমরা মনে করি ওঁর প্রত্যাবর্তন বাংলাদেশের রাজনীতির জন্য ভাল কিছু হতে পারে। উনি বাংলাদেশ নিয়ে কী ভাবছেন, সেটা উনি অনেক সময়েই বলেছেন। উনি যে শান্তিপূর্ণ বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখছেন, আমরা সেটার প্রত্যাশা করি।'
এই পরিস্থিতি কী বদলাতে পারবেন তারকে রহমান?






















