Mobile Ban : মেয়েদের জন্য নিষিদ্ধ মোবাইল-ইন্টারনেট ! ব্যবহার করা যাবে বড়জোর কি-প্যাড মোবাইল, ভারতেই ১৫ জেলায় কড়া নির্দেশ
১৫ টি গ্রামে তরুণী ও বউদের জন্য নিষিদ্ধ করা হল ক্য়ামেরাযুক্ত মোবাইল ফোন। ইন্টারনেট কানেকশনযুক্ত ফোনই ব্যবহার করতে পারবেন না তাঁরা।

নয়াদিল্লি: ২১ শতকে এ কোন কানুন ! যেখানে সারা দেশ ছুটছে ডিজিটাইজেশনের লক্ষ্যে। ভারত সরকার ব্যস্ত 'ডিজিটাল ইন্ডিয়া'র প্রমোশনে। নরেন্দ্র মোদির সরকার স্বপ্ন দেশছে ২০৪৭ সালের মধ্যে বিকশিত ভারত গড়ে তোলার। সেখানে ভারতেই এক রাজ্যের ১৫ টি জেলায় লাগু করা হচ্ছে এক আশ্চর্য নিয়ম। যা একেবারেই মহিলাদের জন্য । মহিলাদের নিয়ন্ত্রণ করার জন্য । প্রজাতন্ত্র দিবস থেকে রাজস্থানের জালোর জেলার ১৫ টি গ্রামে তরুণী ও বউদের জন্য নিষিদ্ধ করা হল ক্য়ামেরাযুক্ত মোবাইল ফোন। ইন্টারনেট কানেকশনযুক্ত ফোনই ব্যবহার করতে পারবেন না তাঁরা।
সামাজিক অনুষ্ঠান এমনকী ঘরের বাইরে গেলেও নিয়ে যাওয়া যাবে না মোবাইল ফোন। বাড়ির মেয়ে-বউরা শুধুই ব্যবহার করবে কিপ্যাড যুক্ত, ইন্টারনেট সংযোগ করা যায় না এমন ফোন। অর্থাৎ অ্যানড্রয়েড বা আইওস যুক্ত ফোন থেকে যোজন-যোজন দূরে রাখা হবে মেয়েদের। রবিবার গাজীপুর গ্রামে চৌধরি সম্প্রদায়ের একটি সভায় এই নির্দেশ দেন বেশ কয়েকটি মহকুমা-র সভাপতি সুজনরাম চৌধরী। পাশাপাশি এও বলা হয়েছে যে, স্কুলে পড়াশোনার জন্য মেয়েদের মোবাইল দিতেই হয়। কিন্তু সেটা তাঁরা শুধুমাত্র ঘরেই ব্যবহার করতে পারবে।
বাড়ির বউদের কিন্তু সেটুকি ছাড়ও নেই। বউদের নির্দেশ, ঘরের চার দেওয়ালের মধ্য়ে মোবাইল ব্যবহার করা যেতে পারে। তবে সেটা হতে হবে কি-প্যাডযুক্ত ইন্টারনেট কানেকশন ছাড়া মোবাইল। কোনও ক্য়ামেরা থাকলে চলবে না। এমনকী, কোনও বিয়ে-সামাজিক অনুষ্ঠান এবং প্রতিবেশীদের বাড়িতেও মেয়েরা ফোন নিয়ে যেতে পারবেন না।
নয়া এই নির্দেশিকা ঘিরে শুরু হয়েছে বিতর্ক। যদিও এর সাফাই দিতে গিয়ে সুজনরাম চৌধরী দাবি করেছেন,অনেক মহিলা বাড়ির কাজ নির্বিঘ্নে করার জন্য শিশুদের হাতে মোবাইল তুলে দেন। ফলে প্রায়শই শিশুরা বাড়ির মহিলাদের মোবাইল ব্যবহার করে। এর ফলে ছোটদের চোখের উপরে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। তা ঠেকানোর জন্যই এই নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কিন্তু এ নির্দেশ তাহলে মহিলাদের জন্যই কেন, কেনই বা তারা বাড়ির বাইরে মোবাইল নিয়ে যেতে পারবেন না, জরুরি প্রয়োজনে মোবাইল ব্যবহার করতে পারবেন না, তার ব্যাখ্যা দেয়নি পঞ্চায়েত। বর্তমানে যেখানে সারা বিশ্বের বেশির ভাগ অঞ্চলই নির্ভর করে আছে ইন্টারনেটের উপর , সেখানে মহিলাদের কেনই বা বঞ্চিত করা হবে, এ বিষয়ে মেয়েরাই বা কী ভাবছেন, তা নিয়ে কোনও আলোচনা হয়নি। মনে করা হচ্ছে, এক তরফাভাবেই মেয়েদের উপর এই সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে।






















