এক্সপ্লোর
তিন তালাক মামলায় আগামীকাল রায় ঘোষণা সুপ্রিম কোর্টে

নয়াদিল্লি: তিন তালাক মামলায় আগামীকাল রায় দেবে সুপ্রিম কোর্ট। ইসলামে তিন তালাক ধর্মের ‘অবিচ্ছেদ্য,মৌলিক’ অঙ্গ কিনা, সে বিষয়ে আগামীকাল সিদ্ধান্ত জানাবে সর্বোচ্চ আদালত। গ্রীষ্মকালীন অবকাশে টানা ছয়দিনের ম্যারাথন শুনানির শেষে গত ১৮ মে এই মামলার রায়দান স্থগিত রেখেছিল প্রধান বিচারপতি জে এস খেহরের নেতৃত্বাধীন পাঁচ বিচারপতির সাংবিধানিক বেঞ্চ। শুনানির সময় আদালত জানিয়েছিল যে, বহুগামিতার বিষয়টি এই মামলায় বিবেচনা করা নাও হতে পারে। মুসলিম ধর্মে তিন তালাক অবিচ্ছেদ্য মৌলিক অধিকার কিনা, শুধুমাত্র এই বিষয়টিই খতিয়ে দেখা হবে। প্রধান বিচারপতি ছাড়াও এই বেঞ্চে রয়েছেন বিচারপতি কুরিয়েন জোসেফ, বিচারপতি আরএফ নরিম্যান, ইউইউ ললিত এবং এস আব্দুল নাজির। বিভিন্ন ধর্মাবলম্বী বিচারপতিদের নিয়ে গঠিত হয়েছে এই বেঞ্চ। তিন তালাক প্রথা সম্পর্কে সাতটি আবেদনের শুনানি হয়েছে আদালতে। এরমধ্যে পাঁচটি দায়ের করেছেম মুসলিম মহিলারা। তাঁরা তাঁদের আর্জিতে তিন তালাক প্রথাকে চ্যালেঞ্জ জানিয়েছেন। শুনানির সময় আদালত পর্যবেক্ষণে বিবাহবিচ্ছেদের জন্য মুসলিম সমাজে প্রচলিত তিন তালাক প্রথা ‘জঘন্য’ বলেও মন্তব্য করে। বিবাহবিচ্ছেদের এ ধরনের প্রথা আদৌ ‘কাঙ্খিত নয়’ বলেও মন্তব্য করেছিল আদালত। যদিও মুসলিম সম্প্রদায়ের বিভিন্ন মহলে ওই প্রথাকে বৈধ বলে দাবি করা হয়। রাম জেঠমালানি সহ বিশিষ্ট আইনজীবীরা তাঁদের সওয়ালে সমতার অধিকার সহ সাংবিধানের বিভিন্ন ধারার পরিপ্রেক্ষিতে এই প্রথা বন্ধের পক্ষে সওয়াল করেন। আদালতে যুক্তি দেওয়া হয় যে, তিন তালাক প্রথা লিঙ্গ বৈষম্যের সামিল। পবিত্র কোরানের শিক্ষার সঙ্গেও সঙ্গতিপূর্ণ নয়। কেন্দ্রর পক্ষ থেকে জানানো হয়, সর্বোচ্চ আদালত তিন তালাক অবৈধ ও অসাংবিধানিক ঘোষণা করলে তারা মুসলিমদের বিবাহ ও বিবাহবিচ্ছেদ সংক্রান্ত নতুন আইন প্রনয়ণ করবে। কেন্দ্র তিন তালাক প্রথার বিরোধিতা করে একে ‘একতরফা’ ও ‘বিচারবিভাগবহির্ভূত’ বলে মন্তব্য করে। কেন্দ্র আরও বলে, সমস্ত পার্সোনাল ল-এরই সংবিধানের সঙ্গে সামঞ্জস্য থাকা উচিত। কেন্দ্রর পক্ষ থেকে আরও যুক্তি দেওয়া হয় যে, তিন তালাক ইসলামের অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ নয়। এটি সংখ্যাগরু বনাম সংখ্যালঘু সংক্রান্ত কোনও ইস্যুও নয়। এটা মুসলিম পুরুষ ও বঞ্চিত মহিলাদের মধ্যে সংঘাত। অল ইন্ডিয়া মুসলিম পার্সোনাল ল বোর্ডের পক্ষে সওয়াল করতে গিয়ে প্রবীণ আইনজীবী কপিল সিব্বল বলেন, তিন তালাক আসলে একটি বিশ্বাসের ব্যাপার৷ সেখানে কোনও সাংবিধানিক নৈতিকতার প্রশ্ন নেই৷ অযোধ্যায় রামের জন্মও যেমন বিশ্বাসের ব্যাপার, ঠিক সেরকমই তিন তালাকও একটি সম্প্রদায়ের বিশ্বাস বলে মনে করা হয়৷ তিনি বলেন, ৬৩৭ খ্রীস্টাব্দ থেকে এই প্রথা প্রচলিত রয়েছে। একে কোনওভাবেই অ-ইসলামি বলা যায় না। এই বিষয়ে আদালতের হস্তক্ষেপ বাঞ্ছনীয় নয় বলেই দাবি করেছিল মুসলিম বোর্ড৷ মুসলিম সম্প্রদায় নিজেই এর সমাধান খুঁজে বের করতে পারবে বলেও জানানো হয়েছিল৷
খবর (News) লেটেস্ট খবর এবং আপডেট জানার জন্য দেখুন এবিপি লাইভ। ব্রেকিং নিউজ এবং ডেলি শিরোনাম দেখতে চোখ রাখুন এবিপি আনন্দ লাইভ টিভিতে
আরও পড়ুন






















