Nitin Gadkari : 'নতুন প্রজন্মকে দায়িত্ব দিয়ে আমাদের এবার ধীরে ধীরে অবসর নেওয়া উচিত', এবার জল্পনা উস্কালেন গডকড়ী
BJP News : নাগপুরে একটি অনুষ্ঠান উপলক্ষে সাংবাদিক বৈঠক করছিলেন বছর ৬৮-র নিতিন।

নাগপুর : অবসরের বয়স নিয়ে সাম্প্রতিক সময়ে জোর চর্চা হয়েছে জাতীয় রাজনীতিতে। বয়সের দরুণ লালকৃষ্ণ আডবানি, মুরলি মনোহর জোশীদের সরতে হলে, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি কেন সরবেন না, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলছিলেন অনেকেই। সেই নিয়ে বিতর্ক যখন তুঙ্গে, আগুনে ঘি ঢেলেছিল মোহন ভাগবতের একটি মন্তব্য। তাঁর বক্তব্য় ছিল, 'বয়স ৭৫ হলে থেমে যাওয়া উচিত'। পরে অবশ্য তা নিয়ে মুখ খোলেন ভাগবত। তিনি দাবি করেন, কাউকে অবসর নিতে বলেননি তিনি। এবার কেন্দ্রীয়মন্ত্রী নিতিন গডকড়ী আওয়াজ তুললেন, যখন সবকিছু মসৃণভাবে চলছে তখন পুরনো প্রজন্মকে ধীরে ধীরে সরে গিয়ে নতুনদের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেওয়া উচিত।
নাগপুরে একটি অনুষ্ঠান উপলক্ষে সাংবাদিক বৈঠক করছিলেন বছর ৬৮-র নিতিন। যে উৎসবের ধারণা তাঁর মস্তিষ্ক-প্রসূত এবং আয়োজক শিল্প উন্নয়ন সংগঠনের সভাপতি আশিস কালে। সেখানে গডকড়ী জানান, অ্যাডভান্টেজ বিদর্ভ উদ্যোগে নতুন প্রজন্মকে যুক্ত করেছেন কালে। তাঁর কথায়, "আমি মনে করি প্রজন্মেরও ধীরে ধীরে পাল্টানো উচিত। আশিসের বাবা আমার বন্ধু। এবার আমাদের ধীরে ধীরে অবসর নেওয়া উচিত এবং নতুন প্রজন্মকে দায়িত্ব দিতে হবে, তাছাড়া গাড়ি যখন মসৃণভাবে চলতে শুরু করে, তখন আমাদের সরে এসে অন্য কাজ করা উচিত।"
বয়স ৭৫ হলে গুরুত্বপূর্ণ পদে না থাকার রীতি বহুদিন ধরেই চলে আসছে সঙ্ঘে। লালকৃষ্ণ আডবানি, মুরলি মনোহর জোশী, যশবন্ত সিংহদের সেই কারণেই নরেন্দ্র মোদি-অমিত শাহরা 'মার্গদর্শক মণ্ডলী'তে পাঠিয়েছিলেন বলে প্রচলিত রয়েছে। কিন্তু সঙ্ঘের সেই আদর্শ মোদি মানবেন কি না, বেশ কিছুদিন ধরেই প্রশ্ন উঠছিল। সেই আবহেই গত জুলাই মাসে ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্য করেছিলেন আরএসএস প্রধান মোহন ভাগবত। তাঁর বক্তব্য ছিল, "মোরোপন্ত বলেছিলেন, বয়স ৭৫ হলে কাঁধে যখন শাল ওঠে, তখন থেমে যাওয়া উচিত। এর মানে আপনার বয়স হয়েছে। সরে যান। আমাদের কাজ করতে দিন।" মোদিকে নিশানা করেই তিনি এই মন্তব্য করেন বলে জল্পনা শুরু হয় সেই সময়।
পরবর্তী সময়ে দিল্লিতে আয়োজিত সাংবাদিক বৈঠকে বেশ কিছু প্রশ্নের মুখোমুখি হয়েছিলেন ভাগবত। তাঁর কাছে জানতে চাওয়া হয়, "বয়স ৭৫ হলে, কাঁধে শাল উঠলে, বুঝতে হবে বয়স হয়ে গিয়েছে। নরেন্দ্র মোদির দিকেই আপনি ইঙ্গিত করেছিলেন বলে মনে করেন অনেকে। পাঁচ বছরের জন্য নির্বাচিত ব্যক্তির ক্ষেত্রেও কি এই ৭৫ বছর বয়সের নিয়ম কার্যকর ? সংসারী-গৃহস্থরা কি সঙ্ঘ চালাতে পারেন?"
সঙ্ঘের একসময়ের প্রচারক মোরোপন্ত পিঙ্গলকে উদ্ধৃত করেই ৭৫ বছর বয়সে হাত তুলে নেওয়ার কথা বলেছিলেন ভাগবত। কিন্তু পরে এর ব্যাখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, "মোরপন্ত বড় রসিক ছিলেন। একবার এক অনুষ্ঠানে আমরা সকলে ছিলাম। ওঁর বয়স ৭৫ হয়ে গিয়েছিল। সেই সময় ওঁর কাছে শাল জড়িয়ে দেওয়া হয়। কিছু বলতে বলা হয় ওঁকে। এতে উনি বলেন, 'আপনাদের হয়ত মনে হচ্ছে সম্মান জানাচ্ছেন। কিন্তু আমি জানি, শাল দেওয়ার অর্থ বয়স হয়ে গিয়েছে। চেয়ারে বসে দেখে কী ঘটছে'। উনি এমনই রসিক ছিলেন। নাগপুরে ওঁর জীবনী প্রকাশের অনুষ্ঠানে ইংরেজিতে কথা বলছিলাম। ওঁর বুদ্ধিমত্তা বোঝাচ্ছিলাম। আমি কখনওই বলিনি যে, আমি অবসর নেব, বা অন্য কারও অবসর নেওয়া উচিত। সঙ্ঘে আমরা সকলেই স্বয়মসেবক।"






















