Odisha News : 'গ্যাস দিতে এসেছি' বলে কোয়ার্টারে ঢুকে অধ্যাপকের স্ত্রীকে ধর্ষণের চেষ্টা, আতঙ্ক ওড়িশার কলেজ ক্যাম্পাসে
বিজেপি-শাসিত ওড়িশায় ফের প্রশ্নের মুখে নারী নিরাপত্তা। আবার সেই বালেশ্বরের ফকিরমোহন বিশ্ববিদ্যালয়।

ভুবনেশ্বর : দিন কয়েক আগেই বালেশ্বর ফকির মোহন কলেজের হাড়হিম করা দৃশ্যের সাক্ষী হয়েছে গোটা দেশ। কলেজে বিভাগীয় প্রধানের বিরুদ্ধে যৌন হেনস্থার অভিযোগে কলেজ ক্যাম্পাসের মধ্যেই আগুন দিয়েছিলেন এক ছাত্রী। আবারও বিজেপি-শাসিত ওড়িশায় ফের প্রশ্নের মুখে নারী নিরাপত্তা। আবার সেই বালেশ্বরের ফকিরমোহন বিশ্ববিদ্যালয়।
এবার ক্যাম্পাসে সহকারী অধ্যাপকের কোয়ার্টারে ঢুকে তাঁর স্ত্রীকে ধর্ষণের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। শনিবার বিকেলের ওই ঘটনায় অভিযুক্তকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। ধৃত শঙ্কর পাত্রর বাড়ি বালেশ্বরেরই নীলগিরি এলাকায়। অভিযোগ, অভিযুক্ত গ্যাসের সিলিন্ডারের রুটিন পরীক্ষা করতে এসেছেন বলে জানিয়ে সহকারী অধ্যাপকের কোয়ার্টারে ঢোকেন।
পুলিশ সূত্রে খবর, অভিযুক্ত দুপুর ১.১৫ মিনিট নাগাদ দরজায় কড়া নাড়ে । নিজেকে এলপিজি সিলিন্ডার ডেলিভারি ম্যান হিসেবে পরিচয় দেয়। এরপর মহিলা দরজা খুলে দেন। অভিযুক্ত ব্যক্তি তৎক্ষণাৎ ঘরে ঢুকে তাকে ধর্ষণের চেষ্টা করে। ছেলেটির হাত থেকে বাঁচার আপ্রাণ চেষ্টা করেন তিনি। প্রায় ২০ মিনিট ধরে চলে ধস্তাধস্তি। কোনও ক্রমে তিনি অন্য ঘরে পালিয়ে খিল দেন। তারপর ফোন করেন স্বামীকে। এই সময় পালানোর চেষ্টা করে অভিযুক্ত যুবক। সে কোয়ার্টার থেকে বেরিয়ে যায় কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস থেকে পালাতে পারেনি। নিরাপত্তারক্ষী এবং অন্যান্য কর্মীরা অভিযুক্তকে ধরে ফেলেন। এরপর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক সন্তোষ কুমার ত্রিপাঠিকে বিষয়টি জানানো হয়। উপাচার্যের পরামর্শ অনুসারে, সহকারী অধ্যাপক ও তাঁর স্ত্রী, শনিবার সন্ধ্যায় রেমুনা থানায় গিয়ে অভিযোগ দায়ের করেন। এই ঘটনায় ফকিরমোহন বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আবাসন এবং গার্লস হস্টেলে আতঙ্ক ছড়িয়েছে।
জানা গিয়েছে, বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের নিরাপত্তারক্ষার জন্য একটি সংস্থার থেকে ১৬ জন নিরাপত্তারক্ষীকে নিয়োগ করেছে বিশ্ববিদ্যালয়। তাদের মধ্যে কয়েকজনকে শিক্ষার্থী ও কর্মীদের যাতায়াতের জন্য ব্যাটারিচালিত রিকশা চালানোর অনুমতি দেওয়া হলেও, বাকি রক্ষীরা ক্যাম্পাসের নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করছেন। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তাদের সদা সতর্ক থাকার নির্দেশ দিয়েছে। এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি যাতে না হয়, সে বিষয়ে নিশ্চিত করতে বলেছে।
গত কয়েকদিনের মধ্যে পড়শি রাজ্য ওড়িশায় নারী নির্যাতনের একের পর এক অভিযোগ উঠেছএ। সেইসব ঘটনা নিয়ে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক চাপানউতোর। রাজ্য সরকারের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন বিরোধীরা। এরই মধ্যে আবার ক্যাম্পাসের মধ্যে ধর্ষণের চেষ্টার অভিযোগ উঠল বালেশ্বরের ফকিরমোহন বিশ্ববিদ্যালয়ে।






















