Pakistan News : পাকিস্তানে সিন্ধু বদ্বীপে নেই এক ফোঁটা পানীয় জল, চারিদিকে শুধুই নোনাস্রোত, ভিটেমাটি ছেড়েছেন ১২ লাখ মানুষ
আর উপায় না-দেখে করাচিতে নতুন ঠিকানার খোঁজে যাচ্ছেন। সারা গ্রাম জুড়ে এক ভয়ঙ্কর নীরবতা । খালি বাঁশের বাড়িতে কুকুরেক চলাফেরা।

চারিপাশে শুধু জল । কিন্তু খাবার জো নেই। চাষ করাও সম্ভব নয় ওই জলে। শুকনো মাটির ওপর দিয়ে হাঁটলে পায়ের তলায় টুকরো টুকরো হয়ে যায় নুনের ঢ্যালা। চারপাশে তাকালে যে জল চোখে পড়ে, তা নুনে ভরা। এ জায়গার নাম খারো চান। এখান থেকে ১৫ কিলোমিটার (৯ মাইল) দূরেই সিন্ধু নদী মিশেছে সমুদ্রে। এজেন্সি ফ্রান্স প্রেসের একটি রিপোর্টে উঠে এসেছে এই ব-দ্বীপ অঞ্চলের বদলে যাওয়া ছবিটা। অথচ কয়েকদশক আগে ফিরে গেলে, এই এলাকাতেই আগে চাষবাষ হয়। বেশির ভাগ মানুষের জীবিকাই ছিল চাষাবাদ আর মাছ-ধরা।
খারো চানে একসময় প্রায় ৪০টি গ্রাম ছিল। এখন বেশিরভাগই বিলুপ্ত। কোনওখানে জনমানুষ নেই। ১৯৮১ সালে শহরে এই খারো চানে জনসংখ্যা ছিল ২৬,০০০ মতো।আর ২০২৩ সালের মধ্যে এই সংখ্যা কমে হয়েছে ১১,০০০-এর আশেপাশে। একের পর এক পরিবার ঘর ছেড়েছে। ভিটেমাটি ছেড়ে পরিযায়ী হয়ে চলে গিয়েছে অন্য কোথাও। এ নুন জলে মাছ বাঁচে না। তাই পেশা ছাড়তেও হয়েছে বহু মানুষকে। যেমন আবদুল্লাহ মিরবাহারের বাসিন্দা হাবিবুল্লাহ খাট্টি। একসময় মৎসজীবী খাট্টি বেছে নেন দর্জির পেশা। কিন্তু কে আর জামাকাপড় বানাবে। গ্রামের পর গ্রাম তো ক্রমেই জনশূন্য। তাই আর উপায় না-দেখে তিনি করাচিতে নতুন ঠিকানার খোঁজে যাচ্ছেন। সারা গ্রাম জুড়ে এক ভয়ঙ্কর নীরবতা । খালি বাঁশের বাড়িতে কুকুরেক চলাফেরা।
গত মার্চে জিন্নাহ ইনস্টিটিউটে একটি গবেষণা করে জানায়,গত ২০ বছরে সিন্ধু বদ্বীপ অঞ্চল থেকে ১২ লক্ষেরও বেশি মানুষ অন্যত্র চলে গিয়েছেন। বাঁধ, সেচ খাল এবং জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ১৯৫০ সালের পর থেকে বদ্বীপে জলের প্রবাহ প্রায় ৮০ শতাংশ কমে গেছে। ঢুকছে সমুদ্রের নোনা জল। এতে মাটি হয়ে পড়েছে লবণাক্ত। এখানে ক্রমেই অসম্ভব হয়ে পড়েছে কৃষিকাজ এবং মাছ ধরা ।
কেটির মতো বন্দরে লবণের সাদা স্তর দেখা যায়। পানীয় জল বয়ে আনতে হয় নৌকায় করে বা গাধার পিঠে। কতটা হাহাকার জন্মালে মানুষ তার ভিটেমাটি ছেড়ে অনিশ্চয়তার পথে পা রাখে?বলতে বলতে চোখের জল মুছছেন হাজী করম জাটের মতো অনেকেই।
ব্রিটিশ শাসনকালেই প্রথম সিন্ধুর উপর খাল ও বাঁধ নির্মাণ হয়। এর ফলে সিন্ধু নদীর গতিপথ পরিবর্তন হয়। এরপর সম্প্রতি কয়েক ডজন জলবিদ্যুৎ প্রকল্প চালু হয়েছে। পরিস্থিতি খারাপ হয়েছে দিনে দিনে। এ বছর শুরুর দিকে সিন্ধু প্রদেশের নিম্নাঞ্চলীয় নদী তীরবর্তী এলাকার কৃষকরা প্রতিবাদ করলে সরকার কিছু পদক্ষেপ করেছে। কিন্তু তার ফল কবে কীভাবে মিলবে তা জানেন না কেউই।






















