Pakistan :'আপনারাও ইসলামিক দেশ', ধর্মের তাস খেলে ভারতকে ব্যাকফুটে ঠেলার চেষ্টা পাকিস্তানের, পাত্তাই দিল না মালয়েশিয়া
India Vs Pakistan : পাকিস্তান ইসলামী ঐক্যের কথা বলে মালয়েশিয়াকে দলে টানার চেষ্টা করে। কুয়ালালামপুরে গিয়ে আর্জি জানায়, তারা যেন ভারতীয় প্রতিনিধি দলের অনুষ্ঠানে অনুমতি না দেয়।

ভারতের সন্ত্রাসবাদবাদ বিরোধী অবস্থান ও অপারেশন সিঁদুর সম্পর্কে বোঝাতে সারা বিশ্বে ঘুরছে ভারতের সাতটি প্রতিনিধি দল। পাকিস্তানও আবার ভারতের দেখাদেখি দল পাঠাচ্ছে দেশে-দেশে। তাদের লক্ষ্য আবার ভারতের নিচু দেখানো। ভারতের প্রতিনিধি দল যখন মালয়েশিয়ায় পা রাখে, তখন সেখানে ছিল পাক প্রতিনিধি দলও। ভারতের প্রচেষ্টা ব্যর্থ করতে সেখানে গিয়ে ধর্মের-তাস খেলার চেষ্টা করে তারা।
পাকিস্তান মালয়েশিয়ায় গিয়ে ভারতীয় সাংসদদের প্রতিনিধি দলের অনুষ্ঠানগুলি বাতিল করার চেষ্টা করে। কিন্তু মালয়েশিয়া তাদের কথায় কর্ণপাতও করেনি। পাকিস্তান ইসলামী ঐক্যের কথা বলে মালয়েশিয়াকে দলে টানার চেষ্টা করে। কুয়ালালামপুরে গিয়ে আর্জি জানায়, তারা যেন ভারতীয় প্রতিনিধি দলের অনুষ্ঠানে অনুমতি না দেয়। কিন্তু মালয়েশিয়া পাকিস্তানের এই আবদারে কর্ণপাতও করেনি।
সূত্র মারফত জানা গিয়েছে, পাকিস্তানি দূতাবাস মালয়েশিয়ার সরকারি আধিকারিকদের কাছে আর্জি জানায়, ভারতীয় প্রতিনিধি দলের অনুষ্ঠানগুলি যেন বাতিল করে দেওয়া হয়। তার জন্য ধর্মের কার্ড খেলতেও দু-বার ভাবেনি পাকিস্তান। বলে, 'আমরাও ইসলামিক দেশ। আপনারাও ইসলামিক দেশ... ভারতীয় প্রতিনিধিদলের কথা শুনবেন না। মালয়েশিয়ায় ওদের সব কর্মসূচি বাতিল করে দিন'। কিন্তু তাদের কথায় কান দেয়নি মালয়েশিয়া। ভারতীয় প্রতিনিধি দলের সব কর্মসূচি পূর্বনির্ধারিত পরিকল্পনা অনুযায়ীই সম্পন্ন হয়। এটিকে পাকিস্তানের জন্য একটি বড় কূটনৈতিক ধাক্কা হিসেবে মনে করছেন আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞরা।
মালয়েশিয়ায় ভারতীয় প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন জেডিইউ সাংসদ সঞ্জয় ঝা। এতে বিজেপির অপরাজিতা সারঙ্গি, ব্রিজলাল, প্রধান বরুয়া, হেমাং জোশী, টিএমসির অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়, সিপিএমের জন ব্রিটাস, কংগ্রেস নেতা সলমান খুরশিদ এবং প্রাক্তন কূটনীতিক মোহন কুমার ছিলেন।
প্রতিনিধি দলটি জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, সিঙ্গাপুর, ইন্দোনেশিয়া এবং মালয়েশিয়া সফর করেছে। সন্ত্রাসবাদের মদতদাতা পাকিস্তানের মুখোশ খুলে দিতে দেশে দেশে ঘুরেছে ভারতের সাংসদদের মোট সাতটি প্রতিনিধি দল। তার মধ্যে JDU সাংসদ সঞ্জয় ঝা-র নেতৃত্বে সাংসদ প্রতিনিধি দলের সদস্য হিসেবে ছিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ও। তিনি সে-দেশে গিয়ে বলেন, কুয়ালালামপুরে ভারতীয় প্রবাসীদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন তিনি। বলেন, "২২ এপ্রিল যখন ভারতে সন্ত্রাসবাদী হামলা চালানো হয়,তারপর আমরা দুই সপ্তাহ অপেক্ষা করেছিলাম। পাকিস্তানের কিছু ন্যায়বিচারের করবে ভেবেছিলাম। আমরা ভেবেছিলাম ওরা অপরাধীদের বিচারের আওতায় আনবে। কিছুই ঘটেনি, ১৪ দিন পরে, ভারত প্রত্যাঘাত চালিয়েছে, ৯টি সন্ত্রাসবাদী ঘাঁটি ধ্বংস করেছে। ভারতের হামলাগুলি একেবারে সুনির্দিষ্ট লক্ষে করা হয়। ভারত একটিও জীবনকে বিপন্ন না করে হামলা চালায়। কোনও ধর্মই সহিংসতার কথা বলে না। প্রতিটি ধর্মই সম্প্রীতির কথা বলে। ..." । ভারতের প্রতিনিধি দল বিশ্বকে স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে ভারতের সমস্ত রাজনৈতিক দল, সন্ত্রাসবাদের বিরোধিতার ক্ষেত্রে ঐক্যবদ্ধ। বিশ্ব মঞ্চে পাকিস্তানের মুখোশ খুলে দেওয়া এখন কেবল সরকারের লক্ষ্য নয়, গোটা দেশের সম্মিলিত প্রচেষ্টা।






















