Raghav Chadha : রাঘব চাড্ডা সহ ৭ AAP সাংসদের BJP-যোগে তোলপাড় রাজনীতি ! তড়িঘড়ি বড় পদক্ষেপ কেজরিওয়ালের?
যদি আম আদমি পার্টির ১০ জন সাংসদের মধ্যে ৭ জনই বিজেপিতে যোগ দেন, তাহলে এনডিএ দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতার আরও কাছাকাছি পৌঁছে যেতে পারে রাজ্যসভায়।

নয়া দিল্লি: জল্পনা চলছিলই। শুক্রবার আম আদমি পার্টিকে (Aam Aadmi Party) বড় ধাক্কা দিয়ে অন্য ২ সাংসদকে নিয়ে বিজেপিতে (BJP) যোগ দেন রাঘব চাড্ডা (Raghav Chadha)। এরপর জানা যায়, আম আদমি পার্টির সাংসদ রাঘব চাড্ডা ও আরও ছ’জন দলত্যাগ করে বিজেপিতে যোগ দিচ্ছেন। আর যদি আম আদমি পার্টির ১০ জন সাংসদের মধ্যে ৭ জনই বিজেপিতে যোগ দেন, তাহলে এনডিএ দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতার আরও কাছাকাছি পৌঁছে যেতে পারে রাজ্যসভায়। সেক্ষেত্রে ভবিষ্যতে রাজ্যসভায় কোনও বিল পাস করাতে কিছুটা সুবিধে হতে পারে পারে।
রাঘবের দলত্যাগের পরই দিল্লির রাজনীতিতে ছড়িয়েছে উত্তেজনা। রাঘবের সঙ্গে আম আদমি পার্টির অশোক মিত্তল এবং সন্দীপ পাঠকও যোগ দিয়েছেন বিজেপিতে। আর যাঁরা যাঁরা বিজেপিতে যোগ দিতে পারেন তাঁরা হলেন, প্রাক্তন ক্রিকেটার হরভজন সিংহ, রাজেন্দ্র গুপ্ত, বিক্রম সাহনে এবং স্বাতী মালিওয়াল। ঘনিষ্ঠমহলের খবর, এমন আকস্মিক পরপর ধাক্কায় বেশ চাপে আম আদমি পার্টি। এই পরিস্থিতিতে বড়সড় রাজনৈতিক টানাপোড়েন তৈরি হয়েছে পার্টির অন্দরে। দলীয় সূত্রে খবর, দল ছেড়ে যাওয়ার অভিযোগে তিনজন রাজ্যসভার সাংসদের বিরুদ্ধে দলত্যাগ বিরোধী আইনে ব্যবস্থা নিতে চলেছে AAP। সূত্রের খবর, রাজ্যসভার স্পিকারের কাছে এই বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার আবেদন জানাবে আপ।
ভারতীয় সংবিধানের দশম তফসিল অনুসারে, কোনও সাংসদ স্বেচ্ছায় তাঁর দল থেকে পদত্যাগ করলে বা অন্য কোনও রাজনৈতিক দলে যোগ দিলে অযোগ্য ঘোষিত হতে পারেন। গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, স্বেচ্ছায় পদত্যাগ মানে শুধু পদত্যাগই নয়, এর মধ্যে বিরোধী দলে যোগদান করা বা প্রকাশ্যে সমর্থন করার বিষয়টিও অন্তর্ভুক্ত।
তবে, এই আইনে একটি গুরুত্বপূর্ণ ব্যতিক্রমও রয়েছে। যদি কোনও দলের নির্বাচিত সদস্যদের অন্তত দুই-তৃতীয়াংশ একযোগে দল পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নেন, তবে এটিকে ব্যক্তিগত দলত্যাগ হিসেবে গণ্য করা হয় না। ২০০৩ সালের ৯১ তম সংশোধনী অনুযায়ী, দলের অন্তত দুই-তৃতীয়াংশ সদস্য অন্য দলে যোগ দিলে তা দলত্যাগ বলে গণ্য হবে না ।
পরিবর্তে, এটিকে সংসদীয় দলের একীভূতকরণ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। রাজ্যসভায় আম আদমি পার্টির মোট ১০ জন সাংসদ ছিলেন। এঁদের মধ্যে সাত জন দল পরিবর্তন করেছেন। যেহেতু সাত জন হলেন ১০ জনের দুই-তৃতীয়াংশের বেশি, তাই এই পদক্ষেপটি দল একীভূতকরণের বিধির আওতায় পড়ে। সুতরাং, তাঁদের সদস্যপদ সুরক্ষিতই থাকার কথা। যদি একটি দলে কয়েকজন সাংসদ দলবদল করতেন, তবে তা দলত্যাগ হিসেবে গণ্য হতে পারে। এর ফলে তাঁরা অযোগ্য ঘোষিত হতে পারতেন। কিন্তু, যখন দুই-তৃতীয়াংশ বা তার বেশি সংখ্যক সদস্য একযোগে দল পরিবর্তন করেন, তখন আইন এটিকে দলের অভ্যন্তরীণ পরিবর্তন বা একীভূতকরণ হিসেবে গণ্য করে। অযোগ্যতার বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেন রাজ্যসভার চেয়ারম্যান ।
আরও পড়ুন : প্রথম দফার পর তৃণমূল কোন জায়গায়? কত আসনে এগিয়ে? স্পষ্ট করে মমতা বললেন ...
দলের প্রবীণ নেতা মনীশ সিসোদিয়া শনিবার গুজরাতের রাজকোটে প্রচার সেরে দিল্লিতে ফিরে সরাসরি দলের আহ্বায়ক অরবিন্দ কেজরিওয়ালের সঙ্গে দেখা করেছেন। সেখানে দু’জনের মধ্যে প্রায় আধঘণ্টার বৈঠক হয়। দলীয় সূত্র জানাচ্ছে, এই বৈঠকে দলে হঠাৎ ভাঙনের সম্ভাব্য প্রভাব এবং ভবিষ্যৎ কৌশল নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এই ঘটনাকে ঘিরে AAP-র ভিতরে অস্থিরতা বাড়ছে বলে মনে করা হচ্ছে। আগামী দিনে এই ইস্যু দেশের রাজনীতিতে বড় প্রভাব ফেলতে পারে।
আরও পড়ুন : প্রথম দফায় ১১০ আসনের বেশি বিজেপি জিততে চলেছে, বড় দাবি অমিত শাহের






















