Russia Ukraine War: ট্রাকে ভরে ঢুকে পড়েছিল ঝাঁকে ঝাঁকে ড্রোন, রিমোটের বোতাম টিপতেই 'অ্যাটাক', ইউক্রেনের ধ্বংসাত্মক হামলা রাশিয়ায়
বহুদিন আগে থেকেই ট্রাকে কাঠের বাক্সে ভরে ভরে রুশ ভূখণ্ডে ঢুকিয়ে দিয়েছিল ইউক্রেন। তারপর ঠিক সময়ে রিমোট কন্ট্রোল দিয়ে সেই ট্রাক থেকে ড্রোন বেরিয়ে অব্যর্থ ভাবে আঘাত হানা হয় রুশ বিমানঘাঁটিগুলিতে।

রাশিয়ার একের পর এক বিমানঘাঁটি গুঁড়িয়ে দিয়েছে ইউক্রেন। সারা বিশ্বে হইচই ফেলে দিয়েছে ইউক্রেনের অপারেশন 'স্পাইডার ওয়েব'। রবিবার একেবারে টার্গেট করে করে ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইউক্রেন। আর তাও রুশ ভূখণ্ড থেকেই ঝাঁকে ঝাঁকে ড্রোন ছেড়ে। জেলেনেস্কির দেশ এই অভিযানের নাম দিয়েছে মাকড়সার জালের নামে। দাবি, এই হামলার পরিকল্পনা বহুদিন আগে থেকেই করেছিল ইউক্রেন। বহুদিন আগে থেকেই ট্রাকে কাঠের বাক্সে ভরে ভরে রুশ ভূখণ্ডে ঢুকিয়ে দিয়েছিল ইউক্রেন। তারপর ঠিক সময়ে রিমোট কন্ট্রোল দিয়ে সেই ট্রাক থেকে ড্রোন বেরিয়ে অব্যর্থ ভাবে আঘাত হানা হয় রুশ বিমানঘাঁটিগুলিতে।
রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে সংঘাতের সূত্রপাত ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে। সেই সংঘাতে ইতি টানতে বহুদিন ধরে উদ্যোগী হয়েছে আমেরিকা। প্রথমে জেলেনেস্কি ও পরে ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে কথাও বলেন ট্রাম্প। দুই দেশের মধ্য সংঘর্ষ বিরতির আশাও অনেকটাই উজ্জ্বল হয়, কিন্তু তা ফলপ্রসূ হয়নি এখনও। রাশিয়ায় নজিরবিহীন এই ড্রোন হামলার দিনই ইউক্রেনের সঙ্গে শান্তি আলোচনায় যোগ দিতে তুরস্কে পৌঁছেছে রাশিয়ার একটি প্রতিনিধি দল। তুরস্কের ইস্তাম্বুলে সোমবার,২ জুন এই আলোচনা হওয়ার কথা। এখন এই ধ্বংসত্মক ড্রোন হামলার পর পুতিনের দেশ আর জেলেনস্কির দেশ কোনও সমঝোতায় আসে কিনা সেটাই দেখার।
এরই মধ্যে ফের রাশিয়ার বাসুসেনাঘাঁটিগুলিত বড়সড় আঘাত হানল ইউক্রেন। জেলেনস্কি জানিয়েছেন, ইউক্রেন এই হামলা চালাতে ১১৭টি ড্রোন ব্যবহার করেছিল। এগুলি নিখুঁতভাবে রাশিয়ান সামরিক বিমানঘাঁটিতে আঘাত হেনেছে। ৩৪ শতাংশ ক্ষেপণাস্ত্র বহনকারী ক্রুজে আঘাত হেনেছে এই ড্রোনগুলি। ড্রোনগুলি আগে থেকেই রাশিয়ায় পাঠানোর ব্যবস্থা করা হয়েছিল। ট্রাকে কাঠের কেবিনে সেগুলি লুকিয়ে রাখা হয়েছিল। আক্রমণের সময়, কাঠামোর ছাদ রিমোট দিয়ে খুলে দেওয়া হয়। তারপর ড্রোনগুলি ঝাঁকে ঝাঁকে বেরিয়ে এসে আঘাত হানে। এতে রাশিয়ার ৪০টির বেশি যুদ্ধবিমান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে দাবি করেছেন ইউক্রেনের এক সামরিক কর্তা।
গত তিন বছরের যুদ্ধে ইউক্রেনের তরফে এমন সাঙ্ঘাতিক হানা আগে করা হয়নি। কিভের দাবি, এই ড্রোন হামলায় ৭ বিলিয়ন ডলার মূল্যের রাশিয়ান সামরিক বিমান নষ্ট হয়ে গিয়েছে। এসবিইউ এর আগে দাবি করেছিল, ইউক্রেনীয় শহরগুলিতে বোমা হামলা চালানোর জন্য ব্যবহৃত ৪১টি বিমান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। যার মধ্যে রয়েছে Tu-95 এবং Tu-22 বোমারু বিমানও। রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রকও নিশ্চিত করেছে, তাদের বেশ কয়েকটি বিমানে আগুন লেগেছে। রাশিয়ান মন্ত্রক জানিয়েছে, আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়েছে। কোনও হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। রাশিয়া জানিয়েছে যে তারা বেশ কয়েকজন সন্দেহভাজনকে গ্রেফতার করেছে, যার মধ্যে এক ট্রাকচালকও, যে ট্রাক থেকে ড্রোন উড়েছিল।






















