Russian Lady: ভারতের এক গুহায় বাস করছিলেন রাশিয়ান মহিলা, সঙ্গে দুই শিশুকন্যা! কারণ জেনে চক্ষু চড়কগাছ পুলিশের!
কর্তৃপক্ষ আরও তদন্ত করতে গিয়ে দেখেন যে, নিনা তাঁর পাসপোর্ট এবং ভিসার বিস্তারিত তথ্য জানাতে চাইছেন না।

কর্ণাটক রাজ্যের গোকর্ণের রামতীর্থ পাহাড়ের একটি গুহা থেকে দুই সন্তানসহ এক রুশ নারীকে উদ্ধার করা হয়েছে। ‘আত্মিক প্রশান্তি ও ধ্যানের’ জন্য তিনি রাজ্যের উত্তর কান্নাডা জেলায় অবস্থিত ওই গুহায় ছিলেন। আজ শনিবার স্থানীয় এক পুলিশ আধিকারিক এ তথ্য জানিয়েছেন।
জঙ্গলে তল্লাশি চালানোর সময়, তাঁরা একটি গুহার কাছে কিছু নড়াচড়া লক্ষ্য করেন। এরপরেই সেখানে গিয়ে তাঁরা জানতে পারেন যে, ৪০ বছর বয়সী রাশিয়ান বংশোদ্ভূত নিনা কুটিনা তাঁর দুই মেয়ে প্রেমা (৬ বছর ৭ মাস) এবং আমা (৪ বছর) সহ ওই গুহার ভেতরে বসবাস করছেন।
রুশ ওই নারীর নাম নিনা কুতিনা ওরফে মোহি। তাঁর বয়স ৪০ বছর। ব্যবসায়িক ভিসায় তিনি রাশিয়া থেকে ভারতে এসেছিলেন। এরপর গোয়া হয়ে কর্ণাটকের গোকর্ণ শহরে বসবাস শুরু করেন। এ সময় হিন্দু ধর্ম ও ভারতের আধ্যাত্মিক রীতিনীতির প্রতি আকৃষ্ট হন নিনা।
প্রসঙ্গত, রামতীর্থ পাহাড়ের যেখানে গুহাটি অবস্থিত, ২০২৪ সালের জুলাই মাসে সেখানে একটি বড় ভূমিধসের ঘটনা ঘটেছিল। এছাড়াও এই জায়গাটি বিষাক্ত সাপ সহ বিপজ্জনক বন্যপ্রাণীদের আবাসস্থল।
উত্তর কান্নাডার পুলিশ সুপার এম নারায়ণ আজ পিটিআইকে বলেন, ‘এই নারী ও তাঁর সন্তানেরা কীভাবে জঙ্গলের মধ্যে ছিলেন এবং কী খেয়েছিলেন, তা বেশ বিস্ময়কর। সৌভাগ্যক্রমে জঙ্গলে থাকার সময় তাঁর বা শিশুদের কারও সঙ্গে অনাকাঙ্ক্ষিত কিছু ঘটেনি।’
এরপর কর্তৃপক্ষ আরও তদন্ত করতে গিয়ে দেখেন যে, নিনা তাঁর পাসপোর্ট এবং ভিসার বিস্তারিত তথ্য জানাতে চাইছেন না। পুলিশ এবং আশ্রম প্রধানের আরও জিজ্ঞাসাবাদের পর শেষ পর্যন্ত তিনি জানান যে, তাঁর কাগজপত্র সম্ভবত জঙ্গলের গুহায় কোথাও হারিয়ে গেছে।
এরপর গোকর্ণ পুলিশ এবং বন বিভাগের কর্মকর্তাদের একটি যৌথ তল্লাশি অভিযানে তাঁর পাসপোর্ট এবং ভিসা উদ্ধার করা হয়। যাচাই করে দেখা যায় যে, নিনা মূলত ২০১৭ সালের ১৭ই এপ্রিল পর্যন্ত বৈধ একটি বিজনেস ভিসায় ভারতে প্রবেশ করেছিলেন। ২০১৮ সালের ১৯শে এপ্রিল এফআরআরও(FRRO) পানাজি থেকে একটি এক্সিট পারমিট জারি করা হয়েছিল। রেকর্ড অনুযায়ী তিনি পরবর্তীতে নেপালে গিয়েছিলেন এবং ২০১৮ সালের ৮ই সেপ্টেম্বর ভারতে পুনরায় প্রবেশ করেছিলেন। কিন্তু সেইসময় তাঁর ভিসার মেয়াদ উত্তীর্ণ হয়ে গিয়েছিল।
পুলিশের এই কর্মকর্তা বলেন, ২০১৭ সালে রাশিয়ার ওই নারীর ভিসার মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে। তিনি কত দিন ধরে ভারতে আছেন, তা জানা যায়নি। উদ্ধারের পর তাঁকে একটি আশ্রমে রাখার ব্যবস্থা করা হয়েছে। ভারতে রুশ দূতাবাসের সঙ্গে যোগাযোগ করে তাঁকে রাশিয়ায় পাঠানোর ব্যবস্থা করা হচ্ছে।






















