Sikkim Tunnel Collapse : ভয়ঙ্কর দুর্ঘটনা সিকিমে ! ধস নির্মীয়মাণ সুড়ঙ্গে, ছড়াতে পারে মিথেন, পরপর মৃত্যু
ধসের জেরে সুড়ঙ্গের প্রবেশপথ বন্ধ হয়ে যায় এবং ভিতরে প্রায় ২৭ জন শ্রমিক আটকে পড়েছেন বলে প্রশাসনের প্রাথমিক অনুমান।

গ্যাংটক: ভয়ঙ্কর দুর্ঘটনা সিকিমে। নামচি জেলায় নির্মীয়মাণ একটি সুড়ঙ্গে অতর্কিতে নামল বিরাট ধস। ঘটনায় অন্তত ৮ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে খবর ধসের জেরে সুড়ঙ্গের প্রবেশপথ বন্ধ হয়ে যায় এবং ভিতরে প্রায় ২৭ জন শ্রমিক আটকে পড়েছেন বলে প্রশাসনের প্রাথমিক অনুমান। একই সঙ্গে সুড়ঙ্গের ভিতরে গ্যাস লিকের আশঙ্কা থাকায় উদ্ধারকাজ আরও জটিল হয়ে উঠেছে। জেলা শাসক অনুপা তামলিং জানান, ঠিক কতজন শ্রমিক সুড়ঙ্গের ভিতরে আটকে রয়েছেন, তা এখনও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। বর্তমানে অনুমান করা হচ্ছে, প্যাটেল ইঞ্জিনিয়ারিং-এর ২১ জন এবং এনএইচপিসি (NHPC)-র ৬ জন কর্মী ভিতরে রয়েছেন। তবে এই সংখ্যা পরিবর্তিত হতে পারে।
প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, সোমবার বিকেল প্রায় ৩টা ৪০ মিনিটে বিপদের খবর পাওয়া যায়। এরপরই ঘটনাস্থলে পৌঁছয় ন্যাশনাল ডিজাস্টার রেসপন্স ফোর্স (NDRF), স্টেট ডিজাস্টার রেসপন্স ফোর্স (SDRF), জেলা পুলিশ এবং দমকলের দল। পাশাপাশি, পশ্চিমবঙ্গ থেকে বিশেষ গ্যাস-সুরক্ষা সরঞ্জাম-সহ একটি বিশেষজ্ঞ দলও উদ্ধারকাজে যোগ দিয়েছে।
গ্যাসের কারণে উদ্ধারকাজে বাধা
কর্তৃপক্ষের দাবি, ধসের জেরে ভূগর্ভস্থ শিলা স্তর ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় সুড়ঙ্গে প্রাকৃতিকভাবে মিথেন গ্যাস বেরিয়ে আসতে পারে। সেই গ্যাসের প্রভাবে উদ্ধারকাজে অংশ নেওয়া কয়েকজন উদ্ধারকারী অসুস্থ হয়ে পড়েন। কারও মাথা ঘোরা, আবার কেউ অজ্ঞান হয়ে যাওয়ার ঘটনাও ঘটেছে বলে জানা গিয়েছে। প্রশাসনের মতে, মিথেন গ্যাসের উপস্থিতি, সুড়ঙ্গের সংকীর্ণ পথ এবং কম দৃশ্যমানতা উদ্ধার অভিযানে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বর্তমানে গ্যাস মাস্ক ও অন্যান্য সুরক্ষা সরঞ্জাম পরে উদ্ধারকর্মীরা ভিতরে প্রবেশের চেষ্টা চালাচ্ছেন। ঘটনাস্থলে একাধিক অ্যাম্বুল্যান্সও মোতায়েন করা হয়েছে।
তিস্তা স্টেজ-VI জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের কাজ চলছিল
জানা গিয়েছে, এই সুড়ঙ্গটি তিস্তা স্টেজ-VI জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের অ্যাডিট (Adit) নির্মাণকাজের অংশ। প্রকল্পটির কাজ করছে প্যাটেল ইঞ্জিনিয়ারিং, যা এনএইচপিসি (NHPC)-র অধীনে পরিচালিত হচ্ছে। প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে, এই মুহূর্তে আটকে পড়া শ্রমিকদের নিরাপদে উদ্ধার করাই সবচেয়ে বড় অগ্রাধিকার। উদ্ধার অভিযান শেষ হওয়ার পর ধসের কারণ এবং গ্যাসের উৎস নিয়ে বিস্তারিত তদন্ত করা হবে।
সর্বশেষ পাওয়া খবর অনুসারে, এখনও পর্যন্ত ৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। নামচি জেলার সামারডুংয়ে ন্যাশনাল হাইড্রো-ইলেকট্রিক পাওয়ার কর্পোরেশনের তিস্তা স্টেজ-৬ জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের কাজ চলছে। সেখানে নির্মীয়মাণ টানেলে আটকে পড়েন একাধিক শ্রমিক। জোরকদমে উদ্ধারকাজ চালাচ্ছে NDRF, SDRF, সিকিম পুলিশ ও দমকল । গতকাল ১২ জনকে নিরাপদে উদ্ধার করা হয়েছে। ভিতরে এখনও অন্তত ১৮ জন আটকে রয়েছেন বলে আশঙ্কা। পরিস্থিতির উপর নজর রাখছে সিকিম স্টেট ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট অথরিটি।
আরও পড়ুন ২১ জুলাই শুভেন্দুর হাত থেকে মাইক কেড়ে নেওয়া হয়েছিল' এখন 'আফশোস' করছেন ফিরহাদ !























