US-Iran War: বইতে পারে পারমাণবিক অস্ত্র! যুদ্ধের আবহে ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা আমেরিকার..কতটা ভয়ঙ্কর 'ডুমসডে' ও 'টোমাহক'?
US Tests Doomsday Missile: 'ডুমসডে' মিসাইল ঘণ্টায় ২৮ হাজার কিমি বেগে উড়ে ৬ হাজার ৭০০ কিমি থেকে ১৩ হাজার কিমি দূরত্বে নির্ভুলভাবে আঘাত হানতে পারে। আজ আমেরিকা এই মিসাইলের পরীক্ষামূলক উৎক্ষেপণ করেছে।

US-Iran War: সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ইরান (Iran) ও ইজরায়েলের (Israel) সংঘাত ক্রমশ তীব্র আকার নিচ্ছে। ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া এই সংঘাতের পারদ চড়ছে প্রতি মুহূর্তে। আমেরিকার তরফে ইরানকে হুমকি, পাল্টা ইরানও আমেরিকা (America) ও ইজরায়েলকে চোখরাঙানি দিতে পিছপা হচ্ছে না। কার্যত জ্বলছে মধ্যপ্রাচ্য। কাতারের রাজধানী দোহায় (Doha) পর পর বিস্ফোরণ। পর পর ক্ষেপণাস্ত্র ছুটছে আকাশে। এরমধ্যেই পারস্য উপসাগরে আমেরিকার ট্যাঙ্কারে হামলা চালায় ইরান। গতকালই ভারত মহাসাগরে ইরানের জাহাজে হামলায় চালায় আমেরিকা। যার জেরে ইরানের ৮০-র বেশি সৈনিক মারা গিয়েছেন। ফলে বোঝাই যাচ্ছে, কেউ এক ইঞ্চি জমিও ছাড়তে নারাজ।
এবার ইরানকে লক্ষ্য করে যুদ্ধজাহাজ থেকে পরপর 'টোমাহক' মিসাইল (Tomahawk Missile) ছুড়ল আমেরিকা। ইরানকে লক্ষ্য করে জল থেকে ভূমি ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ল আমেরিকা। এর পাশাপাশি, তেহরানের উপর চাপ বাড়াতে 'ডুমসডে' মিসাইল (Doomsday Missile) নামে পারমাণবিক অস্ত্র বহনে সক্ষম ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা করল সেদেশ। এটা করে ইরানের ওপর একটি প্রচ্ছন্ন চাপ তৈরি করা গেছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। এবার অনেকের মনেই প্রশ্ন জাগছে 'ডুমসডে' মিসাইল ও 'টোমাহক' মিসাইল কতটা ভয়ঙ্কর? কতটা এদের কর্মক্ষমতা? চলুন জেনে নেওয়া যাক।
জানা যাচ্ছে, 'ডুমসডে' মিসাইল ঘণ্টায় ২৮ হাজার কিলোমিটার বেগে উড়ে ৬ হাজার ৭০০ কিমি থেকে ১৩ হাজার কিমি দূরত্বে নির্ভুলভাবে আঘাত হানতে পারে। আজ আমেরিকা এই মিসাইলের পরীক্ষামূলক উৎক্ষেপণ করেছে। এটি নিউক্লিয়ার অস্ত্র হিসেবেও ব্যবহার করা যায়। কারণ পারমাণবিক অস্ত্র বহন করতে পারে এই 'ডুমসডে' মিসাইল। এটি মাত্র আধঘণ্টা সময়ে ১৩ হাজার কিমি দূরে গিয়ে সবকিছু ধূলিস্যাৎ করতে পারে এটি। জানা যাচ্ছে, আমেরিকার বিভিন্ন শহর থেকে ইরানের রাজধানী তেহরানের দূরত্ব ১২ হাজার থেকে ১৩ হাজার কিমির মধ্যেই। ফলে আমেরিকা যদি চায় তবে এই 'ডুমসডে' মিসাইল কিন্তু আমেরিকা থেকে উৎক্ষেপণ করে সরাসরি তেহরান বা ইরানের অন্য কোনও শহরে ফেলতে পারে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, যুদ্ধের আবহে 'ডুমসডে' মিসাইলের পরীক্ষামূলক উৎক্ষেপণ করে আমেরিকা ইরানকে একটা বার্তা দিতে চেয়েছে। বলে রাখা প্রয়োজন, ইরানের হাতে কিন্তু এই মুহূর্তে এত বড় রেঞ্জের কোনও মিসাইল নেই।
এদিকে, আজ ইরানকে লক্ষ্য করে 'টোমাহক' মিসাইল ছুড়েছে আমেরিকা। এই মিসাইল আমেরিকার নৌবাহিনী ব্যবহার করে থাকে। রেড ইন্ডিয়ানরা যে হাতুড়ি ব্যবহার করে তার নাম 'টোমাহক'। সেই অনুসারে এই মিসাইলের নামকরণ হয়। এর রেঞ্জ মোটামুটি ১৬০০ কিমি থেকে ১৭০০ কিমি। সাধারণত যুদ্ধজাহাজ থেকে স্থলভাগে কোনও টার্গেট করে তার উদ্দেশে এই মিসাইল ছোড়া হয়।
যুদ্ধের তীব্রতা দেখে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ধরে নেওয়া যেতে পারে, পরিস্থিতি যতই ভয়ঙ্কর হয়ে উঠুক না কেন এখন কোনও দেশই চট করে পরমাণু অস্ত্র ব্যবহার করবে না। তাহলে 'ডুমসডে' মিসাইলের পরীক্ষামূলক উৎক্ষেপণ করে আমেরিকা তেহরানকে (Tehran) কী বার্তা দিতে চাইল? তা যুদ্ধের গতিপ্রকৃতি, সময় ও পরবর্তী পদক্ষেপ থেকেই বোঝা যাবে।






















