IRIS Lavan: কোচির বন্দরে আশ্রয় পেল IRIS Lavan, আমেরিকার হামলায় সলিল সমাধি IRIS Dena-র, অবশেষে মুখ খুলল ভারত
IRIS Dena Attack: দিল্লিতে ২০২৬ রাইসিনা ডায়লগ অনুষ্ঠানে যোগ দেন জয়শঙ্কর।

নয়াদিল্লি: ভারতের আতিথেয়তা গ্রহণ করে ফিরছিল। ভারত মহাসাগরে সেই জাহাজ ডুবিয়ে দিয়েছে আমেরিকা। মারা গিয়েছেন ইরানের নৌবাহিনীর ৮৭ জন সৈনিক। এখনও পর্যন্ত সেই নিয়ে আমেরিকার নিন্দা করেনি ভারত। ভারত মহাসাগরে আমেরিকার সাবমেরিন থেকে ওই হামলা নিয়ে কোনও প্রতিক্রিয়াও জানানো হয়নি। সেই নিয়ে বিরোধীরা যখন প্রশ্ন তুলছে, মুখ খুললেন বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর। ভারত মহাসাগরের ‘বাস্তব পরিস্থিতি’ বোঝালেন তিনি। ইরানের অন্য একটি জাহাজকে বন্দরে আশ্রয় দেওয়া নিয়েও মুখ খুললেন। (IRIS Dena Attack)
দিল্লিতে ২০২৬ রাইসিনা ডায়লগ অনুষ্ঠানে যোগ দেন জয়শঙ্কর। ভারতে মহড়া দিতে আসা ইরানের রণতরী IRIS Dena-র উপর আমেরিকার হামলা নিয়ে প্রশ্ন করা হয় তাঁকে। জবাবে তিনি বলেন, “ইরানের তরফে বার্তা আসে যে একটি জাহাজ, যেটি আমাদের সীমান্তের কাছাকাছি ছিল, সেটির জন্য বন্দরে জায়গা চাওয়া হয়। সমস্যায় পড়েছে বলে জানানো হয়েছিল। ১ মার্চ আমরা জানাই, ‘তোমরা আসতে পারো’। বেশ কিছু দিন সময় লেগেছিল ওদের। এর পর কোচিতে এসে নোঙর করে। সব অল্পবয়সি ক্যাডেট। ওরা যখন বেরিয়েছিল এবং যখন এখানে এসে পৌঁছল, পরিস্থিতি পুরোপুরি বদলে গিয়েছিল।” (IRIS Lavan)
জয়শঙ্কর আরও বলেন, “মহড়া দিতে আসছিল। ঘটনাক্রম যেদিকে এগোচ্ছিল, তাতে প্রতিকূল অবস্থানে পড়ে যায়।” আমেরিকা এবং ইজ়রায়েলের সঙ্গে যুদ্ধ পরিস্থিতিতে ইরানের তিনটি জাহাজ বিপদে পড়ে, IRIS Dena, IRIS Lavan, IRIS Bushehr. ভারত মহাসাগরে অবস্থান করছিল জাহাজগুলি। ফেব্রুয়ারি মাসে ভারতের বিশাখাপত্তনমে আয়োজিত Milan 2024 নৌমহড়ায় অংশ নেয়। কোচিতে নোঙর করেছে IRIS Lavan. জয়শঙ্কর জানিেছেন, মানবিকতার খাতিরেই জাহাজটিকে আশ্রয় দেওয়া হয়েছে।
IRIS Dena-র উপর যেভাবে হামলা চালিয়েছে আমেরিকা, তাতে কেন্দ্রের নরেন্দ্র মোদি সরকারের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে। ভারতের নাকের ডগায়, ভারতের অতিথিদের উপর এত বড় হামলা হওয়ার পরও কেন নিন্দা-বিবৃতি নেই প্রশ্ন তুলছেন বিরোধীরাও। IRIS Dena থেকে কিছু জনকে উদ্ধার করে শ্রীলঙ্কার নৌবাহিনী। সেই নিয়ে জয়শঙ্করের বক্তব্য, “একটি জাহাজ শ্রীলঙ্কায় একই রকমের সঙ্কটে পড়ে। ওরা ওদের মতো সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। দুর্ভাগ্যজনক ভাবে একটি জাহাজ বিপদ এড়াতে পারেনি। মানবিকতার দৃষ্টিভঙ্গিতেই বিষয়টিকে দেখছি আমরা। পাশাপাশি যে আইনি প্রশ্ন জড়িয়ে…আমার মনে হয়, আমরা ঠিকই করেছি।”
গত ৪ মার্চ IRIS Dena-য় হামলা চালায় আমেরিকার সাবমেরিন। ভারতের নৌবাহিনী সেই সময় কী করছিল, ভারত মহাসাগরে আমেরিকার অবস্থান নিয়ে দিল্লির কী বক্তব্য, এমন একাধিক প্রশ্ন উঠে আসছে। কিন্তু জয়শঙ্কর বলেন, “সোশ্য়াল মিডিয়ায় তর্ক-বিতর্ক চলছে অনেক। কিন্তু ভারত মহাসাগরের বাস্তব পরিস্থিতি বুঝতে হবে। দিয়েগো গার্সিয়া গত পাঁচ দশক ধরে ভারত মহাসাগরে রয়েছে। চলতি শতকের প্রথম পাঁচ দশকেই জিবুতিতে বিদেশি বাহিনী ঢুকে যায়। হামবানতোতাতেও তেমনটাই ঘটে।”
দিয়েগো গার্সিয়া ভারত মহাসাগরের বুকে অবস্থিত ব্রিটেন নিয়ন্ত্রণাধীন একচি দ্বীপ, যেখানে সাতের দশক থেকে আমেরিকা এবং ব্রিটেন, দুই দেশেরই সেনাঘাঁটি রয়েছে। সেখান থেকে আকাশপথে এবং জলপথে অভিযান চালানো হয়। ভারতে মহড়া দিয়ে ফিরে যাওয়ার সময় ইরানের রণতরী IRIS Dena-য় টর্পেডো হামলা চালায় আমেরিকার সাবমেরিন। ইরানের অন্য একটি রণতরী, IRIS Lavan জরুরি ভিত্তিতে ভারতের কাছে সাহায্য় চায়। প্রযুক্তিগত ত্রুটির কথা জানায় তারা। ২৮ ফেব্রুয়ারি আবেদন জানায় তারা। ১ মার্চ সেই আবেদন মঞ্জুর করে ভারত। ৪ মার্চ কোচিতে নোঙর করে IRIS Lavan. আর ওই দিনই IRIS Dena-য় হামলা চালায় আমেরিকা। এখনও কোচি বন্দরেই রয়েছে IRIS Lavan. প্রযুক্তিগত ত্রুটি খতিয়ে দেখা হচ্ছে সেখানে। ইরানের আর একটি রণতরী IRIS Bushehr-এর ইঞ্জিনে সমস্যা দেখা দেয়। শ্রীলঙ্কার বন্দরে সেটি নোঙর করা রয়েছে এই মুহূর্তে।
























