WB Assembly Election 2026: আবাসনের ভোটেও তৃণমূল কংগ্রেসকে টেক্কা দিয়েছিল বিজেপি
Bengal Election 2026 Results: বড় আবাসনের বাসিন্দাদের মধ্যে ভোটে উৎসাহ বাড়াতে এবারই প্রথম কলকাতা ও শহরতলির ৬৫টি আবাসনে ভোটগ্রহণ কেন্দ্র করেছিল নির্বাচন কমিশন।

কলকাতা: ভোটের ফল প্রকাশ হয়েছে। সরকার বদলে গেছে। চলছে ভোটের ফল বিশ্লেষণের পালা আর তাতেই সামনে আসছে নানা তথ্য। আবাসনে ভোটগ্রহণ কেন্দ্রগুলির ফলাফলে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই এগিয়ে রয়েছে বিজেপি। নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা! রেকর্ড ভোটদান! দেড় দশক পরে পশ্চিমবঙ্গে রাজনৈতিক পালাবদল! তৃণমূলকে সরিয়ে রাজ্যে প্রথমবারের জন্য ক্ষমতায় এসেছে বিজেপি। শনিবার রাজ্যের নবম মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী। এই প্রেক্ষাপটেই শুরু হয়েছে নির্বাচনী ফলের বিশ্লেষণ! আর তাতেই আবাসনে ভোটগ্রহণ কেন্দ্রগুলির ফলাফল নিয়ে উঠে আসছে নানা তথ্য।
বড় আবাসনের বাসিন্দাদের মধ্যে ভোটে উৎসাহ বাড়াতে এবারই প্রথম কলকাতা ও শহরতলির ৬৫টি আবাসনে ভোটগ্রহণ কেন্দ্র করেছিল নির্বাচন কমিশন। নির্বিঘ্নে ভোট দিয়েছেন আবাসিকরাও। আরবানা অ্যাপার্টমেন্ট ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের কমিটি মেম্বার প্রদীপ ভাটিয়া বলেছেন, 'প্রথমবার বুথ আবাসনে হয়েছে। ৮২ শতাংশের বেশি ভোটার ভোটদান করেছেন।'
আর সেই ভোটের ফল বিশ্লেষণ করে দেখা যাচ্ছে, সিংহভাগ ক্ষেত্রেই বাজিমাত করেছে বিজেপি। সিলভার স্প্রিং অ্যাপার্টমেন্ট ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের কমিটি মেম্বার সঞ্জয় সিং রাঠোর জানিয়েছেন, 'এবার মানুষ চাইছিল যে ডবল ইঞ্জিন যেরকম বলা হয়, ++ সেই অভিজ্ঞতার জন্য আমার মনে হয় মানুষ এবার ভোট দিয়েছে।'
কলকাতার অন্যতম অভিজাত আবাসন আরবানায় এবার ভোটকেন্দ্র করেছিল কমিশন। মোট ৯২০ জন ভোটারের মধ্যে ভোট পড়েছে প্রায় সাড়ে সাতশো। নির্বাচন কমিশন সূত্রে দাবি, এর মধ্যে বিজেপি ভোট পেয়েছে সাড়ে পাঁচশো। প্রদীপ ভাটিয়া বলেন, 'কমপ্লেক্সের ভেতরে বুথ হওয়ায় অনেক সুবিধা হয়েছে। আগে আমরা বাইরে যেতাম। কখনও বৃষ্টি হয়, কখনও গরমে লাইনে দাঁড়াতে হয়। অনেকে বাইরে যেতে চাই না। ভোটদানের হার অনেক কম ছিল।'
কমিশন সূত্রে খবর, বাইপাস লাগোয়া 'অ্যাক্টিভ একরস' আবাসনে পড়া ৮৫ শতাংশের বেশি ভোটের মধ্যে ৭০ শতাংশই গেছে বিজেপির ঝুলিতে। যাদবপুরের সাউথ সিটি আবাসনে মোট ভোটার ৭০৩ জন। ভোট পড়েছে ৭৭ শতাংশ। তার মধ্যে ৬৭ শতাংশ ভোট পেয়েছে বিজেপি। নির্বাচন কমিশন সূত্রে দাবি, ডায়মন্ড সিটি, জেনেক্স ভ্যালি, সিলভার স্প্রিং, ইমামি সিটির মতো আবাসনগুলিতে ভোট পড়েছে ৭৫ থেকে ৯০ শতাংশ। মোট প্রদত্ত ভোটের ৬০ থেকে ৭০ শতাংশ ভোট পেয়েছে বিজেপি। সঞ্জয় সিং রাঠোর আরও বলেছেন, 'একটা মনে সন্দেহ থাকত সবসময় যে যাব কি যাব না? কী সমস্য়া হবে? বিভিন্ন সমস্য়া থাকত। এখন এখানে একটা কমপ্লেক্সে বুথটা হয়ে যাওয়ার পর অনেক সুবিধা হয়েছে। আমি মনে করে সেজন্য ভোটদানের হারটা বেড়েছে। কেন্দ্র ও রাজ্য (সরকার) এক হওয়ার অভিজ্ঞতা হয়নি।'
প্রত্যাশা আর প্রতিশ্রুতি, ভোট রাজনীতির দুটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান! এখন আবাসনের ভোটারদের সেই ইচ্ছা পূরণ হয়ে কিনা, তার উত্তর মিলবে ভবিষ্যতে।























