Yogi Adityanath: ‘হিন্দুদের মাঝে মুসলিমরা সুরক্ষিত, মুসলিমদের মাঝে হিন্দুরা নন’, দাবি যোগী আদিত্যনাথের
Yogi Adityanath on Muslims: সংবাদ সংস্থা ANI-কে দেওয়া একটি সাক্ষাৎকারে এমন মন্তব্য করেছেন যোগী।

নয়াদিল্লি: দেশে সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য করলেন উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ। তাঁর দাবি, ১০০ হিন্দু পরিবারের মধ্যে একটি মুসলিম পরিবার সুরক্ষিত। কিন্তু ১০০ মুসলিম পরিবারের মধ্যে একটি হিন্দু পরিবারও সুরক্ষিত নয়। শুধু তাই নয়, যোগীর দাবি, কোনও এলাকায় যদি ১০০ মুসলিম পরিবার থাকে, পাশাপাশি সেখানে ৫০ জন হিন্দু সুরক্ষিত নন। এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশের উদাহরণও দেন তিনি। গত কয়েক মাসে সেখানে যেভাবে সংখ্যালঘুদের উপর অত্যাচার, মন্দিরে হামলার ঘটনা সামনে এসেছে, তার উল্লেখ করেছেন। (Yogi Adityanath)
সংবাদ সংস্থা ANI-কে দেওয়া একটি সাক্ষাৎকারে এমন মন্তব্য করেছেন যোগী। তাঁর বক্তব্য, "১০০ হিন্দু পরিবারের মধ্যে একটি মুসলিম পরিবার থাকলে, তারা সুরক্ষিত। নিজেদের ধর্ম পালনের স্বাধীনতা থাকে তাদের। কিন্তু ১০০ মুসলিম পরিবারের মধ্যে ৫০ জন হিন্দু সুরক্ষিত কি? সুরক্ষিত নন। বাংলাদেশই উদাহরণ। এর আগে উদাহরণ ছিল পাকিস্তান।" (Yogi Adityanath on Muslims)
গত আট বছর ধরে উত্তরপ্রদেশে ক্ষমতায় রয়েছেন যোগী। সেখানে সংখ্যালঘুদের অবস্থা নিয়ে প্রশ্ন করলে, যোগী দাবি করেন, ২০১৭ থেকে উত্তরপ্রদেশে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা হয়নি। যোগীর বক্তব্য, "উত্তরপ্রদেশেই মুসলিমরা সবচেয়ে নিরাপদ। হিন্দুরা যদি নিরাপদ হন, তাহলে ওরাও নিরাপদ। ২০১৭ সালের আগে উত্তরপ্রদেশে দাঙ্গা হলে, হিন্দুদের দোকানে আগুন জ্বললে, মুসলিমদের দোকানেও আগুন জ্বলত। হিন্দুদের বাড়িতে আগুন জ্বললে, পুড়ত মুসলিমদের বাড়িও। কিন্তু ২০১৭-র পর থেকে দাঙ্গা বন্ধ।"
100 हिंदू परिवारों के बीच में एक मुस्लिम परिवार सुरक्षित रहता है...
— Yogi Adityanath (@myogiadityanath) March 26, 2025
लेकिन 100 मुस्लिम परिवारों के बीच में 50 हिंदू परिवार सुरक्षित नहीं रह सकते हैं...
बांग्लादेश इसका उदाहरण है। pic.twitter.com/u1JHijmBld
যোগী এমন দাবি করলেও, রাজ্যের সংখ্যালঘু জনসংখ্যার প্রতি তাঁর সরকারের আচরণ নিয়ে বার বার প্রশ্ন উঠেছে। বুলডোজার নীতি কার্যকর করতে গিয়ে অধিকাংশ ক্ষেত্রে সংখ্যালঘুদের বাড়িঘর, দোকান ভেঙে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। সংখ্যালঘুদের ধর্মস্থানের নীচে মন্দির খোঁজার হিড়িকও সমালোচিত হয়েছে। যোগী নিজেও প্রকাশ্য সভা থেকে 'ঔরঙ্গজেবের বিচারধারার লোকজনের চিকিৎসা' করার ঘোষণাও করেছেন। সম্ভলে শাহি জামা মসজিদ খোঁড়া নিয়ে অশান্তিও বাধে রাজ্যে। মারা যান পাঁচ জন, অনেকে আহত হন। কিন্তু যোগীর দাবি, দেশের মধ্যে উত্তরপ্রদেশেই মুসলিমরা সবচেয়ে সুরক্ষিত।
যোগীর দাবি, তিনি সকলের উন্নয়নের বিশ্বাসী, সকলের আস্থা অর্জনের পক্ষপাতী। সেই নীতি মেনেই কাজ করছেন। যদিও যোগীর দাবি, পৃথিবীর সবচেয়ে প্রাচীন ধর্ম সনাতন ধর্ম। মসজিদের নীচে মন্দির খোঁজার হিড়িক নিয়ে প্রশ্ন করলে যোগী জানান, সম্ভলে যত সম্ভব মন্দির পুনরুজ্জীবিত করবে তাঁর সরকার। যোগী বলেন, "সম্ভলে ৬৪টি তীর্থক্ষেত্র রয়েছে। আমরা ৫৪টির খোঁজ পেয়েছি। যাই হোক না কেন, আমরা খুঁজে বের করব। গোটা বিশ্বকে দেখাব, সম্ভলে কী হয়েছে।"
যদিও যোগীর দাবি নস্যাৎ করে দিয়েছেন সমাজবাদী পার্টির নেতা রবিদাস মেহরোত্র। তাঁর কথায়, "যোগী আদিত্যনাথ বলতে পারতেন উত্তরপ্রদেশে সকলেই নিরাপদষ আজ রাজ্যে কারও বোন, কারও মেয়ে নিরাপদ নয়। গুন্ডারা জঙ্গল রাজ চালাচ্ছে। অপরাধীদের কোনও ভয়ডর নেই, মানুষ ভয়ে রয়েছেন। কিন্তু মুখ্যমন্ত্রী হিন্দু-মুসলিম করতে ব্যস্ত।"
কংগ্রেস নেতা অজয়কুমার লাল্লুর কথায়, "হিন্দু-মুসলিম ছাড়া আর কোনও অ্যাজেন্ডা নেই যোগী আদিত্যনাথের। অন্তত একটিও উন্নয়নমূলক কাজের উদাহরণ দেখাতে পারতেন। NCRB-র পরিসংখ্যান বলছে, মহিলাদের উপর অপরাধে উত্তরপ্রদেশ শীর্ষস্থানে রয়েছে। বেকারত্ব ক্রমশ বেড়ে চলেছে রাজ্যে। "






















