IMD Weather Alert : পরপর পশ্চিমী ঝঞ্ঝা ! দুর্যোগের ঘনঘটা, ঝড়-বৃষ্টি, বড় সতর্কতা জারি করল আবহাওয়া দফতর
আগামী সপ্তাহের শুরু থেকেই দেশের বিস্তীর্ণ অংশে স্বস্তির বৃষ্টি ও ঝড়ের সম্ভাবনা তৈরি হচ্ছে।

কলকাতা: কয়েকদিন ধরে চলা তীব্র তাপপ্রবাহের পর অবশেষে আবহাওয়ায় বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত মিলছে। আবহাওয়াবিদদের মতে, গ্রীষ্মকালীন ঝড় এবং ধারাবাহিক পশ্চিমী ঝঞ্ঝার প্রভাবে ( Western Disturbance ) প্রভাবে আগামী সপ্তাহের শুরু থেকেই দেশের বিস্তীর্ণ অংশে স্বস্তির বৃষ্টি ও ঝড়ের সম্ভাবনা তৈরি হচ্ছে।
গরমের পর ঝড়-বৃষ্টির প্রস্তুতি
বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, তাপপ্রবাহ অনেক সময়ই এই ধরনের ঝড়-বৃষ্টির পূর্বাভাস বহন করে। তাপমাত্রা অত্যধিক বেড়ে গেলে বায়ুমণ্ডলে এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়, যাতে আরব সাগর ও বঙ্গোপসাগর থেকে আর্দ্র বায়ু দেশের ভেতরে প্রবেশ করতে পারে।
এই আর্দ্র বায়ু যখন পশ্চিমী ঝঞ্ঝা ও স্থানীয় বায়ুপ্রবাহের সঙ্গে মিশে যায়, তখন স্থলভাগে ঘূর্ণাবর্ত তৈরি হয়। এর ফলেই বিকেল বা সন্ধ্যার দিকে শক্তিশালী বজ্রঝড় তৈরি হয়, যা সাধারণত পশ্চিম থেকে পূর্ব দিকে অগ্রসর হয়।
কবে কোথায় বৃষ্টি বা ঝড়?
২৭ এপ্রিল থেকেই এই পরিবর্তনের প্রাথমিক লক্ষণ দেখা যেতে পারে। রাজস্থান, হরিয়ানা এবং দিল্লি-এনসিআর-এর কিছু অংশে ধূলিঝড় ও বজ্রঝড়ের সম্ভাবনা রয়েছে, যা প্রায় ৩০-৫০ শতাংশ এলাকা জুড়ে প্রভাব ফেলতে পারে।
২৮ থেকে ৩০ এপ্রিলের মধ্যে এই কার্যকলাপ আরও জোরদার হবে। পাঞ্জাব, উত্তরপ্রদেশ, বিহার, ঝাড়খণ্ড, ওড়িশা, ছত্তীসগঢ়, কর্ণাটক, তেলেঙ্গানা ও কেরালার বিস্তীর্ণ অংশে ৫০-৭৫ শতাংশ এলাকায় ঝড়-বৃষ্টির প্রভাব পড়তে পারে।
ঝড়ের চরিত্র কেমন হবে
এই ঝড়গুলি সাধারণত স্বল্পস্থায়ী হলেও তীব্র হয়। ৪০ থেকে ৮০ কিমি প্রতি ঘণ্টা বেগে দমকা হাওয়া বইতে পারে, যার ফলে প্রথমে ধুলোঝড় এবং তারপর মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টিপাত হতে পারে।
বৃষ্টির মূল পর্ব সাধারণত ১৫ থেকে ৪৫ মিনিট স্থায়ী হতে পারে, তবে কিছু ক্ষেত্রে ঝড় কেটে যাওয়ার পর হালকা বৃষ্টি বা গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি কয়েক ঘণ্টা চলতে পারে। বজ্রপাত ও মেঘের গর্জন থাকবে, যদিও শিলাবৃষ্টির সম্ভাবনা তুলনামূলক কম।
কখন বেশি প্রভাব পড়বে
এই ঝড়-বৃষ্টির বেশিরভাগ ঘটনাই বিকেল থেকে রাতের মধ্যে, অর্থাৎ দুপুর ২টা থেকে রাত ১০টার মধ্যে ঘটতে পারে। কিছু ক্ষেত্রে তা গভীর রাত বা ভোর পর্যন্ত গড়াতে পারে, তবে তখন প্রভাব কম থাকবে।
তাপমাত্রা কি কমবে?
তাপপ্রবাহ সোমবার পর্যন্ত কিছুটা বজায় থাকলেও, মঙ্গলবার সন্ধ্যা থেকে বৃষ্টিপ্রাপ্ত এলাকাগুলিতে তাপমাত্রা ধীরে ধীরে কমতে শুরু করবে। বর্তমানে যেখানে তাপমাত্রা ৪২ থেকে ৪৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে রয়েছে, তা কমে ৩৬ থেকে ৪১ ডিগ্রির মধ্যে নেমে আসতে পারে সপ্তাহের মাঝামাঝি সময়ে।
তবে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করছেন, এতে গরম পুরোপুরি বিদায় নেবে না। বাতাসে আর্দ্রতা বাড়ার ফলে দুপুরের সময় কিছুটা অস্বস্তিকর গরম অনুভূত হতে পারে। তবে যেসব এলাকায় বৃষ্টি হবে, সেখানে সন্ধ্যা ও রাত অনেকটাই আরামদায়ক হয়ে উঠবে।
সার্বিক চিত্র
সব মিলিয়ে, তীব্র গরমের পর এবার ঝড়-বৃষ্টি দেশের আবহাওয়ায় বড় পরিবর্তন আনতে চলেছে। যদিও সাময়িক স্বস্তি মিলবে, গ্রীষ্মের প্রভাব পুরোপুরি কাটতে এখনও সময় লাগবে।






















