কাশ্মীর নিয়ে উদ্বেগ থাকলেও, চিনে আটক লক্ষ লক্ষ মুসলিমদের বিষয়ে কেন চুপ পাকিস্তান? কটাক্ষ আমেরিকার
চিন হল পাকিস্তানের শীত-গ্রীষ্ম-বর্ষা সব ঋতুর বন্ধু।

রাষ্ট্রপুঞ্জ: ফের প্রকট হল পাকিস্তানের দ্বিচারিতা। এবার তা চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। রাষ্ট্রপুঞ্জের সাধারণ অধিবেশনে বক্তব্য রাখতে গিয়ে যখন কাশ্মীরে বসবাসকারী মুসলিমদিনে নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করছিলেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান, সেই সময়ে চিনে অবৈধভাবে আটক হাজার হাজার মুসলিমদের কথা ইসলামাবাদকে মনে করিয়ে দিল ওয়াশিংটন। এদি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র প্রশ্ন তুলেছে, পাকিস্তান কেন স্রেফ কাশ্মীরে বসবাসকারী মুসলিমদের মানবাধিকার নিয়ে চিন্তিত? কেন তারা চিনে বসবাসকারী মুসলিমদের দুরবস্থার কথা নিয়ে সোচ্চার হচ্ছে না? শুক্রবার, রাষ্ট্রপুঞ্জের বিশেষ অধিবেশনে চিনের বিরুদ্ধে মুখ না খোলার জন্য পাক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের তীব্র সমালোচনা করেন দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়ার দায়িত্বপ্রাপ্ত মার্কিন সহকারী সচিব অ্যালিস ওয়েলস। প্রসঙ্গত, আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের খবর, চিনের শিনজিয়াং প্রদেশে প্রায় ১০ লক্ষ উঘার সম্প্রদায়ভুক্ত ও অন্যান্য তুরস্কের মুসলিমদের আটক করে রাখা হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের দাবি, সেখানে প্রায় কনসেনট্রেশন ক্যাম্পের মতো তাদের আটক করে রাখা হয়েছে। প্রচণ্ডভাবে, তাদের কঠোর পাহারা দিয়ে আটক করে রেখেছে চিনা প্রশাসন। যদিও বেজিংয়ের দাবি, ধর্মীয় চরমপন্থা ও সন্ত্রাস মোকাবিলা করতে এই পদক্ষেপ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এখানে বলে রাখা প্রয়োজন, চিন হল পাকিস্তানের শীত-গ্রীষ্ম-বর্ষা সব ঋতুর বন্ধু। বিশ্ব যখন পাকিস্তানের জঙ্গিনেতা তথা জয়েশ-ই-মহম্মদ প্রধান মাসুদ আজহার ও মুম্বই হামলার কূচক্রী হাফিজ সঈদের বিরুদ্ধে কোমর বেঁধে নেমেছিল, তখন ইসলামাবাদের পাশে দাঁড়িয়ে পাশ্চাত্য দেশগুলির সেই চেষ্টায় জল ঢেলেছে একমাত্র এই চিন। পাশাপাশি, অর্থনৈতিকভাবে ধুঁকতে থাকা পাকিস্তানকে বারবার আর্থিক সাহায্য দিয়েছে চিন। এদিন অ্যালিস বলেন, আমার মনে হয়, মুসলিমরা কাশ্মীরে সীমাবদ্ধ নন। পশ্চিম চিনে মুসলিমরা কনসেনট্রেশন ক্যাম্পে রয়েছেন। তাঁদের অবস্থাও ভয়াবহ। গোটা চিনেই মুসলিমদের অবস্থা সঙ্কটাপন্ন। ফলে, এই দিক নিয়েও পাকিস্তানের আলোকপাত করা উচিত ছিল। তিনি বলেন, কাশ্মীর নিয়ে ইমরানের মন্তব্য ফলপ্রসূ হবে না। পাক প্রধানমন্ত্রীকে তিনি মনে করিয়ে দিয়েছেন, বাগাড়ম্বরপূর্ণ উক্তি এড়িয়ে গেলে হয়ত দুই পরমাণু শক্তিধর রাষ্ট্রের উপকারই হবে।






















