Divorce Case: সোশ্যাল মিডিয়ায় অন্য মহিলার ছবিতে ‘লাইক’, ডিভোর্সের মামলা করতে পারেন স্ত্রী, জানাল আদালত
Micro Cheating: তুরস্কের সুপ্রিম কোর্ট অফ অ্যাপিলস এই রায় দিয়েছে।

নয়াদিল্লি: সম্পর্কে বিশ্বাসঘাতকতা, তঞ্চকতার ভিন্ন ভিন্ন সংজ্ঞা রয়েছে। এক সম্পর্কে থেকে অন্য কারও সঙ্গে শারীরিক বা মানসিক সম্পর্কে জড়িয়ে পড়ার উদাহরণও রয়েছে ভূরি ভূরি। সময়ের সঙ্গে এই বিশ্বাসঘাতকতার সংজ্ঞাও পাল্টেছে, জন্ম নিয়েছে ‘মাইক্রো-চিটিং’-এর মতো শব্দবন্ধ, যার অর্থ, মারাত্মক কিছু না ঘটিয়েও সম্পর্কে অবিশ্বাসের জন্ম দেওয়া। সেই নিয়ে নতুন করে বিতর্ক উস্কে দিল আদালতের একটি রায়, যেখানে আদালত জানিয়েছে, সোশ্য়াল মিডিয়ায় স্বামী অন্য মহিলার পোস্টে ‘লাইক’ দিলে, তা নিয়ে বিবাহবিচ্ছেদের আবেদন জানাতে পারেন স্ত্রী। আর বিষয়টি সামনে আসতেই শোরগোল পড়ে গিয়েছে। (Micro Cheating)
তুরস্কের সুপ্রিম কোর্ট অফ অ্যাপিলস এই রায় দিয়েছে। স্ত্রীর আবেদন মঞ্জুর করে, স্বামীকে ক্ষতিপূরণ ও খোরপোষ দিতে নির্দেশ দিয়েছে আদালত। বলা হয়েছে, সোশ্যাল মিডিয়ায় বার বার অন্য মহিলার পোস্টে ‘লাইক’ ঠুকে ওই ব্যক্তি বৈবাহিক সম্পর্কের বিশ্বস্ততা বজায় রাখার কর্তব্য থেকে বিচ্যুত হয়েছেন। সম্পর্ক ও বিশ্বাসভঙ্গের নতুন সংজ্ঞা পেশ করেছেন কেউ, কেউ কেউ আবার আদালতের সিদ্ধান্তে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। (Divorce Case)
তুরস্কের কায়সেরির আদালতে মামলাটি প্রথম ওঠে। সেখানে এক মহিলা স্বামীর বিরুদ্ধে মামলা করেন। স্বামী তাঁকে অপমান করেছেন, তিরস্কার করেছেন বলে আদালতে জানান ওই মহিলা। তিনি দাবি করেন, অত্যধিক সময় সোশ্যাল মিডিয়াতেই কাটান স্বামী। অন্য মহিলাদের ছব ও পোস্ট ‘লাইক’ করতে থাকেন। এমনকি অন্য মহিলাদের ছবির নীচে স্বামী ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্যও করেন বলে দাবি করেন ওই মহিলা।
ওই মহিলার আইনজীবীরা জানান, বৈবাহিক সম্পর্কের প্রতি যে আইনি দায়বদ্ধতা, বিশ্বস্ততা বজায় রাখা উচিত, তা লঙ্ঘন করেছেন ওই ব্যক্তি। ফলে স্বামীর কাছ থেকে ক্ষতিপূরণ প্রাপ্য মহিলার। এর পাল্টা, বিবাহবিচ্ছেদ চেয়ে স্ত্রীর বিরুদ্ধে মামলা করেন ওই ব্যক্তি। স্ত্রী তাঁর বাবাকে অপমান করেছেন, ঈর্ষার বশবর্তী হয়ে তাঁর ভাবমূর্তি নষ্ট করেছেন বলে অভিযোগ করেন।
আদালত দুই পক্ষের মতামতই গুরুত্ব দিয়ে শোনে। শেষ পর্যন্ত স্বামীর দোষই বেশি বলে জানায়। আদালত জানায়, হঠাৎ কোনও ভুল ঘটিয়ে ফেলেননি ওই ব্যক্তি। বরং প্রকাশ্যে, ধারাবাহিক ভাবে একই আচরণ করে গিয়েছেন তিনি, যার সাক্ষী সকলেই। আর তাতেই মাসে মাসে স্ক্রীকে ২৫ পাউন্ড খোরপোশ এবং ক্ষতিপূরণ বাবদ এককালীন ১৫০০ পাউন্ড দিতে বলা হয়। লিখিত রায়ে আদালত জানিয়েছে, অনলাইন আচরণ মোটেই তুচ্ছ বিষয় নয়।
আদালতের এই নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে কোর্ট অফ ক্যাসেশন-এ যান ওই ব্যক্তি। বড্ড বেশি টাকা দিতে বলা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। যদিও উচ্চ আদালত জানিয়ে দেয়, সোশ্যাল মিডিয়ায় অন্য মহিলার ছবিতে বার বার ‘লাইক’ ঠোকায় বৈবাহিক সম্পর্কের বিশ্বততা ভঙ্গ করেছেন ওই ব্যক্তি।
আদালেতর এই রায় সামনে আসার পরই শোরগোল পড়ে গিয়েছে। বিবাহবিচ্ছেদের মামলায় আগামী দিনে স্ক্রিনশট, মেসেজ, ডিজিটাল রেকর্ড কোর্টে গ্রাহ্য হতে চলেছে বলে মন অনেকের।
সম্পর্কের জটিল সমীকরণে ‘মাইক্রো চিটিং’ শব্দটির আমদানি হালফিলে। মনোবিদদের মতে, শারীরিক সম্পর্কে লিপ্ত না হলেও, কারও সঙ্গে রসিয়ে গল্প করা, সঙ্গীকে লুকিয়ে দেখা করা, সেই সংক্রান্ত তথ্য গোপন করাও মাইক্রো-চিটিংয়ের মধ্যে পড়ে।






















