Chernobyl Dogs Are Blue: বদলে যাচ্ছে কুকুরের গায়ের রং, কালো-সাদা-বাদামির পরিবর্তে গাঢ় নীল, কী ঘটছে চেরনোবিলে?
Chernobyl Dogs Turning Blue: একদা সোভিয়েত ইউনিয়নের অন্তর্ভুক্ত থাকলেও, বর্তমানে ইউক্রেনের অংশ চেরনোবিল।

নয়াদিল্লি: বিবর্তনের ইতিহাস মানলে পরিবর্তনই একমাত্র ধ্রুবক। তাই বলে চোখের সামনে সারমেয়র গায়ের রং নীল হয়ে যাবে? নীলচে নয়, কারও গায়ের রং গাঢ় নীল, কারও আবার নীলচে সবুজ। আর তার জেরেই চার দশক পর ফের খবরের শিরোনামে পরিত্যক্ত পরমাণু কেন্দ্র চেরনোবিল। (Chernobyl Dogs Turning Blue)
একদা সোভিয়েত ইউনিয়নের অন্তর্ভুক্ত থাকলেও, বর্তমানে ইউক্রেনের অংশ চেরনোবিল। ১৯৮৬ সালের ২৪ এপ্রিল সেখানেই ভয়ঙ্কর বিস্ফোরণ ঘটে, যার দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব আজও অনুভূত হয়। বর্তমানে ওই পরমাণু বিপর্যয় কেন্দ্রের আশেপাশে সারমেয়দের গায়ের রং বদলে যাচ্ছে বলে খবর মিলেছে। (Chernobyl Dogs Are Blue)
চেরনোবিল সংলগ্ন এলাকায় সারমেয়দের দেখভাল করে একটি Dogs of Chernobyl নামের একটি সংস্থা। প্রমাণ হিসেবে ছবি-সহ বিষয়টি সামনে এনেছে তারা। ভিডিও বার্তায় তাদের বলতে শোনা যায়, “গত সপ্তাহেও গায়ের রং নীল ছিল না। কারণ বুঝতে পারছি না আমরা। ওদের ধরার চেষ্টা করছি, যাতে কারণ বোঝা সম্ভব হয়। হতে পারে কোনও রাসায়নিক রয়েছে নেপথ্যে।” তবে গায়ের রং বদলে গেলেও, সারমেয়র দল আগের মতোই সক্রিয় রয়েছে এবং স্বাস্থ্যও বিগড়োয়নি বলে জানানো হয়েছে।
View this post on Instagram
Dogs of Chernobyl-এর তরফে দেওয়া বিবৃতিতে বলা হয়, ‘চেরনোবিলের সারমেয়রা নীল হয়ে গিয়েছে। অভিনব অভিজ্ঞতা হচ্ছে আমাদের। এটা নিয়ে আলোচনা হওয়া উচিত। ওদের ধরার চেষ্টা চলছে, নির্বীজকরণের চেষ্টাও চলছে। তিনটি এমন সারমেয়র নাগাল মিলেছে, যাদের পুরো শরীরই নীল হয়ে গিয়েছে। কেন এমন হচ্ছে, সকলেই জানতে চাইছেন’। Dogs of Chernobyl-এর ওই ভিডিও ঘিরে শোরগোল আন্তর্জাতিক মহলেও।
চেরনোবিল ও সংলগ্ন যে ১৮ বর্গ মাইল জায়গা পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে রয়েছে, সেখানে ওই পথকুকুরের দল ছাড়া জনমানুষের দেখা মেলে না। ২০১৭ সাল থেকেই ওই সারমেয়দের দেখভাল করছে Dogs of Chernobyl. প্রায় ৭০০ পথকুকুর রয়েছে সেখানে। পরমাণু বিপর্যয়ের পর যে পোষ্যদের সেখানেই ছেড়ে আসা হয়েছিল, এই ৭০০ সারমেয় তাদেরই বংশধর। Dogs of Chernobyl তাদের খাবার, ওষুধপত্র জোগায়।
কী কারণে সারমেয়দের শরীর নীল হয়ে যাচ্ছে, তা স্পষ্ট ভাবে বোঝা যায়নি এখনও পর্যন্ত। কারও মতে, ক্ষতিকর রাসায়নিক থেকে বিষক্রিয়াতেই এমনটা ঘটছে। সাবান ঘষে স্নান করালেও ওই রং উঠবে না। এত বছর পরও যে সারমেয়দের বংশবিস্তার ঘটছে ওই বিপর্যয়স্থলে, তা জেনেও হতবাক অনেকে। Dogs of Chernobyl-এর পরিসংখ্যান বলছে, চেরনোবিল পরমাণু চুল্লির কাছাকাছি জায়গাতেই প্রায় ২৫০ পথকুকুর রয়েছে। চেরনোবিল শহরেও প্রায় ২২৫ পথকুকুর ঘুরে বেড়ায়। সিকিওরিটি চেকপয়েন্ট থেকে ধরলে গোটা এলাকায় আরও কয়েকশোর দেখা মিলবে।
পৃথিবীতে এখনও পর্যন্ত যে দু’টি পরমাণু বিপর্যয় ঘটেছে, তার মধ্যে অন্যতম চেরনোবিল, অন্যটি হল হিরোশিমা-নাগাসাকি। হিরোশিমা-নাগাসাকিতে পরমামু বোমা নিক্ষেপ করেছিল আমেরিকা। আর চেরনোবিলে ভয়ঙ্কর বিস্ফোরণ ঘটে। ১৯৮৬ সালের ২৪ এপ্রিল পরীক্ষা নিরীক্ষা চলাকালীন একটি চুল্লিতে এত ভয়ঙ্কর বিস্ফোরণ ঘটে যে ক্ষতিকর তেজস্ক্রিয় পদার্থ মিশে যায় পরিবেশে। অনেকে প্রাণ হারান। বাকিদের সেখান থেকে সরিয়ে আনা হয়। সেই থেকে ওই পরমাণু কেন্দ্র এবং সংলগ্ন এলাকা পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে রয়েছে, যা Chernobyl Exclusive Zone হিসেবে পরিচিত। ২০২৪ সালে একটি গবেষণায় দেখা যায়, চেরনোবিলের সারমেয়দের শরীরে বিশেষ বিবর্তন ঘটেছে। তারা রেডিয়েশন ইমিউন, অর্থাৎ তেজস্ক্রিয় প্রতিরোধ করতে পারে তাদের শরীর। ধাতব উপাদান, দূষণের কোনও প্রভাব পড়ে না তাদের শরীরে।






















