Science News: চাঁদের বুকে মানুষের পাড়া, এবছরই শুরু হচ্ছে কাজ, কেমন হবে দেখতে? ছবি প্রকাশ করল NASA
NASA's Moon Base Plan: চাঁদের মাটিতে মানুষের পাড়া। দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা। পরিকল্পনা জানাল NASA.

নয়াদিল্লি: চাঁদের মাটিতে মানুষের পাড়া। স্বপ্ন ছুঁতে বেশি দেরি নেই আর। কেমন হবে সব কিছু, তার রূপরেখা তুলে ধরল আমেরিকার মহাকাশ গবেষণা সংস্থা NASA. চলতি বছরেই তিন-তিনটি অভিযান রয়েছে, যার মাধ্যমে চাঁদের মাটিতে নির্মাণের কাজ শুরু হয়ে যাবে। (NASA's Moon Base Plan)
চাঁদের মাটিতে প্রথম বার মানুষের ঘাঁটি গড়তে চলেছে NASA. সেখানে দীর্ঘ সময় থাকতে পারবেন বিজ্ঞানীরা। তাঁদের থাকা-খাওয়ার ব্যবস্থা থাকবে। পাশাপাশি, অত্যাধুনিক গবেষণাগারও গড়ে তোলা হবে চাঁদের মাটিতে, যাতে দীর্ঘ সময় ধরে সেখানে থেকে কাজ চালিয়ে যেতে পারেন বিজ্ঞানীরা। (Science News)

২৬ মে সাংবাদিক বৈঠক করে চন্দ্রাভিযান নিয়ে নিজেদের পরিকল্পনার রূপরেখা তুলে ধরে NASA. চাঁদের দক্ষিণ মেরুতে এই ঘাঁটি গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে। সেই মতো প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম পৌঁছে দিতে চলতি বছরই তিন-তিনটি অভিযান চালানো হবে। NASA-র বক্তব্য, “আমেরিকা আবার চাঁদে ফিরছে এবং এবার থাকার জন্য।”
চাঁদের মাটিতে পাকা ঘাঁটি গড়তে বহু দিন ধরেই প্রস্তুতি নিচ্ছে NASA. আজ বলে নয়, সেই পাঁচের দশক থেকে। ২০১৯ সালে আর্টেমিস অভিযানের সূচনা ঘটলে, সেই কাজ গতি পায়। চলতি বছরের ২৪ মার্চ সেই মতো বাজেট ঘোষণা হয় ২০ বিলিয়ন ডলারের। শুধু গবেষণা নয়, চাঁদের মাটি খুঁড়ে খনিজের সন্ধানও চলবে।
আরও পড়ুন: মহাকাশে বাকশক্তি হারান মহাকাশচারী? তাই কি তড়িঘড়ি ফিরিয়ে আনল NASA, ভবিষ্যৎ অভিযান নিয়ে প্রশ্ন
চাঁদের বুকে মানুষের ঘাঁটি তৈরি হলে, পৃথিবীর বাইরে এই প্রথম আমেরিকা তথা মানবজাতির কোনও ঘাঁটি তৈরি হবে বলে জানিয়েছেন NASA-র প্রশাসক জ্যারেড আইজ়্যাকম্যান। মানুষ পাঠানো হোক বা শুধুমাত্র মহাকাশযান পাঠানো হোক, প্রত্যেকটি অভিযান থেকেই অনেক কিছু শেখার সুযোগ হবে বলে আশাবাদী তিনি। চাঁদের বুকে বার বার ফিরে যাওয়াও আরও সহজ হবে। কারণ পাকাপাকি ভাবে পরিকাঠামো গড়ে তোলা হবে সেখানে।
NASA জানিয়েছে, চাঁদের দক্ষিণ মেরুতে যে ঘাঁটি গড়ে তোলার লক্ষ্য় রয়েছে, আগামী দিনে তা শহরের আকার নেবে বলেও আশাবাদী NASA. তাদের চন্দ্রাভিযানের দায়িত্বে থাকা কার্লস গার্সিয়া-গালান। তিনি জানিয়েছেন, কয়েক বর্গমাইল এলাকা জুড়ে ঘাঁটি গড়ে তোলা হবে। এক এক জায়গায়, এক এক রকমের পরিকাঠামো থাকবে। পাকাপাকি যাতে চাঁদের মাটিতে ঘাঁটি গেড়ে থাকা যায়, সেই মতোই ব্যবস্থা করা হবে সেখানে।

এবছর শরতেই চাঁদের বুকে ঘাঁটি গড়ে তোলার প্রথম পর্যায়ের কাজ শুরু হবে। চন্দ্রযান পাঠিয়ে সেখানে পেলোড, যন্ত্রপাতি নামানোর পরিকল্পনা। চলতি বছরের শেষ দিকে, দ্বিতীয় পর্যায়ে রোভা এবং অন্য় মবিলিটি সিস্টেম পাঠানো হবে, যাতে চেপে চাঁদের বুকে ঘুরে বেড়ানো যায়। তৃতীয় পর্যায়ে NASA-র পাশাপাশি, অন্য মহাকাশ গবেষণা সংস্থার পেলোডও নামানো হবে সেখানে। চাঁদের মাটির পরিবর্তন, সেখানকার উপাদান খতিয়ে দেখা হবে। ২০২৯ থেকে ২০৩২ সাল পর্যন্ত স্থায়ী পরিকাঠামো গড়ে তোলার কাজ হবে এবং সেখানে থাকা শুরু করবেন মহাকাশচারীরা। ২০৩২ সাল থেকে পুরোদস্তুর সেখানে ঘাঁটি গেড়ে থাকা এবং গবেষণার কাজ চালানোর পরিকল্পনা রয়েছে।
NASA জানিয়েছেন, ধনকুবের জেফ বেজোসের সংস্থা Blue Origin প্রথম অভিযানটি চালাবে। পেলোডার পৌঁছে দেবে তাদের Blue Moon Mark 1 এনডিওব়্যান্স ল্যান্ডার। মোট ৪৬৮ মিলিয়ন ডলারের বরাত পেয়েছে তারা। পাশাপাশি, Axiom Space রোভার পাঠানোর বরাত পেয়েছে। এত দ্রুত সব কিছু সম্পন্ন হবে কী করে, তা নিয়ে অনেকেই সন্দিহান। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, চিন যেভাবে সক্রিয় হয়ে উঠছে, তাতে NASA-র উপর চাপ বাড়ছে।
চন্দ্রাভিযান নিয়ে চিনও একের পর এক মাইলফলক ছুঁয়ে চলেছে। ২০৩০ সালের মধ্য়ে চাঁদে মানুষ পাঠানোর পরিকল্পনা রয়েছে তাদের। সেই তুলনায় NASA যাতে পিছিয়ে না পড়ে, সেই চেষ্টা চলছে।























