Usman Khawaja: বিতর্কের মুখে বড় সিদ্ধান্ত তারকা ক্রিকেটারের, অবসর নেবেন আর একটা টেস্ট ম্যাচ খেলেই
Usman Khawaja Retirement: তাঁর অবসর নিয়ে দীর্ঘ জল্পনা চলছিল। ধারাবাহিকতার অভাব দেখে দলে তাঁর জায়গা নিয়ে প্রশ্ন তুলছিলেন প্রাক্তন ক্রিকেটার থেকে শুরু করে ধারাভাষ্যকার সকলেই।

সিডনি: তাঁর অবসর নিয়ে দীর্ঘ জল্পনা চলছিল। ধারাবাহিকতার অভাব দেখে দলে তাঁর জায়গা নিয়ে প্রশ্ন তুলছিলেন প্রাক্তন ক্রিকেটার থেকে শুরু করে ধারাভাষ্যকার সকলেই।
অবশেষে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেললেন উসমান খাওয়াজা (Usman Khawaja)। অস্ট্রেলিয়ার ক্রিকেটার জানিয়ে দিলেন, অ্যাশেজ সিরিজে সিডনি টেস্টই তাঁর কেরিয়ারের শেষ ম্যাচ। ৮৮তম টেস্ট খেলে অবসর নেবেন। আর শেষ ম্যাচ খেলবেন সিডনিতে, যে মাঠে তাঁর প্রথম শ্রেণির ক্রিকেট শুরু হয়েছিল।
৩৯ বছর বয়সী খাওয়াজা শুক্রবার সকালেই তাঁর সতীর্থদের জানান যে, ২০১১ সালে রিকি পন্টিং চোট পাওয়ায় যে মাঠে তাঁর টেস্ট অভিষেক হয়েছিল, সেই সিডনিতেই খেলে অবসর নেবেন তিনি। ১৫ বছরের আন্তর্জাতিক কেরিয়ারে টেস্টে ৬ হাজারেরও বেশি রান করেছেন খাওয়াজা।
খাওয়াজা বলেছেন, 'আমার মনে আছে কম বয়সে যখন মাইকেল স্ল্যাটারকে লাল ফেরারিতে করে আসতে দেখতাম, নিজের ভাগ্যকেও বিশ্বাস হতো না, যে আমি একজন টেস্ট ক্রিকেটারকে দেখেছি। সেই থেকেই অভাবী সংসারের, দু'কামরার অ্যাপার্টমেন্টে থাকা এক খুদে ছেলে ভাবত, সেও টেস্ট ক্রিকেট খেলবে। এবং তারপর একদিন আমার স্বপ্নরপূরণ হয়। কোনওদিন ভাবিনি ঈশ্বর আমার ইচ্ছে এভাবে পূরণ করবেন। আমি এখন জানাতে চাই যে, সিডনি টেস্টের পর আমি অবসর নিচ্ছি।'
পাকিস্তানে জন্মগ্রহণ করলেও খাওয়াজা বড় হয়েছেন অস্ট্রেলিয়ায়। টেস্টে অস্ট্রেলিয়ার হয়ে খেলা প্রথম পাকিস্তানে জন্মগ্রহণ করা তথা প্রথম মুসলিম ক্রিকেটার খাওয়াজা। অস্ট্রেলিয়ার হয়ে অনূর্ধ্ব ১৯ পর্যায়ে ক্রিকেট খেলেছেন। বাঁহাতি ব্যাটারের টেকনিক সর্বত্র প্রশংসিত হয়। কাট ও পুল শটের জন্য বিশেষভাবে সমাদৃত হতেন।
খাওয়াজা বলেছেন, 'পাকিস্তানে জন্ম নেওয়া গর্বিত মুসলিম আমি, যাকে বলা হয়েছিল সে কোনওদিন অস্ট্রেলিয়ার হয়ে খেলতে পারবে না।' বাবা-মায়ের উদ্দেশে খাওয়াজা বলেন, 'আমি আশা করছি পাকিস্তানে সব কিছু ছেড়ে অস্ট্রেলিয়ায় আসার যে ত্যাগ তোমরা করেছিলে, সেই ঋণ আমি শোধ করতে পেরেছি। ৮৮টা টেস্ট ম্যাচ খেলেছি বাবা, সেটা কি যথেষ্ট?'
২০২০-২১ সালে তাঁর নেতৃত্বে শেফিল্ড শিল্ডে চ্যাম্পিয়ন হয় কুইন্সল্যান্ড। সব মিলিয়ে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে ১৫ হাজারের ওপর রান। ২০২১-২২ মরশুমে সিডনি টেস্টেই ঘুরে দাঁড়ায় তাঁর আন্তর্জাতিক কেরিয়ার। জোড়া সেঞ্চুরি করেন। এরপর পাকিস্তান ও ইংল্যান্ডেও রান করেন। ২০২৩ সালের অ্যাশেজ সিরিজে তিনি ছিলেন সর্বোচ্চ স্কোরার। সেবার অস্ট্রেলিয়া অ্যাশেজ ধরে রাখে।
২০২৩ সালে আইসিসি-র বর্ষসেরা ক্রিকেটার হয়েছিলেন খাওয়াজা। শ্যেন ওয়ার্নের নামাঙ্কৃত বর্ষসেরা ক্রিকেটারের পুরস্কারও পেয়েছিলেন। ২০২৩ সালে বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ জিতেছিল অস্ট্রেলিয়া। খাওয়াজা ছিলেন অন্যতম কারিগর।




















