The Ashes 2025-26: আগুনের জবাব আগুন দিয়ে, স্টার্কের ১০ উইকেট, হেডের শতরানে ২৮.২ ওভারেই ২০৫ রান তাড়া করল অস্ট্রেলিয়া
Travis Head: মাত্র ৮৩ বলে প্রায় ১৫০-র স্ট্রাইক রেটে ১২৩ রানের ইনিংস খেলেন ট্র্যাভিস হেড। তিনি নিজের ইনিংসে ১৬টি চার এবং চারটি ছক্কা হাঁকান।

পারথ: দুই দিন, মাত্র দুই দিনেই শেষ হয়ে গেল অস্ট্রেলিয়া বনাম ইংল্যান্ডের প্রথম অ্যাশেজ় (The Ashes 2025-26) টেস্ট ম্য়াচ। দাপুটে মেজাজে অনেকটা আগুনের জবাব আগুন দিয়েই দিয়ে দুরন্ত জয় পেল অস্ট্রেলিয়া। পারথে অজ়িদের জয়ের প্রধান দুই কারিগর মিচেল স্টার্ক (Mitchell Starc) ও ট্র্যাভিস হেড (Travis Head)। জয়ের জন্য চ্যালেঞ্জিং পিচে চতুর্থ ইনিংসে অস্ট্রেলিয়ার ২০৫ রানের প্রয়োজন ছিল। অনেকেই মনে করেছিল লড়াইটা টানটান হবে। তবে সব হিসেবনিকেশ উল্টে পাল্টে দেন হেড। তাঁর শতরানে ভর করে মাত্র ২৮.২ ওভারে দুই উইকেট হারিয়ে কাঙ্খিত ২০৫ রানের লক্ষ্যে পৌঁছে যায় অস্ট্রেলিয়া দল।
ব্যাট হাতে এদিনের শুরুটা করেছিল অস্ট্রেলিয়া। তবে খুব বিরাট কিছু না হলে অজ়ি দলের দশম উইকেটের পার্টনারশিপ যে খুব দীর্ঘায়িত হবে না, তা বোঝাই যাচ্ছিল। ন্যাথান লায়ন এবং ব্র্যান্ডন ডগেট ছয় ওভারের খানিকটা বেশি ব্যাট করলেও, গতকাল রাতের রানের সঙ্গে মাত্র নয় রানই যোগ করতে পারেন তাঁরা। ১৩২ রানে অল আউট হয়ে যায় অস্ট্রেলিয়া। প্রথম ইনিংসে ৪০ রানের লিড পায় ইংল্যান্ড। এই পিচে এই রানের লিড একেবারেই মন্দ নয় বলে বিশেষজ্ঞরা দাবি করছিলেন।
দ্বিতীয় ইনিংসে বড় রান করার লক্ষ্যে নামা ইংল্যান্ড শুরুতেই ধাক্কা খায়। স্টার্কের অনবদ্য কট অ্যান্ড বোল্ডে প্রথম ইনিংসের মতো দ্বিতীয় ইনিংসেও খাতা খোলার আগেই সাজঘরে ফেরেন জ্যাক ক্রলি। তবে অর্ধশতরানের পার্টনারশিপে বেন ডাকেট এবং অলি পোপ ইনিংস সামলানোর চেষ্টা করেন। লাঞ্চের আগে আর কোনও উইকেট পড়েনি। ৫৯ রানে এক উইকেট হারিয়ে লাঞ্চে যায় ইংল্যান্ড। কিন্তু লাঞ্চের পরে একেবারে উইকেটের ফুলঝুরি লেগে যায়। ডাকেট ২৮ ও পোপ ৩৩ রানে সাজঘরে ফেরেন। তারপর ইংল্যান্ড মিডল অর্ডার সম্পূর্ন ব্যর্থ। রুট (৮), স্টোকস (২) কেউ রান পাননি।
অষ্টম উইকেটে ব্রাইডন কার্স ও গাস অ্যাটকিনসন ৪৭ রান যোগ করে ইংল্যান্ড ইনিংসকে এগিয়ে নিয়ে যান। অ্যাটকিনসনই সর্বাধিক ৩৭ রানের ইনিংস খেলে সবার শেষে আউট হন। কার্সের সংগ্রহ ২০। ইংল্যান্ড ১৬৪ রানে অল আউট হয়ে যায়। স্টার্ক তিন, ব্র্যান্ডন ডগেট তিন এবং স্কট বোল্যান্ড চারটি উইকেট নেন। অজ়িদের সামনে লক্ষ্য দাঁড়ায় ২০৫ রান। এদিনও উসমান খাওয়াজা ইনিংস শেষের আগে মাঠের বাইরে থাকায় তিনি ওপেন করতে পারেননি। তাঁর বদলে ওয়েদারল্ডের সঙ্গে ওপেনে পাঠানো হয় ট্র্যাভিস হেডকে। দুইজনে মিলে অর্ধশতরানের পার্টনারশিপ গড়েন।
ব্রাইডন কার্সের বলে ওয়েদারল্ড ২৩ রানে আউট হলেও হেড বিধ্বংসী ফর্মে ছিলেন। তাঁকে সঙ্গ দেন মার্নাস লাবুশেন। ইংল্যান্ড যেমন এই সময় চিরাচরিত ধারার বাইরে গিয়ে ফিল্ড সেটআপ করে, তেমনই তথাকথিত টেক্সট বুকের বাইরে গিয়ে শটও মারা শুরু করেন হেড। মাত্র ৬৯ বলে শতরান পূরণ করেন হেড। তিনি যখন ১২৩ রানে আউট হন, তখন অস্ট্রেলিয়ার জয় ছিল সময়ের অপেক্ষা। দেখতে দেখতেই সাতের অধিক রান রেটে কাঙ্খিত লক্ষ্যে পৌঁছে যায় অস্ট্রেলিয়া। লাবুশেন ৫১ রানে অপরাজিত থাকেন। ম্যাচে মোট ১০ উইকেট নেওয়ায় ম্যাচ সেরা নির্বাচিত হন স্টার্ক।




















