Mohammedan Sporting: ইস্টবেঙ্গল, মোহনবাগান পারেনি, বেঙ্গালুরুকে তাঁদেরই ঘরের মাঠে হারাল মহামেডান স্পোর্টিং
ISL 2024-25: ১১ ম্যাচ পরে 'শাপমোচন', বেঙ্গালুরুকে হারিয়ে লিগের শেষ স্থান থেকেও উঠে এল মহামেডান স্পোর্টিং।

বেঙ্গালুরু: ইস্টবেঙ্গল ও মোহনবাগান, কলকাতার দুই বড় দল পারেনি। তবে ইস্ট-মোহন যা পারেনি, ঠিক সেটাই করে দেখাল কলকাতার তৃতীয় ক্লাব মহামেডান স্পোর্টিং (Mohammedan Sporting)। বেঙ্গালুরুকে তাঁদেরই ঘরের মাঠে হারাল মহামেডান।
এ মরশুমের সবথেকে বড় অঘটনগুলির মধ্যে এই ফলাফলকে রাখলে কিন্তু খুব একটা ভুল হবে না। লিগ তালিকার দ্বিতীয় স্থানে থাকা বেঙ্গালুরুকে এই ম্যাচে অনেকটাই এগিয়ে রেখেছিলেন বিশেষজ্ঞরা। তবে ফুটবল মাঠে কোনওদিনই অতীত ফর্মের গুরুত্ব থাকে না। এই ম্যাচেও তেমনই হল। সুনীল ছেত্রীদের তাঁদেরই ঘরের মাঠে ১-০ হারাল মহামেডান। এটি সাদা কালো ব্রিগেডের নাগাড়ে তৃতীয় ক্লিনশিট। তবে গত দুই ম্যাচে জয় আসেনি। ড্র করেই সন্তুষ্ট থাকতে হয়েছিল চেরনিশভের দলকে।
৮৮ মিনিটের মাথায় বিশ্বমানের এক ফ্রিকিক থেকে সরাসরি জালে বল জড়িয়ে দিয়ে দলকে নতুন বছরে দুর্দান্ত এক জয় উপহার দেন তাদের উজবেক মিডফিল্ডার মির্জালল কাসিমভ। তবে এই ম্যাচ সম্পূর্ণ তিন পয়েন্ট ঘরে তুললেন তাঁরা। তাও আবার ১১ ম্যাচ পর। এই জয়ের পর লিগের শেষ স্থান থেকেও উঠে এল মহামেডান স্পোর্টিং।
ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহে জামশেদপুর এফসি-র বিরুদ্ধে শেষ গোল করেছিল তারা। প্রায় সাড়ে পাঁচ সপ্তাহ পর এ দিন লিগের ছ’নম্বর গোলটি করে চলতি লিগের অন্যতম সেরা অঘটনটি ঘটিয়ে ফেলল কলকাতার ঐতিহ্যবাহী ক্লাব। ২৬ সেপ্টেম্বর চেন্নাইন এফসি-কে ১-০-য় হারানোর পর এটিই তাদের দ্বিতীয় জয়। ঘরের মাঠে এখনও একটিও জয় পায়নি তারা।
এ দিন তিনটি পরিবর্তন করে দল নামায় মহমেডান এসসি। কাসিমভ, ফ্রাঙ্কা ও আদিঙ্গা দলে ফেরেন। অন্যদিকে, এডগার মেনদেজের জায়গায় জর্জ পেরেইরা দিয়াজকে এনে ৪-৩-৩-এ প্রথম এগারো সাজায় বেঙ্গালুরু এফসি। মহমেডানও ফ্রাঙ্কা, ফানাই ও বিকাশকে সামনে রেখে ৪-৩-৩-এ শুরু করে।
প্রত্যাশামতোই রায়ান উইলিয়ামস, পেরেইরা ও সুনীল ছেত্রীর দুর্ধর্ষ ত্রয়ী শুরু থেকেই মহমেডানকে প্রবল চাপে রাখে। প্রথম ১৫ মিনিটে ৭০ শতাংশ বলই তাদের দখলে ছিল। তবে মহমেডানের দুর্ভেদ্য রক্ষণ তাদের কোনও সুবর্ণ সুযোগ তৈরি করে নিতে দেয়নি। একটিমাত্র শট গোলে ছিল বেঙ্গালুরুর।
মহমেডান তাদের প্রথম সুযোগটি পায় ২৪ মিনিটের মাথায়, যখন ফানাইয়ের পাস পেয়ে বক্সে ঢুকে পড়েন ফ্রাঙ্কা। কিন্তু তিনি গোলে শট নেওয়ার আগেই তাঁর পা থেকে বল কেড়ে নেন গোলকিপার গুরপ্রীত সিং সান্ধু। প্রথম কুড়ি মিনিটের মধ্যে যেখানে তিন-তিনটি কর্নার আদায় করে নেয় বেঙ্গালুরু, সেখানে মহমেডান তাদের প্রথম কর্নারটি পায় ২৯ মিনিটের মাথায়। ৩০ মিনিটের মধ্যে দুই দলই একটি করে শট গোলে রাখে।
জলপানের বিরতির পরেও দুই দলই একাধিক সুযোগ পেয়েও তা কাজে লাগাতে পারেনি। প্রতিপক্ষকে দুর্দান্ত দক্ষতায় আটকে রাখে। এই নিয়ে নবম ম্যাচে প্রথমার্ধে কোনও গোল খেল না তারা। প্রথমার্ধে আড়াইশো পাস খেলে বেঙ্গালুরুর দল, যেখানে মহমেডান খেলে ১০৯টি পাস। মোট পাঁচটি করে শট নেয় দুই দলই। প্রথমার্ধে মহমেডানের ফরাসি সেন্টার ব্যাক ফ্লোরেন্ট অগিয়ে ছিলেন দুর্দান্ত ফর্মে। রক্ষণকে এ দিন প্রায় একাই রাখেন তিনি।
দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই মহমেডানকে প্রায় গোলের সুযোগ তৈরি করে দিয়েছিলেন বেঙ্গালুরুর গোলকিপার গুরপ্রীত। বল ক্লিয়ার করতে গিয়ে বক্সের সামনে অ্যালেক্সি গোমেজের পায়ে বল তুলে দেন তিনি। সেই বল পেয়ে বক্সের মাথা থেকে যে শট নেন আর্জেন্টাইন মিডফিল্ডার, তা বিস্ময়কর ভাবে লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়। এর চেয়ে ভাল সুযোগ এই ম্যাচে আর কিই বা পেতে পারত তারা?
এই অর্ধে আগের চেয়ে ভাল ফুটবল খেলতে দেখা যায় মহমেডানকে। প্রথমার্ধে বল পজেশনে তারা অনেক পিছিয়ে থাকলেও এই অর্ধে বল দখলের লড়াই হয় সমানে সমানে। আক্রমণেও যেমন উঠেছে তারা, তেমনই বেঙ্গালুরুর আক্রমণের সময় প্রায় পুরো দলই নেমে এসে দূর্গ সামলায়। গত দুই ম্যাচের নীতি- গোল করতে না পারি, গোল খাব না- এই লক্ষ্য নিয়েই নেমেছিল তারা।
সুনীল ছেত্রীকেও এ দিন চমৎকার ভাবে আটকে রেখেছিলেন মহমেডান ডিফেন্ডাররা। ৬৫ মিনিট মাঠে থাকার পর বেরিয়ে যান তিনি। এই ৬৫ মিনিটে প্রতিপক্ষের বক্সে মাত্র দু’বার বল ধরার সুযোগ পান তিনি। ফাইনাল থার্ডে পাঁচটির বেশি পাস দিতে পারেননি তিনি। একটিই শট নিতে পেরেছেন তিনি, সেটিই ছিল লক্ষ্যে। একটিই ড্রিবল করেন এবং তাতে সফলও হন। কিন্তু কোনও গোল করতে পারেননি বেঙ্গালুরুর সর্বোচ্চ গোলদাতা।
তাঁর জায়গায় নামা শিভাল্ডো সিং ৭৪ মিনিটের মাথায় যে গোলের সুযোগ হাতছাড়া করেন, তাকে অবিশ্বাস্য বললেও কম বলা হবে। বাঁ দিক থেকে রায়ান উইলিয়ামসের মাপা ক্রস ছ’গজের বক্সের মাথা থেকে গোলের বাইরে পাঠান তিনি!
দ্বিতীয়ার্ধের ৬২ মিনিটের মাথায় জোরালো ধাক্কা খায় কলকাতার দল, যখন চোট পেয়ে মাঠ ছাড়েন গোমেজ। ফলে পুরো চাপটা এসে পড়ে ফ্রাঙ্কা ও কাসিমভের ওপর। গোমেজ না থাকায় কিছুটা নীচে নেমে খেলা শুরু করেন ফ্রাঙ্কা। ৭০ মিনিটের পর থেকে ক্রমশ চাপ বাড়াতে শুরু করে বেঙ্গালুরু। চলতি আইএসএলে ম্যাচের শেষ কোয়ার্টারেই সবচেয়ে বেশি, ন’গোল করেছে তারা। কিন্তু এ দিন এই সময়েও তাদের আটকে রাখে কলকাতার দল।
যে সময়ে বেঙ্গালুরুর কাছ থেকে গোল আশা করছিল সবাই, সেই সময়ে, ৮৮ মিনিটের মাথায় বক্সের সামনে থেকে নেওয়া দুর্দান্ত এক ফ্রি কিকে জালে বল জড়িয়ে দেন কাসিমভ। ডান পায়ে নেওয়া তাঁর শট প্রথম পোস্টের ওপরের কোণ দিয়ে গোলে ঢুকে যায়, যা অভিজ্ঞ গোলকিপার গুরপ্রীতও আটকাতে পারেননি (১-০)।
আট মিনিটের সংযুক্ত সময়ে নিজেদের দূর্গ আরও সুরক্ষিত করতে ফ্রাঙ্কাকে তুলে ডিফেন্ডার গৌরব বোরাকে নামায় মহমেডান। এই সময়ে তারা নিজেদের বক্সে প্রায় পাঁচিল তুলে রাখে। দু’বার বক্সের ডানদিক থেকে ফ্রি কিক পায় এবং দু’বার কর্নারও পায় বেঙ্গালুরু, যা ছিল তাদের নবম ও দশম কর্নার। কিন্তু তাদের কোনও সুযোগই কাজে লাগাতে দেননি সাদা-কালো ব্রিগেড।
(তথ্য: আইএসএল মিডিয়া)
আরও পড়ুন: আর্জেন্তাইন সাংবাদিকের সঙ্গে সম্পর্কে জড়িয়েছেন মেসি! মুখ খুললেন মার্তিনেজ়






















