Powerlifting: মাত্র এক মাসের অনুশীলনেই কেল্লাফতে, ভারোত্তোলন চ্যাম্পিয়নশিপে ছয়টি সোনা জিতলেন মা ও ছেলে
Powerlifting Championship: বছর ৪০-র মা ও বছর ১৬-র ছেলে, উভয়েই চ্যাম্পিয়নশিপে তিনটি করে মোট ছয়টি সোনা জেতেন।

সোনিপথ: বয়স কেবল সংখ্যামাত্র তা আবারও প্রমাণ করে দিলেন সোনিপথের মা, ছেলে জুটি। ৪০ বছরের জ্যোতি, পেশায় স্কুলশিক্ষক এবং তাঁর ১৬ বছরের ছেলে, দুইজনেই পাওয়ারলিফটিং (Powerlifting) চ্যাম্পিয়নশিপে সোনা জিতলেন। এই প্রথম এই জেলা থেকে কোনও মা, ছেলের জুটি একসঙ্গে জোড়া সোনা জিতলেন।
গুজরাতের মেহসানাতে এই ভারোত্তোলন চ্যাম্পিয়নশিপ আয়োজিত হয়েছিল। সেখানে নিজেদের শক্তি ও দৃঢ় মানসিকতার পরিচয় দেন এই মা, ছেলের জুটি। নিজেদের শহরে ফিরতেই তাঁদের নায়কের মতো বরণ করে নেওয়া হয়। এই সাফল্যের পথটা কিন্তু একেবারেই সহজ ছিল না। সেক্টর ২৩-র, বিকাশ নগরের মডেল সংস্কৃতি স্কুলে শিক্ষিকা জ্যোতি। স্বামীর সঙ্গে বহু আগেই বিবাহ বিচ্ছেদ হয়েছে। তারপর তিনি নিজেই ছেলেকে লালন পালন করার দায়িত্ব নিজের কাঁধে তুলে নেন। দুইজনের জন্য এক ভাল জীবন গড়তে বদ্ধপরিকর ছিলেন জ্যোতি।
শিক্ষকতা করার পাশাপাশি তিনি সময় বের করে নিয়মিত ছেলের সঙ্গে ওয়ার্কআউট করতেও ভোলেন না। সকালে স্কুলে পড়িয়ে সন্ধেতে জিমে যেতেন জ্যোতি। কঠোর পরিশ্রম যে কখনও বিফলে যায় না এবং দৃঢ় মানসিকতা ও প্যাশন থাকলে যে সবকিছুই সম্ভব, এই মা, ছেলের জুটি সেটাই প্রমাণ করে দেন।
তবে জিমে বহুদিন ধরেই জ্যোতি ওয়ার্কআউট করলেও, চ্যাম্পিয়নশিপের মাত্র একমাস আগে থেকেই কিন্তু ভারোত্তোলন করা শুরু করেন জ্যোতি। জ্যোতি জানান তিনি এবং তাঁর ছেলে ২০ কেজির রড থেকে ভারোত্তোলনের যাত্রা শুরু করে ২০০ কেজি মতো ওজন উত্তোলন করার দক্ষতায় নিজেদের নিয়ে যান। চ্যাম্পিয়শিপের আগে তাঁরা প্রায় পাঁচ, ছয় ঘণ্টা নিত্য অনুশীলন করতেন, যা তারা কতটা পরিশ্রমী, তা বুঝিয়ে দেয়।
তবে সময় অল্প হলেও, তাঁর প্রস্তুতি কোনও খামতি ছিল না। প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করে তিনি এক, দুই নয়, তিনটি ভিন্ন বিভাগে সোনা জিতে নেন। ৪০ বছরের বিভাগ, ৬৩ কেজির বিভাগ এবং মিক্সড বিভাগে জ্যোতির ঝুলিতে সোনা আসে। তিনি ডেডলিফটে ৭০ কেজি, স্কোয়াটে ৭৫ কেজি এবং বেঞ্চ প্রেসে ৩০ কেজি ভারোত্তোলন করে তিন বিভাগে সোনা জেতেন।
একদিকে মা যেমন ৪০-এ ইতিহাস লিখছিলেন, সেখানে টিনএজার ছেলেও পিছিয়ে ছিলেন না। ক্লাস ১১-র ছাত্র মৌলিকও তিন বিভাগে সোনা জেতে। সে ৬৩ কেজি ক্লাসের সাব জুনিয়র বিভাগে অংশগ্রহণ করে তিনটি সোনা জেতে। আরও চমকপ্রদ বিষয় হল মৌলিক কিন্তু এর আগে কোনওদিন ভারোত্তোলন প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করেননি। এই প্রতিযোগিতাটাই তার কেরিয়ারের প্রথম প্রতিযোগিতা ছিল এবং এখানে মিলল চোখধাঁধানো সাফল্য।






















