8th Pay Commission : শীঘ্রই সুখবর ! ৬৯,৯০০ টাকা হবে 'বেসিক পে'? অষ্টম বেতন কমিশনে নতুন কী আপডেট ?
Salary News : সম্প্রতি বিভিন্ন কর্মচারী সংগঠন, পেনশনভোগী অ্যাসোসিয়েশন এবং বিশেষজ্ঞদের পক্ষ থেকে বেতন বৃদ্ধির জন্য সরকারের কাছে একাধিক প্রস্তাব জমা দেওয়া হয়েছে।

Salary News : শীঘ্রই বড় খবর শোনাতে পারে অষ্টম বেতন কমিশন (8th Pay Commission)। কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মী (Central Govt Employees) সংগঠনের প্রস্তাব মেনে নিলে অনেকটাই বেড়ে যাবে ন্যূনতম বেতন বা বেসিক পে (Basic Pay)। সেই ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর (Fitment Factor) বাস্তবায়িত হলে ৬৯,০০০ হতে পারে আপনার বেসিক পে। জেনে নিন, কীভাবে সেটা সম্ভব ?
কমিশনে প্রস্তাব পাঠানোর সময় বৃদ্ধি
সম্প্রতি বহু প্রতীক্ষিত অষ্টম কেন্দ্রীয় পে কমিশন (8th Pay Commission) নিয়ে জোরদার চর্চা শুরু হয়েছে। সম্প্রতি বিভিন্ন কর্মচারী সংগঠন, পেনশনভোগী অ্যাসোসিয়েশন ও বিশেষজ্ঞদের পক্ষ থেকে বেতন বৃদ্ধির জন্য সরকারের কাছে একাধিক প্রস্তাব জমা দেওয়া হয়েছে। স্মারকলিপি ও মতামত জমা দেওয়ার শেষ সময়সীমা বাড়িয়ে ১৫ জুন, ২০২৬ করা হয়েছে। এই পে কমিশনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি হলো ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর (Fitment Factor), যার ওপর ভিত্তি করে নির্ধারিত হবে আপনার নতুন মূল বেতন (Basic Salary)।
ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর আসলে কী ?
ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর হল একটি গুণক (Multiplier) যা আপনার বর্তমান মূল বেতনকে অষ্টম পে কমিশনের অধীনে নতুন সংশোধিত মূল বেতনে রূপান্তর করবে। সরকার যে ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর অনুমোদন করবে, তার ওপর নির্ভর করেই সমস্ত স্তরের কর্মচারীদের বেতন কতটা বাড়বে তা ঠিক হবে।
সপ্তম বেতন কমিশনে কত ছিল ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর
এর আগে সপ্তম পে কমিশনে এই ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর ২.৫৭ নির্ধারণ করা হয়েছিল. যার ফলে ন্যূনতম মূল বেতন ৭,০০০ টাকা থেকে বেড়ে ১৮,০০০ টাকা হয়েছিল। অষ্টম পে কমিশনের জন্য এখনো সরকারের তরফ থেকে কোনও অফিশিয়াল ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর ঘোষণা করা হয়নি, তবে বিভিন্ন স্তরের দাবি এবং বিশেষজ্ঞদের অনুমান অনুযায়ী ন্যূনতম বেতন ৯২% থেকে ২৮৩% পর্যন্ত বৃদ্ধি পেতে পারে।
কে কত ফিটমেন্ট ফ্যাক্টরের দাবি জানিয়েছে ?
ইতিমধ্যেই অষ্টম বেতন কমিশন নিয়ে বিভিন্ন সংগঠন ও কর্মচারী ইউনিয়নের পক্ষ থেকে ন্যূনতম ১.৯২ থেকে শুরু করে সর্বোচ্চ ৩.৮৩ পর্যন্ত ফিটমেন্ট ফ্যাক্টরের দাবি তোলা হয়েছে। নিচে একটি তালিকার মাধ্যমে দেখে নেওয়া যাক কার কী দাবি:
| সংগঠন / গোষ্ঠী | প্রস্তাবিত ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর | আনুমানিক ন্যূনতম মূল বেতন* | বর্তমানের (১৮,০০০ টাকা) তুলনায় বৃদ্ধি |
| বিশেষজ্ঞদের রক্ষণশীল অনুমান (যেমন: প্রাক্তন অর্থ সচিব সুভাষ চন্দ্র গর্গ) | ১.৯২ | ৩৪,৫৬০ টাকা | ৯২% |
| জম্মু ও কাশ্মীর কর্মচারী ফোরাম | ৩.০৫ | ৫৪,৯০০ টাকা | ২০৫% |
| অল ইন্ডিয়া ট্রেড ইউনিয়ন কংগ্রেস (AITUC) | ৩.০০ | ৫৪,০০০ টাকা | ২০০% |
| ফেডারেশন অফ ন্যাশনাল পোস্টাল অর্গানাইজেশনস (FNPO) | ৩.২৫ | ৫৮,৫০০ টাকা | ২২৫% |
| জম্মু ও কাশ্মীরের অন্যান্য কর্মচারী সংগঠন | ২.৮৬ থেকে ৩.৬৮ | ৫১,৪৮০ - ৬৬,২৪০ টাকা | ১৮৬% থেকে ২৬৮% |
| ন্যাশনাল কাউন্সিল-JCM (রিপোর্টেড দাবি) | ৩.৮৩ | ৬৮,৯৪০ টাকা | ২৮৩% |
*বর্তমান ন্যূনতম মূল বেতন ১৮,০০০ টাকার ওপর ভিত্তি করে হিসাব করা হয়েছে।
ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর অনুযায়ী কীভাবে বদলে যেতে পারে ন্যূনতম বেসিক পে ?
সরকার শেষ পর্যন্ত কোন ফিটমেন্ট ফ্যাক্টরি বেছে নেবে, তার ওপর ভিত্তি করে ন্যূনতম মূল বেতন কেমন দাঁড়াতে পারে, তার একটি সম্ভাব্য রূপরেখা নিচে দেওয়া হলো:
১.৯২ হলে: ৩৪,৫৬০ টাকা
২.৫৭ হলে (৭ম পে কমিশনের মতো): ৪৬,২৬০ টাকা
২.৮৬ হলে: ৫১,৪৮০ টাকা
৩.০০ হলে: ৫৪,০০০ টাকা
৩.২৫ হলে: ৫৮,৫০০ টাকা
৩.৬৮ হলে: ৬৬,২৪০ টাকা
৩.৮৩ হলে: ৬৮,৯৪০ টাকা
পে ম্যাট্রিক্স ও অন্যান্য ভাতায় কী পরিবর্তন আসবে ?
অষ্টম বেতন কমিশন লাগু হলে বর্তমানের পে ম্যাট্রিক্স বা বেতনের কাঠামো সম্পূর্ণ বদলে যাবে।
মূল বেতন বৃদ্ধি: প্রতিটি পে লেভেলের কর্মচারীদের মূল বেতন ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর অনুযায়ী সমানুপাতিক হারে বৃদ্ধি পাবে।
ভাতা সংশোধন: বাড়ি ভাড়া ভাতা (HRA) এবং যাতায়াত ভাতা (Transport Allowance)-র মতো অন্যান্য সুযোগ-সুবিধাও নতুন করে পর্যালোচনা ও বৃদ্ধি করা হবে।
ডিএ (DA) মার্জার: সাধারণত নতুন পে কমিশন চালুর সময় বর্তমান মহার্ঘ ভাতা (Dearness Allowance) মূল বেতনের সাথে জুড়ে দেওয়া হয় এবং তারপর থেকে ডিএ আবার নতুন করে (০% থেকে) গণনা শুরু হয়।
এক নজরে উদাহরণ: যদি সরকার ৭ম পে কমিশনের মতোই ২.৫৭ ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর বজায় রাখে, তবে সর্বনিম্ন বেতনভোগী কর্মচারীর মূল বেতন ১৮,০০০ টাকা থেকে বেড়ে হবে প্রায় ৪৬,২৬০ টাকা। আর যদি কর্মচারী সংগঠনগুলির সর্বোচ্চ দাবি মেনে ৩.৮৩ ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর অনুমোদন করা হয়, তবে ন্যূনতম মূল বেতন একলাফে প্রায় ৬৮,৯৪০ টাকায় পৌঁছে যেতে পারে।
তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত সম্পূর্ণভাবে নির্ভর করছে কেন্দ্রীয় সরকারের আর্থিক খতিয়ান এবং ক্যাবিনেটের অনুমোদনের ওপর। ১৫ জুনের পর এই বিষয়ে আরও নতুন আপডেট আসার সম্ভাবনা রয়েছে।





















